বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

ভারতে করোনভাইরাস এবং নজরদারি প্রযুক্তি: জনস্বাস্থ্য বনাম গোপনীয়তা

Image by S. Hermann & F. Richter from Pixabay. Used under a Pixabay License.

পিএক্সাবের এস. হারমান এবং এফ. রিখটারের ছবি। পিক্সাবে লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত।

কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক প্রভাব সম্পর্কে গ্লোবাল ভয়েসেসের বিশেষ কভারেজটি দেখুন।

ভারতে কোভিড-১৯ নিয়ে যুদ্ধের নামে নতুন এবং অপরীক্ষিত প্রযুক্তির কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে নজরদারি বেড়েছে।

সরকার বর্তমানে “আধার-সমন্বিত ক্যামেরাগুলি” ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আউটলুকের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এটি বাস্তবায়িত হলে কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য কোভিড-১৯ এর নিশ্চিত ঘটনাগুলি সনাক্ত করতে সাহায্য করার জন্যে এই ক্যামেরাগুলি শরীরের তাপমাত্রা এবং মুখের ছবিগুলি ধারণ করতে পারে এবং আধার ডাটাবেজের সেই ছবিগুলির সাথে মিলিয়ে দেখতে পারে।

ড্রোন দিয়ে #মুখ_সনাক্তকরণের জন্যে #আধার ডেটা ব্যবহার। কেউ এটিকে সর্বোচ্চ আদালত এবং আধার দিয়ে কোন নজরদারি হতে পারে না দাবি করা সমস্ত @জাতীয়_পণ্য প্রচারকদের কাছে পাঠিয়ে দিক।

আধার হলো ভারতের বায়োমেট্রিক ভিত্তিক ডিজিটাল পরিচয় কর্মসুচি যাতে ১২৫ কোটিরও বেশি ব্যক্তির তালিকা রয়েছে যা আসলেই বিশ্বের বৃহত্তম বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ সংস্থা।

প্রতিবেদনটিতে ভারতের স্বকীয় পরিচয় কর্তৃপক্ষের (ইউআইডিএআই) একজন প্রাক্তন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে কোভিড-১৯ নিশ্চিত ঘটনাগুলি দ্রুত সনাক্ত করার জন্যে আধার ডাটাবেজে সঞ্চিত ব্যক্তিগত ডেটাগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক শারীরিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে সহায়তা করবে। ইউআইডিএআই আধার কর্মসুচি পরিচালনাকারী একটি সরকারি সত্তা। ব্যক্তিগত তথ্যের অনেকগুলি সেটের মধ্যে আধার ডাটাবেজে বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং পরিবারের সদস্যদের বিশদ বিবরণ রয়েছে যা এক্ষেত্রে সনাক্তকরণের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

গ্লোবাল ভয়েসেসের শুভাশীষ পানিগ্রাহী ভারতে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করার জন্যে অধিকার আইনজীবী ও সফটওয়্যারের স্বাধীনতা কেন্দ্রের আইনী পরিচালক মিশি চৌধুরী এবং বিশিষ্ট প্রযুক্তি ও নীতি গবেষক শ্রীনিবাস কোডালির কাছে গিয়েছিলেন।

শুভাশীষ পানিগ্রাহী (এসপি): মহামারীর সময়ে যখন ব্যক্তিগত অধিকারের কথা আসে তখন সমস্ত বিষয় বিবেচনায় এই মুহূর্তে ভারত কী করছে?

মিশি চৌধুরী (এমসি): আমরা শান্তির সময়ের মতো একই স্তরের গোপনীয়তা আশা করতে না পারলেও বিধি সম্পর্কে সতর্কতা বাতাসে ছুঁড়ে না দিয়ে এক্ষেত্রে সময়-নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলি আমরা আশা করতে পারি। মহামারীটি শেষ হয়ে গেলে সংগৃহীত যেকোন ডেটা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলতে হবে এবং জনস্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন কোন বাণিজ্যিক বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।

এসপি: আইনী দৃষ্টিকোণ থেকে আরোগ্য সেতু অ্যাপ্লিকেশন এবং আধার-সমন্বিত ক্যামেরাগুলি সম্পর্কে সাম্প্রতিক হালনাগাদ – এই দুটি বিষয়ে আপনার ধারণা কী?

এমসি: পরিষেবার শর্তাদির দায়বদ্ধতা সীমাবদ্ধতার ধারাটি এমনকি [আরোগ্য সেতু] অ্যাপ্লিকেশন ভুল তথ্য দিলে বা সত্যিকারের নিশ্চিতকরণ করতে না পারলেও সরকারের দায়বদ্ধতা সীমাবদ্ধ করে। এটি খেয়াল করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে ভুল তথ্যের কারণে কোন ক্ষতি হলে এটি সরকারকে দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত করে। অতএব অ্যাপ্লিকেশনগুলির নীতিমালা অ্যাপ্লিকেশনটিকে শুধুমাত্র আরেকটি ডেটা দখল চর্চার যন্ত্র ছাড়া আর কিছু হিসেবেই বিবেচনা করে না।

তার ওপর, দায়বদ্ধতার ধারাটি “[ব্যবহারকারীর] তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশ বা এর ফলে তার পরিবর্তন করার” (জোর দেওয়া হয়েছে) দায় থেকে সরকারকে দায়মুক্ত করে। এইক্ষেত্রে এর মানে হলো ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে গেলেও সরকারের কোনরকম দায়বদ্ধতা নেই।

আরোগ্য সেতু কোভিড-১৯ ঘটনাবলী অনুসরণ করার জন্যে ভারত সরকারের চালু করা একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ। এটি ব্যবহারকারীদেরকে ছয় ফুটের মধ্যে কোন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি এলে ঐ ব্যক্তির সংক্রমণের বর্তমান অবস্থার হালনাগাদসহ  তাদেরকে সতর্ক করে।

আরো পড়ুন: কোভিড -১৯ মোকাবেলা করতে ভারত কি “গণনজরদারি”র আশ্রয় নিয়েছে?

এসপি: কর্তৃপক্ষ দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষা করেও কোভিড-১৯ এর সাথে লড়াই নিশ্চিত করতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে?

এমসি: ডেটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে কখনো আপস করা যায় না। শুধু আমরা সবাই তাড়াহুড়োর মধ্যে আছি বলেই কাউকে বাণিজ্যিক বা অন্যান্য সুবিধার জন্যে নাগরিকদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য কাজে লাগানোর অধিকার দেওয়া যায় না। কোভিড-১৯ -এর জনসাধারণের জরুরি প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সব পদক্ষেপই সাময়িক প্রকৃতির  এবং সুযোগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ এবং এটি প্রশাসনের স্থায়ী কোন বৈশিষ্ট্য নয়। ডেটা ব্যবহার এবং এতে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা থাকতে হবে। পুলিশসহ প্রশিক্ষণহীনদের হাতে থাকা প্রচুর ডেটা বিপদজনক পরিস্থিতির একটি নিয়ামক হতে পারে।

এসপি: গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিয়তা বিধান করে গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরগুলিতে কি আধার-সংমন্বিত ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হবে?

শ্রীনিবাস কোডালি (এসকে): আমি মনে করি ক্যামেরা, ড্রোন অথবা অন্য কোন উপায়ে এই মাত্রার জনসাধারণকে নজরদারি করার অবকাঠামোগত অভাব রয়েছে। সুতরাং এটিকে কখনোই যথাসময়ে কার্যকর করা যাবে না। এমনকি এরকম কোন বিষয় নিয়ে কাজ করা হলে তা হবে আধার সম্পর্কে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ। এটি আরো অনেক মামলা ও সমস্যার কারণ হতে পারে যা সরকার ও ইউআইডিএআই কেউই পছন্দ করবে না।

এসপি: আরোগ্য সেতু মতো এই জাতীয় উদ্যোগ বা অ্যাপ্লিকেশনগুলি ডাব্লুএইচওর ডাব্লু এইচও এর পরামর্শের কতটা মেনে চলে? প্রায় সব অ্যাপ্লিকেশনই “শিল্প স্বেচ্ছাসেবক”দের সহযোগিতায় নির্মিত মনে হচ্ছে, তাই সম্ভাব্য ডেটা ফাঁসের কী কী সম্ভাবনা রয়েছে?

এসকে: আমি ডাব্লুএইচও-এর  পরামর্শদানকে বিশ্লেষণ করে না দেখলেও জিজ্ঞাসা করার মতো আরেকটি আকর্ষণীয় প্রশ্ন হলো এসব অ্যাপ্লিকেশনগুলির আদৌ কোন মানদণ্ড মেনে চলে কিনা। এই সিস্টেমগুলিকে মূল্যায়নের জন্যে কোন কাঠামোই নেই। নাগরিকদের প্রস্তাবিত যেকোন কাঠামোকে সহযোগী শিল্প স্বেচ্ছাসেবক এবং সরকার প্রত্যাখ্যান করবে। ব্যক্তিবর্গকে সুরক্ষার জন্যে কোন বিধি-বিধান না থাকায় ডেটা্র উপর একজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অস্পষ্ট শর্তাবলী বলছে যে উপযুক্ত মনে করলে সরকার যে কারো সাথে ডেটা ভাগাভাগি করতে পারে।

সম্ভাব্য করোনা ভাইরাসের নিশ্চিত ঘটনাগুলির দ্রুত সনাক্তকরণের প্রযুক্তি হিসাবে মুখ চিহ্নিতকরণ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করার কারণে ভারত আধারের মতো তার বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাজি ধরতে প্রস্তুত। তবে এতে আইনী বিষয়সহ অনেক বাধা রয়েছে। কোভিড-১৯ নজরদারির উদ্দেশ্যে আধারের তথ্য ব্যবহার এবং সংগৃহীত ব্যক্তিগত ডেটা ব্যবহারের জন্যে দিকনির্দেশনা প্রদানকারী আধার আইন, ২০১৬ সরকারকে এই জাতীয় উদ্দেশ্যে ডেটা ব্যবহার করতে দেয় কি দেয় না সে বিষয়ে মতামতগুলি বিভক্ত। ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সঞ্জয় হেগডে গোপনীয়তার লঙ্ঘন হলেও এমন ক্যামেরা ব্যবহার করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দিলেও “এটা যেন না জানিয়ে নজরদারি না হয়” বলে সাবধান করেছেন। তবে এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ২০১৮ সালে ভারতীয় সংবাদপত্র হিন্দু’র একটি নিবন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সুরক্ষার বিষয়াদিকে ভ্রূকুটি দেখানো মুখ সনাক্তকরণ কীভাবে প্রমাণীকরণের জন্যে “খারাপ নিয়ামক” হতে পারে।

সরকারি কর্তৃপক্ষগুলি দ্রুতই নজরদারির জন্যে আধার-সমন্বিত ক্যামেরা বা আরোগ্য সেতুর মতো অ্যাপ্লিকেশন বা এমনকি ড্রোনের ব্যবহার এর মতো নজরদারি প্রযুক্তির আশ্রয় নিতে পারে। এছাড়াও তাদের জন্যে অনুসরণকারী অ্যাপ, থার্মাল (তাপীয়) অ্যাপ, টেলিমেডিসিন এর মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং মিতব্যয়ী ও দ্রুতগতির ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) উৎপাদন পর্যন্ত রয়েছে। প্রোটোটাইপ ক্যামেরাগুলির সতর্ক পরীক্ষাই কেবলমাত্র সম্ভাব্য কোভিড-১৯ রোগীদের অনুসরণকারী আধার এবং তাপমাত্রা অনুসরণকারী ও মুখ চিহ্নিতকরণের ক্যামেরার সমন্বিত কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য গোপনীয়তা ঝুঁকির বিষয়ে জানাতে পারবে।

1 টি মন্তব্য

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .