বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আবাসিক এলাকায় সৌদি বাহিনীর হাতে “কাঙ্ক্ষিত” প্রতিবাদকারীর অপহরণ এবং হত্যা

ইন্টারনেটবাসীদের রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি জরুরী বাহিনী কাতিফের পূর্বাঞ্চলের শহরের আবাসিক এলাকায় গত দু’রাত ধরে প্রবেশ করে এবং গুলি চালায়। প্রথম রাতে একজন নিরপরাধ মারা যায় এবং প্রতিবাদ করা ও রাজ্যে সংস্কার চাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক “ধরিয়ে দিন” হিসেবে চিহ্নিত একজন লোককে দ্বিতীয় রাতে গুলী করা হয়।

২১ জুন, ২০১৩ তারিখ রাত রোজ শুক্রবারে কাতিফের তোউবি গ্রামে মোটরসাইকেলে আরোহী একজন সন্দেহভাজনকে জরুরী বাহিনী বেশকিছু তাজা গুলি বর্ষণ করে। সে সময়ে ঐ এলাকায় উনিশ বছর বয়সী আলি আল-মাহরুস তাঁর গাড়িতে বসে ছিলেন। নাবা টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, তিনি গুলিবিদ্ধ [আরবি] হন এবং তাঁকে দ্রুত একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রিপোর্টে বলা হয়, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মারা যান। কিন্তু ছবিতে তাঁর গাড়িতেই তাঁকে মৃত [আরবি] অবস্থায় দেখা গেছে।

19-year-old Ali Al-Mahrous. Screenshot from Nabaa TV report on the June 21 shooting uploaded on its YouTube channel.

১৯ বছর বয়সি আলি আল-মাহ্রুস। ২১ জুন গুলি করার পর নাবা টিভি'র স্ক্রিন শট। 

পূর্বাঞ্চলের প্রাদেশিক পুলিশ অন্য একটি ঘটনা রিপোর্ট [আরবি] করেছে। পুলিশের দাবি, অপরিচিত একজন বন্দুকধারী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও তাঁকে পালটা গুলি করতে বাধ্য হয়। কিছুক্ষণ পর তাঁরা একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট বুলেটে একজন অল্পবয়সী তরুণের আহত হওয়ার বিষয়ে একটি ফোন পায়; তাঁরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সে মারা যায়।

২২ জুন, রোজ শনিবার রাতে সৌদি জরুরী বাহিনী আবার আসে। এইবার তারা লক্ষ্য করে মুরসি আল-রেব –কে। ২০১১ সালে তথাকথিত আরব বসন্তের শুরুর দিকে কাতিফের পরিস্থিতি বিচলিত করে তুলেছিল যে আন্দোলনটি, তাতে অংশ নেওয়া সরকারের তালিকাবদ্ধ ২৩ জনের একজন তিনি।

খবরের উৎসগুলো বলছে, মুরসিকে গুলি করার আগে পুলিশ বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে, একটি অনাগত ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য শহর সাঁজাতে জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে অনেক বন্দুকধারী একসাথে ফাঁকা গুলি ছুড়তে শুরু করে। আল-রেবকে সরাসরি গুলি করার পর দু’জন বন্দুকধারী জিজ্ঞেস করে, লোকটি কে ? যখন সে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় তখন তাঁকে তাঁদের গাড়ির পেছনে ছুড়ে ফেলে এবং গাড়ি চালিয়ে চলে যায়। সরকারের দাপ্তরিক বার্তা সংস্থা এসপিএ রিপোর্ট করেছে, [আরবি] পুলিশ বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাই তাঁরা পরিস্থিতি সামলাতে বাধ্য হয় এবং গুলি করে।

আল-মাহরুস এবং আল-রেব, দু’জনের মৃতদেহ এখনও কর্তৃপক্ষের কাছে আছে। কারন তাঁদের পরিবার মৃতদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

যতক্ষণ একটি দাপ্তরিক অনুসন্ধান সম্পন্ন না হবে, ততোক্ষণ আল-মাহরুসের [আরবি] পরিবার মৃতদেহ গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিন্তু কতৃপক্ষ তাঁদের দেবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাঁকে মরুভূমিতে দাফন করে ফেলার হুমকি দিয়েছে। মুরসি আল-রেবকে দাফন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর পরিবারকে ফোন করে জানানো হয়েছে। যদি তাঁরা একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন যে, তাঁরা শেষকৃত্য মিছিল করবেন না তবে তাঁদের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু পরিবারটি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এটাই প্রথম ঘটনা নয় যে সৌদি জরুরী বাহিনী কোন আবাসিক এলাকায় ঢুকে তাজা বুলেট বর্ষন করেছে। খালেদ আল-লাব্বাদকে লক্ষ্য করে সরকারী বাহিনী ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২ তারিখে আওয়ামিয়া গ্রামে হানা দেয়। তিনিও ২৩ জনের তালিকাভুক্ত একজন। তাঁর সাথে থাকা ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলে, যার নাম মোহাম্মাদ আল- মনাসিফ সহ তাঁকে সাথে সাথে মেরে ফেলা হয়। ঐ গোলাগুলিতে আরো তিনজন লোক আহত হয়েছে। তাঁদের একজন ছিলেন ১৬ বছর বয়সী হাসান আল-জাহরাই, যিনি পরে হাসপাতালে মারা যান।

বিশৃঙ্খলতা ও বিদ্রোহ সৃষ্টির দায়ে ২৩ জন তালিকাভুক্ত লোককে দোষী করা হয়। আরোপিত অন্যান্য শাস্তির সাথে সাথে তাদেরকে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পন করতে বলা হয়। তাদের অনেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন তাঁদের একমাত্র অপরাধ যে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের অধিকারের দাব জানিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। মুসলিম হিসেবে শিয়া অধ্যুষিত হওয়ার কারনে কাতিফের নাগরিকেরা তাঁদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ করেছে, কিন্তু সরকার এ ধরণের বৈষম্যের কথা অস্বীকার করেছে।

২০১১ সালের শুরুর দিকে কাতিফে প্রতিবাদ আন্দোলনটি আরম্ভ হওয়া থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জন লোক নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে।

লামা টুইট [আরবি] করেছেনঃ

اذكره مرة واحدة حين كانت اخته تبحث عنه بقلق في احد المسيرات، قال لها مبتسم لا تخافي علي اذا استشهدت ..خافي وابكي ان اعتقلت #مرسي_الربح

@লামা৮৮কাতিফঃ আমার মনে আছে, একবার একটি প্রতিবাদ মিছিলে তাঁর [মুরসি আল-রেব] বোন যখন তাঁকে খুঁজছিল; তিনি তখন হাসলেন এবং তাঁকে বললেনঃ আমি যদি শহীদ হই তবে ভয় পেও না, আমি যদি গ্রেপ্তার হই তাহলে ভয় পাবে এবং কাঁদবে।

কাতিফ মন্তব্য [আরবি] করেছেনঃ

ثاني حالة اعدام في الشوارع في القطيف خلال عام، فهل هذه دولة ام عصابة مافيا. وانباء متضاربة حول استشهاد الشاب #مرسي_الربح

@কাতিফআলি১: এক বছরে এটি দ্বিতীয় মাঠ প্রাণদণ্ড। এটি কি একটি দেশ নাকি মাফিয়া আক্রমণ ? মুরসি আল-রেবের মৃত্যু নিয়ে কতো পরস্পর বিরোধী খবর।

মোহাম্মাদ আল-রাবিয়াহ বলেছেন [আরবি]:

أعجز عن استحضار تعبيرات الإدانة والشجب أمام جرائم وزارة الداخلية! الرحمة والمغفرة لشهداء القطيف واللعنة على هذه السلطة الطاغية المتجبرة.

@মোহাদ_এফঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ নিয়ে নিন্দা করতে আমি যথেষ্ট অভিব্যক্তির নাগাল পাচ্ছি না। কাতিফের শহীদদের ওপর দয়া ও ক্ষমা বর্ষিত হোক এবং এই অত্যাচারী শাসনতন্ত্রের ওপর অভিশাপ নেমে আসুক।

অঞ্চলটিতে গতিশীলতা প্রত্যাশা করে লেখক টবি ম্যাথিয়েসেন টুইট করেছেনঃ 

@টবিম্যাথিয়েসেনঃ সৌদি পূর্বাঞ্চলের প্রদেশে গত দু’বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আগামী দিনে ৩ টি বড় ফিউনারেল বা শেষকৃত্যের / বিক্ষোভ আশা করছি। [৩ টি হত্যার গুজব ছিল কিন্তু তারা পরে অস্বীকার করা হয়েছে]

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .