বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় প্রযুক্তি আর স্বচ্ছতা: দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া বাকি

২০০৯ সালের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স

২০০৯ সালের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স (দুর্নীতির উপলব্ধির তালিকা) লাল রঙে ব্যাপক দুর্নীতি আর কম দুর্নীতি সবুজ রঙে, উইকিপিডিয়া থেকে

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স (দুর্নীতির উপলব্ধির তালিকা) অনুসারে, মধ্য প্রাচ্য আর উত্তর আফ্রিকার অনেক দেশ বিভিন্ন মাত্রায় খুব খারাপ ফল করেছে। যেসব কর্মী আর সংগঠন সুধী সমাজ আর শাসকদের সাথে যুক্ত (যারা স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতাকে তুলে ধরার কাজে রত) প্রায়শই নির্যাতনের কবলে পরে আর তাদের বিরুদ্ধে শত্রুতার নীতি প্রণয়ন করা হয়। ওদিকে শাসন, প্রশাসন আর প্রতিদিনের জীবনে মধ্য মানের প্রযুক্তির সংশ্লিষ্টতার ফলে এরা খুব কম প্রযুক্তি আর হাতিয়ার আর প্লাটফর্ম ব্যবহার করছেন যেগুলো জবাবদিহিতা আর প্রাতিষ্ঠানিক একাত্মতা তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়।

মূল চ্যালেঞ্জ

বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আর কর্মী যারা স্বচ্ছতা তুলে ধরার জন্য কাজ করছেন তাদের জন্য প্রায়শই আইনী বাধা থাকে। যেমন, সিরিয়া আর মিশরের সংবিধান যদিও প্রকাশের স্বাধীনতা দেয় আর নাগরিক সংস্থার স্থাপনার সুযোগ দেয় যারা সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়ের জোর দেয়, ষাটের দশক থেকে একটি ইমার্জেন্সি আইন আছে যা এইসব অধিকার বন্ধ রেখেছে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে আর যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অপরিসীম ক্ষমতা দেয় সেই সব ব্যক্তি আর সংস্থাকে বিচার করার যাদের কর্তৃপক্ষ ঠিক না মনে করে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট এর ২০০৯ সালের রিপোর্টের তালিকার অর্ধেকের মতো ছিল ইরান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তিউনিশিয়া আর মিশর এবং বলা হয়েছে সেই সব দেশ ব্লগারদের জন্যে সব থেকে খারাপ যায়গা। সংশ্লিষ্ট দেশের অনলাইন কর্মীদের বিরুদ্ধে শত্রুতার এটি একটি নির্দেশক আর দুর্নীতি আর জবাবদিহিতার বিষয় তুলে ধরার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার সেখানে দরকারী।

আইনী বাধা ছাড়াও, অঞ্চলের অনেক দেশেই নিম্ন হারে ইন্টারনেট ব্যবহার হয় এবং যার কারণ দুর্বল অবকাঠামো আর ধীর কানেকশন স্পিড। ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড পরিসংখ্যান অনুসারে মধ্য প্রাচ্য আর উত্তর আফ্রিকাতে ইন্টারনেটে ঢোকার হার শতকরা ২৯.৮ ভাগ- বিশ্বের গড় শতকরা ২৫.৬ এর একটু উপরে। এইসব দেশে প্রবেশের হার ইরাকে ১.১% আর ইয়েমেনে ১.৮% থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৭৫.৯% আর বাহরাইনে শতকরা ৮৮ ভাগ। দুর্বল অবকাঠামো প্রযুক্তিগত হাতিয়ার গ্রহণকে সাহায্য করেনা; সিরিয়ার ব্যবহারকারী বেশীরভাগ লোক এখনো ডায়াল-আপ সংযোগ ব্যবহার করছেন, আর লেবাননের ইন্টারনেটকে সম্প্রতি বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান দেয়া হয় সব থেকে খারাপ আপলোড স্পিডের জন্য।

বর্তমানে স্থানীয় অনেক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল আর অন্যান্য সংস্থার কর্মী বা সাধারণ অ্যাকটিভিস্ট একই তীব্রতা আর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তদন্ত আর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভীতির মধ্য দিয়েই। কেউ কেউ লাইসেন্সবিহীনভাবে এমন সব দেশে কাজ করেন যারা এমন সব সংস্থা খুলতে দেয় না বা লাইসেন্স পাওয়া খুব কঠিন করে দেয়। সব থেকে বেশী যে ধরণের প্রযুক্তি গ্রহন করা হয় তা এখনো একেবারেই মৌলিক বিষয়- একটা ওয়েবসাইট তৈরি করা যা ঐ সংস্থার ব্যাপারে প্রারম্ভিক তথ্য দেয় আর সংবাদের স্বচ্ছতার ব্যাপারে কিছু প্রতিবেদন বিশ্বব্যাপী তুলে ধরে।

সফলতার কাহিনী

উপরে উল্লেখিত বাধা সত্ত্বেও, বেশ কিছু নিবেদিত কর্মী আর সংস্থা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছেন বেশ কিছু প্রযুক্তিগত প্লাটফর্ম ব্যবহার করে। ২০০৭ সালে মরোক্কোতে খবরে সরগরম ছিল অজ্ঞাত একজন কর্মীর ব্যাপারে যে তারগুইস্ট স্নাইপার নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি পরিচয়সহ পুলিশ অফিসারদের বেশ কিছু ভিডিও ধারন করেছিলেন ট্রাক চালক আর সম্ভাব্য চোরাচালানিদের কাছ থেকে অর্থ ঘুষ নেয়ার সময়ে আর তারপরে এইসব ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে দিতেন যেখানে প্রায় লক্ষ লক্ষ লোক এটা দেখত আর এটি বড় ধরনের হিট ছিল। তার ইউটিউব প্রোফাইলে ভয় দেখিয়ে মন্তব্য রাখা হয় থামার জন্য নাহলে, আর দুর্ভাগ্যবশত:, স্থানীয় পুলিশ অফিসাররা এই ভিডিওতে সাড়া দেন তার এলাকার জনগণকে গণহারে শাস্তি দিয়ে এই আশায় যে এটা তাকে থামাবে। ক্রমে এইসব ভিডিও নয়জন দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসারের গ্রেপ্তারের আর অন্যদের বদলির কারন হয়। তারগুইস্ট স্নাইপার এখন আর সচল না, কিন্তু তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে একজন ব্যক্তি প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে দুর্নীতির মুখোশ খুলতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আর একটা বিশিষ্ট প্রচেষ্টা হচ্ছে শারেক৯৬১ এর লেবাননের প্রজেক্ট। শারেক৯৬১ উশাহিদি নির্ভর একটা প্লাটফর্ম যা লেবাননি নাগরিকদের ক্ষমতা দেয় ’অনলাইন, ইমেইল বা এসএমএস’ এর মাধ্যমে চাক্ষুষ রিপোর্ট পাঠিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঘটনা আর অন্যান্য বিষয়ে স্বচ্ছতা তুলে ধরার। শারেক৯৬১ ২০০৯ সালের লেবাননের নির্বাচনের সময়ে কয়েক ডজন রিপোর্ট পায় আর বেনামীভাবে নাগরিকদের এইসব রিপোর্ট প্রকাশ করে সংবাদ রিপোর্ট, ব্লগ পোস্ট, ছবি, ভিডিও আর টুইটের সাথে যা একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ মানচিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এই ধরনের আরো সফলতার কাহিনী তৈরির জন্য সেইসব স্থানীয় সংস্থা আর কর্মীদের সাহায্য করা দরকার যারা স্বচ্ছতা তুলে ধরতে আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছেন। দেখা দরকার তারা যাতে তাদের নিজেদের দেশে প্রযুক্তিগত মাধ্যম আর সাহায্য পায় আর আইনী সহায়তা পায় তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী। এই অঞ্চলের অনেক সম্ভাবনা আছে, আর ভালো ফলাফল নির্ধারণ করা যায় যেখানে প্রয়োজন সেখানে যথাযথ সাহায্য প্রদান করে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .