বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

খোলা চিঠিতে টুইটার-ফেসবুকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ভিন্ন মতাবলম্বী দমন বন্ধের আহ্বান

বড় বড় অনেকগুলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মঞ্চে ঠাসা একটি মোবাইল ফোন। ছবির উন্মুক্ত ডেটাবেজ পেক্সেল থেকে নেওয়া ট্রেসি লে ব্ল্যাঙ্কের ছবি।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের সতেরোটি মানবাধিকার সংগঠন ফেসবুক ও টুইটারে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে তাদের অ্যাকাউন্টগুলি নামিয়ে ফেলার মাধ্যমে ভিন্ন মতাবলম্বীদের কণ্ঠস্বর থামিয়ে দেওয়ার জন্যে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মঞ্চগুলির নিন্দা করেছে।

অনেকের সাথে গ্লোবাল ভয়েসেস স্বাক্ষরিত এই চিঠিটিতে তিউনিসিয়ায় শুরু হওয়া পুরো অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত আরব বসন্তের দশম বার্ষিকীর উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশক ধরে নেতাকর্মী ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরা তাদের দেশের দুর্নীতি ও পুলিশের বর্বরতা প্রকাশ করার পাশাপাশি দীর্ঘ একনায়কতন্ত্র উৎখাত ও অন্যান্যদের অবসানের জন্যে গণ-বিক্ষোভের আয়োজন করতে সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যমগুলির উপর প্রচুর পরিমাণে নির্ভর করেছে। অঞ্চলজুড়ে বিদ্রোহ চলাকালীন সময়টিতে সংগঠিত ও যোগাযোগ করার জন্যে সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যম এতো বেশি ব্যবহার করা হয়েছিল যে সময়টিকে “ফেসবুক বিপ্লব” নামে ডাকা হতো।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই অঞ্চল জুড়ে অনেক দেশে স্বাধীনতা এবং অধিকার কমে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মঞ্চগুলি এখনো ভিন্নমত প্রকাশের একটি বিরল জানালা হিসেবে বিদ্যমান। তবে স্বাক্ষরকারীদের দলটি উল্লেখ করেছে টুইটার এবং ফেসবুক সক্রিয় নেতাকর্মী এবং ভিন্নমতাবলম্বী ব্যবহারকারীদেরকেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

“আরব বসন্তের দশম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এমন একটা সময়ে আমরা নিন্মস্বাক্ষরকারী সক্রিয় কর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি আমাদের হতাশা ও আতঙ্কের প্রতিবাদ জানাতে একত্রিত হয়েছি, যখন মঞ্চের নীতিমালা এবং বিষয়বস্তুর পরিমার্জন পদ্ধতিগুলি বেশিরভাগ সময়েই মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে প্রান্তিক ও নিপীড়িত সম্প্রদায়ের সমালোচনা কণ্ঠস্বর থামিয়ে দেওয়া এবং মুছে ফেলার দিকে ধাবিত হয়, ”স্বাক্ষরকারীরা লিখেছেন।

বিবৃতিটিতে আরো বলা হয়েছে:

রাজনৈতিক ও ভিন্ন মতাবলম্বী বক্তব্যের স্বেচ্ছাচারী ও অস্বচ্ছ অ্যাকাউন্ট স্থগিতকরণ এবং অপসারণ এতটাই নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে যে এগুলিকে একেবারে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাময়িক প্রমাদজনিত ফলাফল হিসেবে বাতিল করে দেওয়া যায় না।

উন্মুক্ত চিঠিটির সমর্থনকারীদের মধ্যে গ্লোবাল ভয়েসেসের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পক্ষগুলির মধ্যে এখনি প্রবেশাধিকার, মানবাধিকার তথ্যের জন্যে আরবি নেটওয়ার্ক (এএনএইচআরআই), অনুচ্ছেদ ১৯, ৭আমলেহ, দার্ব মৌমাছির ওয়েবসাইট, মধ্যপ্রাচ্য নীতি জন্যে তাহরির ইনস্টিটিউট (টিআইএমপি), মানবাধিকারের জন্যে উপসাগরীয় কেন্দ্র এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ও সাংবাদিকরা রয়েছে।

তিউনিসিয়া, সিরিয়া, ফিলিস্তিন এবং মিশরের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের ফেসবুক এবং টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার একটি ধারাবাহিক তালিকাভুক্ত করে এই চিঠিতে বলা হয়েছে যে “এই জাতীয় উদাহরণ অনেক অনেক বেশি এবং এগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতাকর্মী এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে চালু ধারণাটিকেই জোরদার করে যে এই মঞ্চগুলি তাদের গ্রাহ্য করে না এবং উদ্বেগ উত্থাপন করার পরেও প্রায়শই তারা মানবাধিকার সুরক্ষাকারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। “

বিবৃতিটিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে দুটি জনপ্রিয় সামাজিক মিডিয়ার মঞ্চ – ফেসবুক এবং টুইটার প্রায়শই মানবাধিকার সংস্থাগুলির পাশ্চাত্য সক্রিয় কর্মী অথবা ব্যক্তিগত বেসরকা্রি প্রচারণার প্রকাশ্য আহ্বানের প্রতিক্রিয়া জানাতে ছুটে গেলেও মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের প্রচারকদের অধিকাংশ সময় উপেক্ষা করে থাকে এবং প্রান্তিক ব্যবহারকারীদের প্রায়শই অবহিতই করা হয় না যে তারা ঠিক কোন নিয়মটি লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের কোন মানব সঞ্চালকের কাছে আবেদন করারও কোন সুযোগ দেওয়া হয় না।”

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে:

ক্ষমতাধর বা যাদের কণ্ঠস্বর শোনানোর ক্ষমতা রয়েছে শুধু তাদেরই প্রতিকার ও প্রতিবিধানের অধিকার থাকা উচিত নয়। যা চলছে, শুধু তাই চলতে পারে না।

ফেসবুক এবং টুইটারকে “নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর বক্তব্য এবং ইতিহাস সেন্সর এবং মুছে ফেলায় জড়িত না হওয়ার” জোর দাবি জানিয়ে “মানবাধিকার সংগঠনগুলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বৃহৎ দুটি মঞ্চকে “মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ” হিসেবে বর্ণিত একটি অঞ্চলে উত্থাপিত উদ্বেগ মোকাবেলায় চারটি প্রধান পদক্ষেপ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

মানবাধিকার সুরক্ষাকারীদের গৃহীত পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে – ফেসবুক এবং টুইটার অভিযোগের পর্যালোচনা করতে গিয়ে যেন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের স্থানীয় ব্যবহারকারী, নেতা-কর্মী, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের বিষয়ে নির্বিচার বা অন্যায় বৈষম্যে লিপ্ত না হয় এবং প্রসঙ্গ ভিত্তিক বিষয়বস্তু পরিমার্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সময় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের মানবাধিকার কাঠামোর সাথে সংযুক্ত প্রয়োজনীয় স্থানীয় এবং আঞ্চলিক দক্ষতার উপর নির্ভর করে।

চিঠিটিতে মঞ্চগুলিকে “বিষয়বস্তু পরিমার্জনের সিদ্ধান্তগুলি যেন অন্যায়ভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না করে তা নিশ্চিত করার জন্যে যুদ্ধ ও সংঘাত বিক্ষুব্ধ অঞ্চলগুলি থেকে আসা ঘটনাবলী এবং “বিষয়বস্তুর ভ্রান্ত পরিমার্জনের সিদ্ধান্ত” হিসেবে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলির জন্যে প্রকাশ্য ক্ষমার চাওয়ার চেয়ে বৃহত্তর স্বচ্ছতার প্রদানের আহ্বান জানানো  হয়েছে।

লেখার সময় পর্যন্ত টুইটার এবং ফেসবুক চিঠিটির কোন জবাব দেয়নি।

1 টি মন্তব্য

  • আপনাদের লেখা গুলো খুবই ভালোলাগে ধন্যবাদ গ্লোবাল ভয়েস

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .