বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

প্যালেস্টাইন: নেভার বিফোর ক্যাম্পেইন নামের এক প্রচারণা

এ বছরের শুরুতে ইজরায়েল যখন গাজায় আক্রমণ শরু করে তখন এক প্রচারণা চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল প্যালেস্টাইনিদের প্রতিরোধকে এক গর্বের সাথে যুক্ত করা এবং প্যালেস্টাইনের অধিকারের দিকে মনোযোগ দেওয়া। তবে তাদের প্রতিশোধকামী মানসিকতা তৈরি করা এই প্রচারণার উদ্দেশ্য নয়। এই প্রচারণার নাম নেভার বিফোর ক্যাম্পেইন। এর মুল ভিত্তি লেবাননের বৈরুত শহর এবং এই প্রচারণা তার বার্তা প্রচারের জন্য বেশ কিছু ধারাবাহিক ভিডিও তৈরী করেছে। গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন এই নেভার বিফোর ক্যাম্পেইন সমন্ধে আরো বিস্তারিত জানার জন্য এর এক সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

কি ভাবে এই নেভার বিফোর ক্যাম্পেইন শুরু হলো? এর সাথে কারা জড়িত?

দি নেভার বিফোর ক্যাম্পেইন, একদল ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আসা ব্যাক্তির দল, (প্রচারমাধ্যম, ব্যবসায়ী, সমাজবিজ্ঞানী বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের কর্মী) যারা বেশ কয়েকটি কারনে লেবাননে একত্রিত হয়েছিল, সাধারন ভাবে প্রথমে লেবাননে এবং পরে সমস্ত আরব অঞ্চলে। আমরা আমাদের নাম প্রকাশ করিনি। কারন আমরা চাইছিলাম প্রচারণা এবং আমরা যে সমস্ত কারণকে সমর্থন করতাম মনোযোগ যেন তার উপর থাকে। আমরা দেখেছি অনেক ভালো আন্দোলনও ব্যাক্তির জনপ্রিয়তার দিকে ঝুঁকে পড়লে খারাপ আন্দোলনে পরিণত হয়……..

দি নেভার বিফোর ক্যাম্পেইনের জন্য চিন্তা তৈরী হতে থাকে তখন, যখন গত ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। তখন আমরা অনুভব করি আমাদের এই প্রচারণা শুরু করা উচিত। ‘কখনই না’ বা ‘নেভার বিফোর’ নামটি একটা লম্বা দীর্ঘ আলোচনার মধ্যে দিয়ে মাথায় আসে (গাজা যুদ্ধ শুরু হবার ঠিক পুর্বে)। ঠিক করা হয়, এটা উত্তম হবে যে প্যালেস্টাইনি ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমস্যার কারণের মধ্যে অথবা সারা বিশ্বে অন্য যে সমস্ত সমস্যার কারণ ছিল তার মধ্যে একটা সমান্তরাল রেখা টানা উচিত। এর উপসংহার হলো: সারা বিশ্বের মানুষের উপর ইতিহাসের বিভিন্ন সময় অন্যায় সাধিত হয়েছে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা শেষ হয়ে যায়নি বরঞ্চ তা রক্তাক্ত বা আঘাতজনক, নিষ্ঠুর এবং অনেক অভিন্ন চেহারা নিয়ে আসে। একই সময় কখনই ঘটেনা যে ঘটনার ক্ষেত্রে জনতার প্রতিরোধ রয়েছে, তারা লম্বা সময় ধরে লড়াই করে যাচ্ছে, তারা অনেক বাজে ঘটনা ও অনেক বিশ্বাসঘাতকতার মুখোমুখি হয়েছে। সবশেষে বলা যায় প্যালেস্টাইনি জনগণের প্রতি অবিচারের কথা যা তারা মুখোমুখি হয়, তাদের জন্য সমর্থন এখন অনেক শক্তিশালি, আগে যা কখনই এতটা ছিল না।

প্যালেস্টাইনি অধিকারের ক্ষেত্রে এই প্রচারণা অন্য সব প্রচারণার থেকে কতটা আলাদা?

আমরা দাবী করি না আমাদের প্রচারণা পুরোপুরি আলাদা। প্যালাস্টাইনিদের সমস্যার জন্য আওয়াজ তোলা হয়েছে ১৯৪৮ সাল থেকে, এমনকি তারও আগে। আমরা সেই আন্দোলনের অংশ। আমরা যা খেয়াল করেছি প্যালাস্টাইনের জন্য আন্দোলনের এক দশকের বেশী সময় ধরে চলেছ অথবা তার বেশী। বিশেষত পশ্চিমে এই সহানুভূতি মানবাধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা ফেলা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যা প্রয়োজন তা হলো প্যালেস্টাইনি জনগণের জন্য শ্রদ্ধা, তাদের প্রতি দয়াশীল না হয়ে অথবা এক অপরাধ অনুভূতির দ্বারা চালিত না হয়ে।

আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো প্যালেস্টাইনি জনগণের জন্য ন্যায়বিচার উন্মোচন করা। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তা যেন শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হয় এবং আমরা সারা পৃথিবীর সকল নিষ্পাপ মানুষকে তার অংশ হতে বলি যখন সেদিন আসবে।

এই প্রচারণা ভিডিও তৈরীর দিকে মনোযোগ দেয়, অথবা অন্য কোন উপায় রয়েছে কিনা যেখানে বার্তা পাঠানো সম্ভব?

আমরা সকলেই পেশাজীবি মানুষ। এই প্রচারণা জন্য কোন আলাদা সম্পদ আলাদা করে রাখা নেই। কাজেই আমরা এখন ভিডিওর মাধ্যমে কাজ করছি। অনেক ব্যাক্তি আমাদের সাথে শারিরীক ভাবে এবং ভার্চুয়াল বা ইন্টারনেটে যোগ দিয়েছে। কাজেই আমরা আমাদের কার্যক্রম বাড়াবো যত দ্রুত সম্ভব, যখন তা বাস্তবযোগ্য হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .