বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

শিশু বন্দী: এল সালভাদরের প্রাপ্তবয়স্করা অল্পবয়সীদের গ্যাং থেকে দূরে রাখতে ব্যর্থ

গ্লোবাল ভয়েসেসের তৈরি চিত্র।

এল সালভাদরে অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক আইনি পরিবর্তনের কারণে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুরা এখন ১০ বছরের সাজা পেতে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের কারাগারে থাকতে পারে। তবে একজন উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞানী হিসেবে আমার মতে অপরাধের-ওপর-কঠোরতার নীতিমালা বিশেষ করে শিশুদেরগুলি যে দেশে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে সম্প্রদায় এবং পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন সেখানে কাজ করে না

মার্চের শেষের দিকে দেশে গৃহস্থালী হত্যার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৪-ঘন্টায় ৬২টি হলে এল সালভাদরে ৩০-দিনের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। গৃহযুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে দেশটিতে এটিই ছিল সবচেয়ে হিংসাত্মক দিন। সমাবেশের স্বাধীনতা এবং আদালতে রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুরক্ষার অধিকারের মতো সাংবিধানিক অধিকারগুলি স্থগিত করা হয়। মানবাধিকার কর্মীরা এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে যুক্তি দেখিয়ে বলেছে যে এটা সালভাদরবাসীদের নাগরিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপের শামিল। শিশুরা বিশেষ করে বেসামরিক পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কাছে হয়রানি এবং নাম-ঠিকানা জানানোর জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ।

সক্রিয় কর্মীদের আশঙ্কা অমূলক নয়। পিতামাতারা তাদের সন্তানদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার, অনুসন্ধান এবং মৌলিক অধিকার স্থগিতের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছে। বাস্তবে কেউ কেউ তাদের আটক সন্তানদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ না থাকার অভিযোগ করেছে।

কিশোর দণ্ড আইনের এই পরিবর্তনগুলি মানো দুরা (“আয়রন ফিস্ট”) নামের অপরাধের-ওপর-কঠোরতা আইনের ইতিহাসের অংশ। ২০০৩ সালে ফ্রান্সিসকো ফ্লোরেস প্রশাসনের সময় এল সালভাদরে প্রথম প্রণীত এই আইনগুলি বেসামরিক বিষয়ে আরো বেশি সামরিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি জনগণকে তাদের শারীরিক চেহারার ভিত্তিতে “গ্যাং সদস্য” সন্দেহ করার সুযোগ দেওয়ার মতো স্বেচ্ছাচারী নীতিমালাকে সক্ষম করে তুলেছে।

এই ধরনের চর্চা এল সালভাদরে একমাত্র নয়। একই ধরনের নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়েছে। ২০০০ এর দশকের গোড়ার দিকে ওয়াশিংটন, ডিসি, মেরিল্যান্ড এবং ভার্জিনিয়ার পুলিশ বিভাগগুলি একত্রিত হয়ে উত্তর ভার্জিনিয়া টাস্কফোর্স (এনভিটি) গঠন করে। নির্দিষ্ট “গ্যাং-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য”যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এনভিটি প্রোটোকলগুলি প্রতিষ্ঠিত করে, যেগুলোর বেশিরভাগি কৃষ্ণাঙ্গ এবং/অথবা লাতিনদের উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এই অপরাধের-ওপর-কঠোরতা পদ্ধতি সত্ত্বেও ২০০৬ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাং সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে

এল সালভাদরে কারাগারে বন্দী গ্যাং সদস্যদের সংখ্যাধিক্য পরিস্থিতিটিকে আরো খারাপ করে কারাগারগুলিকে পরিণত করেছে শুধু নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের স্থানে। গত কয়েক সপ্তাহে আটক ১৩,০০০ জন কথিত গ্যাং সদস্য দেশের ঠাসাঠাসি কারাগারে যুক্ত হয়েছে।

মানো দুরা-ধরনের নীতিমালা অকার্যকর প্রমাণিত হয়ে সমস্যাকে আরো খারাপ করলে পরিবর্তন ও উদ্ভাবন আনার ঘোষণা দেওয়া সালভাদর সরকার কেন পুরানো এবং অকার্যকর চর্চার দিকে ঝুঁকছে?

এসবের পরিবর্তে তরুণদের গ্যাংয়ে জড়িত হওয়ার মূল কারণগুলির উপর জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এল সালভাদরের ক্ষেত্রে এর মানে হলো দেশটির ১২-বছর-ব্যাপী গৃহযুদ্ধ (১৯৮০-১৯৯২) প্রভাবিত পরিবার ও সম্প্রদায়ের ভোগ করা অন্তর্নিহিত মিলিত আঘাতকে মোকাবেলা করা।

ফারাবুন্দো মার্তি জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট (এফএমএলএন) নামের বামপন্থী গোষ্ঠীগুলির একটি জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় সরকার-নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর হাতে ৭৫,০০০ বেসামরিক লোক নিহত হয় বলে অনুমান করা হয়। এই সময়টা জুড়ে এফএমএলএনের প্রতি সহানুভূতিশীল সন্দেহভাজন বেসামরিক নাগরিকদের নির্যাতন ও অপহরণের মতো ব্যাপক মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন বজায় ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সরকারি বাহিনী যেমন একদিকে শিশুদের জোরপূর্বক নিয়োগ করে অন্যদিকে বাকিরা এফএমএলএনে যোগ দেয়। রাষ্ট্রীয় সৈন্যদের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং এফএমএলএন যোদ্ধাদের এক-পঞ্চমাংশ ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। উভয় ক্ষেত্রেই অনেক শিশুই তাদের বেড়ে ওঠার বছরগুলিতে যুদ্ধকালীন ভূমিকা পালন করেছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক প্রাক্তন শিশু সৈনিক থাকা সত্ত্বেও সরকার ও জনগণকে সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থাগুলি বয়সের কারণে অনেক সামাজিক কর্মসূচি থেকে শিশুদেরকে সম্পূর্ণভাবে বাদ রাখা হয়েছিল। কার্যকরভাবে শিশুদেরকেই তাদের আঘাতের অভিজ্ঞতাগুলির মোকাবেলা করতে হয়েছে।

শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিতরা আরো কম সহযোগিতা পায়। যথাযথ সমর্থন ব্যবস্থা না থাকায় সালভাদরের শিশুরা গ্যাং নিয়োগের কৌশলের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যুদ্ধের মতো প্রতিকূল শৈশব অভিজ্ঞতার কারণে নেতিবাচক স্বাস্থ্য ফলাফল, প্রতিকূল স্বাস্থ্যের ফলাফল, কমবয়সে মৃত্যু এবং অন্ত:স্র্রাবী, রোগপ্রতিরোধকারী এবং স্নায়ুতন্ত্র ব্যবস্থার বিকাশ ও কার্যকারিতার পরিবর্তন হতে পারে। আর্থ-সামাজিক এবং জ্ঞান বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করা  এই প্রজন্মের শিশুদের যুদ্ধের আঘাতমূলক ঘটনাগুলি প্রক্রিয়াকরণ অপরিহার্য ছিল।

ব্রনফেনব্রেনারের জৈব-প্রতিবেশগত ব্যবস্থা তত্ত্ব অনুসারে সমসাময়িক পরিবেশ, সম্পর্ক এবং আর্থ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শিশুদের বিকাশকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও মূলত জন বোলবি বিকশিত সংযুক্তি তত্ত্ব অনুসারে শিশুরা তাদের জীবনে প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে তাদের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিশ্বাস ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে এবং সেই সংযুক্তির ধরনগুলি পরবর্তীতে আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে। এই প্রক্রিয়াগুলি শেষ পর্যন্ত পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রবাহিত আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং পরিচয় তৈরি করতে সাহায্য করে। যুদ্ধ থেকে সহিংস ঘটনাগুলি প্রক্রিয়াকরণ ও পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা না করা হলে আঘাতগুলি ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে চলে যায়। প্রজন্ম থে প্রজন্ম ধরে সালভাদরের শিশুদের গ্যাং নিয়োগের শিকার হওয়াটা আশ্চর্যজনক কিছু নয়।

এটি ৪০ বছরেরও বেশি আগে হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধের প্রভাব এখনো পর্যন্ত এল সালভাদর এবং বর্তমানে প্রবাসী শিশু ও পরিবারগুলি অনুভব করছে। এল সালভাদরের বর্তমান “গ্যাং সমস্যা” সালভাদরদের সহজাতভাবে কোন ভুলের প্রতিফলন নয়, বরং যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও যুদ্ধ-পরবর্তী এল সালভাদরের নীতিমালায় শিশুদের প্রতি যত্নের অভাবের ফল।

অপরাধী সংগঠনে জড়িত শিশুদের উপর সমীক্ষাগুলি শিশু সৈন্যদের অনুরূপ অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে। বাস্তবে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গবেষকরা গ্যাংয়ে জড়িত শিশুদের শিশু সৈনিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ইউনিসেফ একটি শিশু সৈনিককে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে:

যে কোনো ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়োগপ্রাপ্ত বা ব্যবহৃত ১৮ বছর বা তার কম বয়সী যে কোনো ব্যক্তি। সশস্ত্র বাহিনীর সংঘাতে শিশুদের ভূমিকা প্রায়শই সরাসরি যুদ্ধ হলেও তারা গুপ্তচর, বাবুর্চি, বার্তাবাহক, পোর্টার এবং যৌনদাসী হিসেবে অন্যান্য ভূমিকাতেও কাজ করে।

তাছাড়া সমাজে শিশুদের উপর প্রাপ্তবয়স্কদের আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকার কারণে শিশুদের দলে যোগদানের জন্যে উপযুক্ত সম্মতি থাকে না।

এই সমস্যাটি মোকাবেলা করে আমরা কীভাবে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনার জন্যে আরো কার্যকর কাঠামোর দিকে ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে। একই সাথে আমাদের গ্যাংয়ে জড়িত শিশুদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সময় এসেছে।

গ্যাং সহিংসতার বিরুদ্ধে মানো দুরা-ধরনের নীতিমালা ব্যবহার করার পছন্দটি নতুন, সৃজনশীল বা কার্যকর নয়। বরং এটি সালভাদরের তরুণদের প্রতি ক্ষমতায় থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যর্থতার আরেকটি পুনরাবৃত্তি। নায়িব বুকেলে প্রশাসন অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চাইলে তাদের তরুণদের জন্যে বিনিয়োগ করতে হবে।

কিশোর দণ্ডবিধির সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং সামাজিক কর্মসূচিতে বাজেট কমানো থেকে বুঝা যায় যে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। গ্যাং সহিংসতার সমাধান মানে নজরদারি বাড়ানো এবং অতীতে আমাদের ব্যর্থ করা সেই একই মানো দুরা নীতিমালার মতো আরো কিছু নয়, বরং তার পরিবর্তে ইতিবাচক যুব উন্নয়ন, আঘাত-সচেতন মনস্তাত্ত্বিক যত্ন এবং শিশু ও পরিবারের জন্যে সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা করা।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .