বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

তুরস্কের পরিবেশবাদীরা ইস্তানবুল শহরের অবশিষ্ট সবুজ সংরক্ষণের জন্যে সংগ্রাম করছে

স্থানীয় বাসিন্দারা পার্ক পরিষ্কার করছে। বিশেষ বিচার কেন্দ্রের ভিডিওর পর্দাছবি। সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১।

ভালিদেবাগ উদ্যান (ভালিদেবাগ কোরুসু) ইস্তানবুলের শেষ অবশিষ্ট সবুজ স্থানগুলির মধ্যে একটি। ইস্তানবুলের আনাতোলীয় অংশে অবস্থিত, উদ্যানটিতে অনন্য প্রজাতির গাছ, পরিযায়ী পাখি এবং বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে। একটি গ্রেড ১ প্রাকৃতিক এবং ঐতিহাসিক সাইট হিসেবে এটির নামকরণ করা হয়েছে। তা স্বত্ত্বেও ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতাসীন ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন পার্টি (একেপি) উদ্যানটিতে উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা ক্ষুব্ধ। গেজেট ডুভার পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সবচেয়ে সাম্প্রতিক প্রচেষ্টায় একেপি সমর্থিত স্থানীয় ইস্কিদাস পৌরসভা গত ২১ সেপ্টেম্বর তারিখে নির্মাণের যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্যানটিতে প্রবেশ করে সেখানে বালু ও ময়লা-ধ্বংসাবশেষ স্তুপ করে। বিক্ষোভকারীরা এই সাম্প্রতিকতম প্রচেষ্টাটিকে “আইন ও প্রকৃতির গণহত্যা” বলে অভিহিত করছে

কিন্তু পৌরসভা দাবি করেছে যে তারা পরিবেশ ও নগরায়ণ মন্ত্রণালয় এবং ক্ষমতাসীন একেপি’র ইস্কিদাস পৌরসভার চালু করা “ল্যান্ডস্কেপিং এবং পুনর্বাসন প্রকল্প” পরিচালনা করছে শুধু।

স্থানীয় পরিবেশ গোষ্ঠী, স্বেচ্ছাসেবক এবং ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে মতবিরোধের উত্তপ্ত বিষয় এবারই প্রথম নয়। ২০১৪ সালে পৌরসভা এই সবুজ জায়গাটিতে নতুন মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব করলে বাসিন্দারা বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মামলা দায়ের করে। বিরোধীরা যুক্তি দেখিয়েছে যে এই এলাকায় ইতোমধ্যে ২৬টি মসজিদ রয়েছে। অবশেষে পৌরসভাকে নির্মাণ বন্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়, তবে স্বল্পসময়ের জন্যে। হুরিয়েত দৈনিক সংবাদের সেই সময়কার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, তৎকালীন ইস্তানবুল মেট্রোপলিটন পৌরসভার একটি আবেদনের পর এই রায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

২০১৮ সালে এলাকাটির জন্যে “জাতীয় বাগান” নামে একটি নতুন প্রকল্প , প্রস্তাব করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। তারপর ২০২০ সালে ইস্কিদাস পৌর পর্ষদ যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কথিত উদ্দেশ্যে পৌরসভাকে উদ্যান অঞ্চলটির ২ লক্ষ ৬১ হাজার বর্গমিটার বরাদ্দ দেয়।

২০২১ সালের জুন মাসে উদ্যানটি পরিদর্শনের পর পরিবেশ ও নগরায়ণ মন্ত্রী মুরাত কুরুম “ল্যান্ডস্কেপিং এবং পুনর্বাসন প্রকল্প” এর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। প্রকল্পটি অনুসারে, গাড়ি পার্কিং, হাঁটার রাস্তা, উন্মুক্ত মঞ্চ,  প্রবেশপথে খাবারের স্টলগুলির মতো অন্যান্য আকর্ষণগুলিতে যাওয়ার জন্যে পথ প্রস্তুত করতে ৮৮ হাজার বর্গমিটার এলাক্য ঘাস লাগানোর কথা। প্রকল্পটি উদ্যানের “অপূরণীয় ক্ষতি” ঘটাবে বলে প্রশাসনিক আদালত জুলাই মাসে একটি সিদ্ধান্ত জারি করার পর সংক্ষিপ্ত বিজয় উদযাপিত হয়। তিন মাস পরে যে কোনো এক প্রকারে পৌরসভা তাদের নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যায়।

ভালিদেবাগ স্বেচ্ছাসেবক এবং ভালিদেবাগ সুরক্ষা গোষ্ঠী উদ্যানটি পাহারা দিচ্ছে এবং তাদের সামাজিক গণমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হালনাগাদ ভাগাভাগি করে যাচ্ছে। এই দু’টি গোষ্ঠীই জনসাধারণকে ২১ সেপ্টেম্বর তারিখে আবর্জনার স্তুপ ফেলতে পৌরসভার পার্কটিতে প্রবেশ করার কথা জানায়।

ভালিদেবাগে ভোরের অভিযান! ইস্কাদার মেয়র হিলমি তুর্কমেন পুলিশ সাথে নিয়ে প্রকৃতি এবং আইনকে হত্যা করেছে! আমরা উদ্যানটিকে আবর্জনার স্তূপে পরিণত করা মানসিকতাকে মেনে নেব না। আমাদের চোখের সামনে (অন্তত) নয়!

শেষ পর্যন্ত পৌরসভা উদ্যানটি থেকে সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেয়। এদিকে, স্বেচ্ছাসেবীরা সাহায্যের আহ্বান অব্যাহত রেখেছে। বিয়ানেটের সাথে কথা বলার সময় ভালিদেবাগ স্বেচ্ছাসেবক দলের আরিফ বেলগিন বলেন, “আমরা প্রকৃতির ও সবুজের পাশে থাকা সবাইকে এখানে আসার আহ্বান জানাই। এটা একটি হত্যা। আমরা আশা করি সবাই ভালিদেবাগকে রক্ষা করবে।”

ক্ষমতাসীন ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন পার্টি কখনোই সবুজ জায়গা বা পরিবেশগত নীতিকে অগ্রাধিকার দেয়নি। ২০১৩ সালের দমনাভিযানটি ছিল ইস্তানবুলের আরেকটি সবুজ স্থান গেজি উদ্যান ধ্বংস প্রতিরোধের প্রচেষ্টা করা একদল পরিবেশবাদীর বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন সরকারের জন্যে লিটমাস পরীক্ষা, যা একেপি’র পরিবেশবিরোধী ভূমিকাকে চিহ্নিত করে।

২০১৩ সালেরটি ছিল গেজি পার্ক, ২০২১ সালে সেটা হলো ভালিদেবাগ উদ্যান। আর এর মধ্যে যে সমস্ত ছোট ছোট জায়গা ও আবাসস্থল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসবের উল্লেখ বলাই বাহুল্য। কিন্তু অবশিষ্ট সবুজ স্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। প্রশ্ন হলো, সরকার কি শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে শুরু করবে?

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .