বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বৈরুতের সড়ক চিত্রী ইয়াজান হালওয়ানীর উপর আলোকপাত

The Fairuz Mural in Gemmayzeh, Beirut. Photo by Yazan Halwani.

বৈরুতের গেম্মায়জেহতে ফাইরুজ-এর দেয়াল চিত্র। ফাইরুজ-এর বিষয়ে ইয়াজান বলে: ‘ফাইরুজ ঐক্যের একজন জাতীয় প্রতীক: তিনি হয়তো একমাত্র ব্যক্তি যাকে লেবাননীয়রা একমত হয়ে ভালবাসে। তিনি একজন ইতিবাচক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। আমার আঁকা প্রথম প্রতিকৃতিগুলোর মধ্যে তিনি একজন, আমি তার দেয়াল চিত্র এঁকে কিছু রাজনৈতিক পোষ্টারকে ঢেকে দিয়েছি যেগুলো বেশ কয়েক বছর ধরেই ঝুলছিল। মানুষ তার সাথে কতোটা একাত্মতা বোধ করে তা দেখাটা খুবই চিত্তাকর্ষক। ইয়াজান হালওয়ানীর সৌজন্যে ছবি।’

‘বৈরুতের জন্য,
আমার হৃদয় থেকে, আমি শান্তি পাঠাই বৈরুতের জন্য,
এবং সাগর আর গৃহের জন্য চুমু,
শিলাখণ্ডের জন্যও, যেটি একজন প্রাচীণ নাবিকের মুখমণ্ডল,
সে আসে মানুষের আত্মা থেকে, মদ থেকে,
সে আসে তাদের ঘাম থেকে, জেসমিন থেকে।
তাহলে কিভাবে তার স্বাদ পরিবর্তন হয়ে ধোঁয়া আর আগুন হলো?’

ফাইরুজের সব থেকে জনপ্রিয় গান ‘লি বৈরুত‘ (বৈরুতের জন্য) অনূদিত পংতিগুলো এভাবেই পাঠ করা যায়। বর্তমানে এই গানটিকে দুঃখ ও ভোগান্তিতে ভরা লেবাননের ইতিহাসের প্রতীক হিসেবে প্রায়শই উদ্ধৃতি দেয়া হয়। কিন্তু ফাইরুজ ভোগান্তিময় এবং আশা জাগানিয়া উভয় হিসেবেই বৈরুত ও তার জনগণকে নিয়ে গান গায় – ‘তুমি আমার, তুমি আমার। আহ, আমাকে আলিঙ্গন কর'।

এই উদ্দীপনাতে ইয়াজান হালওয়ানী আরও বৈরুতীয় করে তোলার জন্য সড়কগুলোকে নিজের আওতায় নিয়ে নিচ্ছে। তার অস্ত্র? শিল্প। কোন বিষয়গুলো তাকে অনুপ্রাণিত করে তা জানার জন্য গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইন এই তরুণ গ্রাফিটি শিল্পীর সাথে সাক্ষাৎ করেছে।

Yazan Halwani in front of the yet-unfinished Fairuz mural in Gemmayze. Source: Facebook.

গেম্মায়জেতে ফাইরুজের একটি অদ্য-অসমাপ্ত দেয়ালচিত্রের সামনে ইয়াজান হালওয়ানী। উৎস : ফেসবুক

গ্লোবাল ভয়েসেস: আপনি কি অনুগ্রহ করে আপনার পরিচয় দেবেন?

My name is Yazan Halwani and I am a street artist and calligrapher from Beirut, Lebanon. I have been street painting for around seven years now, mainly in Beirut, the city that inspired it all, but also in Tunisia, Singapore, Dubai, France.

আমার নাম ইয়াজান হালওয়ানী এবং আমি লেবাননের বৈরুত থেকে আসা একজন সড়ক চিত্রী ও লিপিকলা চিত্রী। আমি বর্তমানে প্রায় সাত বছর ধরে সড়ক চিত্র অংকন করছি, প্রধানত বৈরুতেই, যে শহরটি আমাদের সকলকেই উৎসাহিত করে, কিন্তু তাছাড়াও তিউনিসিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, ফ্রান্সেও করেছি।

জিভি: আপনি কি আপনার কাজ কী তা ব্যাখ্যা করবেন? 

My current work is a style I have developed myself over the past years. It combines Arabic calligraphy, oriental geometry and patterning and portraiture. I think that my work is also not only about mural painting but more about the relation of the wall to the people and the city it surrounds. For example the Feyrouz mural has become somewhat of a landmark for the people living around it. The owner of the several buildings around it called it:”The most photographed wall in the city”. One time when someone scribbled on the Fairuz mural, someone living next to the mural called me, without knowing who he is, and asked me if I could fix the mural.

আমার বর্তমান কাজ হলো এমন একটি ধারায় যা আমি বিগত বছরগুলোতে নিজে নিজে গড়ে তুলেছি। এটি হলো আরবীয় লিপিকলা, প্রাচ্যের জ্যামিতি, ও কারুকাজের নকশা এবং প্রতিকৃতি আঁকার একটি সমন্বয়। আমি মনে করি যে আমার কাজ শুধুমাত্র দেয়ালচিত্র অংকন নয় বরং তার থেকে বেশী হলো দেয়ালের সাথে মানুষ ও যে শহরকে এটি ঘিরে রেখেছে তার সাথে সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট। এর আশপাশে থাকা কয়েকটি ভবনের মালিক এটিকে ‘শহরের সবচেয়ে বেশী ছবি তোলা দেয়াল’ নামে ডেকে থাকে। একবার যখন কেউ একজন ফাইরুজের দেয়ালচিত্রের উপর কিছু হিজিবিজি লিখে রাখে তখন ঐ দেয়ালচিত্রের পাশেই বাস করা আমার অপরিচিত একজন আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করে যে আমি দেয়ালচিত্রটি সারাতে পারবো কি না।

Yazan's image of what the Lebanese 100,000 LL bill would look like with Khalil Gibran, the Lebanese-American poet and author of "The Prophet".

লেবাননীয়-আমেরিকিয় কবি এবং ‘নবী’-এর লেখক খলিল জিব্রানের ছবিসহ লেবাননীয় ১০০,০০০ পাউণ্ড দেখতে কেমন হবে সে বিষয়ে ইয়াজানের ছবি। ‘আপাতদৃষ্টিতে কেউ একজন লেবাননীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের কাছে এই মুদ্রার নকশাটি উপস্থাপন করে, আমি যা শুনেছি সে অনুসারে প্রস্তাবটি দ্রুত বাতিল করে দেয়া হয় কারণ নোটটিতে জিব্রানের ছবি যুক্ত করতে গিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে’, ইয়াজান বলে। ছবি ইয়াজান হালওয়ানীর সৌজন্যে।

জিভি: আপনি যা করেন তা করতে আপনাকে উৎসাহিত করেছে কোনটি? 

I have developed over the years. I have started my work as a graffiti artist being inspired by the graffiti scene in Europe and the US, where graffiti artists write their name in flashy and colorful ways. After a few years of doing that, I started questioning the relationship the relation of my work within a city in the Middle-East: at the time, it was somewhat alien from its surroundings, I realized that writing my name was not really different than what political parties have been doing around the city. I needed to change direction.

One day, I stumbled across a book of the five main calligraphy scripts (Diwani, Koufi, Thuluth, Naqsh, etc.) and decided to change my style: instead of doing my “alias”, I would paint words, letters, images that fit much better within the city, the culture and the context. At this stage I thought that a good mural is one that talks to the citizens surrounding it: it becomes part of the city and it becomes theirs, not the artist's.

আমি বেশ কয়েক বছর ধরেই তা গড়ে তুলেছি। আমি ইউরোপ ও আমেরিকার গ্রাফিটির দৃশ্য যেখানে গ্রাফিটি শিল্পীরা খুবই চটকদার ও বর্ণিলভাবে তাদের নিজেদের নাম লেখে, সেগুলো দেখে উৎসাহিত হয়ে একজন গ্রাফিটি শিল্পী হিসেবে আমার কাজ শুরু করি। এগুলো করার কয়েক বছর পর, আমার তখন মধ্য প্রাচ্যের একটি শহরের মধ্যে আমার কাজের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে প্রশ্ন জাগলো: তখন শহরটি তার আশপাশের তুলনায় বেশ অপরিচিত ছিল, আমি উপলব্ধি করলাম যে রাজনৈতিক দলগুলো সারা শহরের চারপাশে যেভাবে করে আসছে তার থেকে আমার নাম লেখাটা মোটেও ভিন্ন ছিল না। আমার দিক পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলো।

এক দিন, আমি একটি বই পেয়ে গেলাম যেখানে পাঁচটি মূল লিপিকলার লিপি অন্তর্ভূক্ত ছিল এবং আমি আমার ধারা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিলাম: আমি আমার উপনাম ব্যবহার করার পরিবর্তে, আমি এই শহর, এই সংস্কৃতি এবং এই প্রেক্ষপটের সাথে ভালভাবে খাপ খায় এমন শব্দ, অক্ষর, চিত্র অংকন করতাম। এই পর্যায়ে আমি মনে করতাম যে একটি ভাল দেয়ালচিত্র হলো যেটি এর চারপাশে থাকা মানুষদের কথা বলে: এটি শহরের একটি অংশ হয়ে ওঠে এবং এটি তাদের হয়ে ওঠে, শিল্পীর নয়।

Palestinian poet Mahmoud Darwish in Hamra, Beirut. This mural was vandalized and Yazan decided to repaint it in Tunisia, where Darwish spent a part of his life.

বৈরুতের হামরাতে প্যালেষ্টিনীয় কবি মাহমুদ ডারউইশ। এই দেয়ালচিত্রটিকে নষ্ট করে দেয়া হয়েছিল এবং ইয়াজান এটিকে তিউনেসিয়াতে পুনরায় অংকন করে, যেখানে ডারউইশ তার জীবনের কিছু সময় অতিবাহিত করেছে। ডারউইশ সম্পর্কে সে বলে: ‘প্যালেষ্টাইনের সংঙ্ঘাত বিষয়ে তার অবস্থান ও সেই সাথে সাথে তার কবিতার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে ডারউইশকে ভালবাসি। প্রথমবার আমি তাকে আঁকি হামরা সড়কের কাছে, যে সড়কে সে সম্ভবত একসময় হাঁটাহাঁটি করেছে যখন সে বৈরুতে থাকতো। দুঃখজনকভাবে কেউ একজন তার মুখের উপর রঙ ছিটিয়ে দিয়েছে। এটিকে পুনরায় একই জায়গায় অংকন না করে, আমি এটিকে ধ্বংসকারী থেকে অনেক দূরে অংকন করেছি। আমি ডারউইশকে তিউনিশিয়ার রাস্তায় নিয়ে গেছি, যেদেশটিও তাকে স্বাগত জানিয়েছে। আমি আমার একটি লিপিকলাতে ডারউইশ-এর একটি কবিতা ব্যবহার করেছি যেটিতে বলা হয়েছে ‘আমরা কিভাবে তিউনিশিয়ার জন্য ভালবাসা থেকে নিরাময় পেতে পারি'।’

সেইজন্যই প্রতিটি দেয়ালচিত্রেই একটি কাহিনী রাখতে চেষ্টা করি যেটি এর চারপাশে বাস করা লোকদের সাথে সংশ্লিষ্ট: আলী আবদাল্লা‘র দেয়ালচিত্রটি একজন গৃহহীন মানুষকে স্মরণে রাখার জন্য করা হয়েছে যিনি ঠাণ্ডায় মারা গিয়েছেন এবং এটি মানুষকে সাহায্য করানোর চেষ্টা করে বা তাদের সামাজিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।

আলী আবদাল্লা'র দেয়ালচিত্র, একজন গৃহহীন মানুষ যিনি হামরা এলাকায় বাস করতেন। তিনি ঠাণ্ডায় মারা গিয়েছেন।

আলী আবদাল্লা'র দেয়ালচিত্র, একজন গৃহহীন মানুষ যিনি হামরা এলাকায় বাস করতেন। তিনি ঠাণ্ডায় মারা গিয়েছেন। ইয়াজান হালওয়ানীর ছবি।

সত্যিই ইয়াজান শুধুমাত্র বিখ্যাত লোকদেরকেই আঁকে না। আলী আবদাল্লার কাহিনী বিশেষভাবে মনে দাগ কাটার মতো একটি। ইয়াজান এর ভাষায়:

Some people told me that I “paint famous people”, this is not true. I paint faces that tell stories, and are part of our culture. One of my favorite murals is the one of “Ali Abdallah”, a homeless man living on Bliss street.

Ali's existence was surrounded by urban legends about how he became homeless. Some of them say he was a physics teacher that had a scaring experience during the Civil War. The one thing everyone agreed on was their love for Ali.

Despite that, on one of the coldest winter nights, Ali passed away. This tragedy triggered several short-lived initiatives to try to help the homeless in Beirut. After a few months everybody seemed to have forgotten about Ali's story. This is why I painted the mural to remind people of his friendly face, and also to remind people on an everyday basis of these short-lived initiatives.

কোন কোন লোক আমাকে বলে যে আমি ‘বিখ্যাত লোকদেরকে আঁকি’, এটি সত্যি নয়। আমি এমন মুখমণ্ডলের ছবি আঁকি যেগুলো কিছু ঘটনা বর্ণনা করে এবং আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমার প্রিয় দেয়ালচিত্রগুলোর মধ্যে একটি হলো আলী আবদাল্লারটি, একজন গৃহহীন মানুষ যিনি ব্লিস সড়কে বসবাস করতেন।

অালীর অস্তিত্ব ঘিরে ছিল তার গৃহহীন হবার শহুরে কিংবদন্তী। এদের কেউ কেউ বলে যে তিনি পদার্থ বিদ্যার একজন শিক্ষক ছিলেন এবং গৃহযুদ্ধের সময় ভীতিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। কিন্তু একটি জিনিসের উপর সবাইই একমত হয়েছে তা হলো আলীর জন্য তাদের ভালবাসা।

তা সত্ত্বেয়, একটি শীতলতম শীতের রাতে আলী মৃত্যুবরণ করেন। এই শোকর্ত ঘটনাটি বেশ কয়েকটি ক্ষণস্থায়ী উদ্দ্যোগের সৃষ্টি করে যার মাধ্যমে বৈরুতে গৃহহীন ব্যক্তিদের জন্য সাহায্য করার চেষ্টা করা হয়। কয়েক মাস পরে মনে হয় সবাই আলীর ঘটনাটি ভুলে গেছে। সেই কারণে আমি তার বন্ধুসুলভ মুখমণ্ডলটি স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য এবং প্রতিদিন তাদেরকে এই ধরনের ক্ষণস্থায়ী উদ্দ্যোগগুলো সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য এই দেয়ালচিত্রটি এঁকেছি।

Mural of Asmahan, the popular Syrian-Egyptian singer, actress and popular icon. Seen in Achrafieh, Beirut. Photo by Yazan Halwani.

একজন জনপ্রিয় সিরীয়-মিশরীয় কণ্ঠশিল্পী, অভিনয় শিল্পী এবং জনপ্রিয় প্রতীকচিহ্ন আসমাহান এর দেয়ালচিত্র। বৈরুতের আক্রাফিহদে দেখা যায়। ছবি ইয়াজান হালওয়ানী সৌজন্যে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .