বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

ভুল তথ্যের যুগে ‘সত্য’ নির্ধারণ করার ক্ষমতা কার হাতে?

নেটওয়ার্ককৃত একটি ভূ-গোলক। নিডপিক্স, সিসি০ এর মাধ্যমে পাওয়া ছবি।

উদাহরণস্বরূপ, “ঢাকা বাংলাদেশে অবস্থিত” এর মতো প্রাথমিক তথ্যের মুখোমুখি হলে মানুষ সহজেই প্রতিক্রিয়াটিকে “সত্য” বা “মিথ্যা” হিসেবে ঠিক করে। দুইভিত্তিক এই কাঠামোটি সহজ এবং সহজাত। কিন্তু পৃথিবী আরো বেশি জটিল। সত্য নির্ধারণের জন্যে মানুষের আরো সূক্ষ্ণ শ্রেণিবিন্যাসের কাঠামোর প্রয়োজন।

প্রযুক্তি সংস্থা এবং গবেষকরা তথ্য বিন্যাসের জন্যে কাঠামো তৈরি ও নির্মাণের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়শই পক্ষপাতিত্বের ঝুঁকিতে থাকেন। সংস্থাগুলি তবুও সাধারণ নাগরিকদের কাছে এই সিদ্ধান্তগুলিকে অস্পষ্ট করে দেয় যার ফলে শেষ পর্যন্ত তারাই প্রতিদিন এই তথ্যটিকে গ্রহণ করে এবং একে ঘিরেই তাদের জীবন গড়ে ওঠে।

আফ্রিকাতে বিশেষভাবে রাজনীতি বিক্ষুব্ধ সময়ে ভুল এবং বানোয়াট তথ্য প্রচারণা প্রায়শই অনলাইনে চাউর হয়ে ওঠার সময়গুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক প্রযুক্তি এবং সামাজিক গণ যোগাযোগাযোগ মাধ্যমের সংস্থাগুলি “সত্য” নির্ধারক হয়ে ওঠে। তখন কোটিখানেক আফ্রিকাবাসী পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টির মাধ্যমে তথ্য ছেঁকে দেওয়া গুগল, টুইটার ও ফেসবুকের মতো সার্চ ইঞ্জিন এবং মঞ্চ ব্যবহার করে।

বিষয়গুলিকে জটিলতর করতে জন্যে সংবাদ এবং মতামতের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসাবে কাজ করা এই প্রযুক্তি ও সামাজিক গণ যোগাযোগাযোগ মাধ্যমের মঞ্চগুলি প্রায়শই তথ্যের শ্রেণিবিন্যাসের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের অবকাঠামো তৈরি করে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ অনলাইনে অনুসন্ধান শিল্পের দানব গুগল মিথ্যা, অনেকাংশে মিথ্যা, অর্ধসত্য, অনেকাংশে সত্য, এবং সত্য হিসেবে সংবাদগুলিকে শ্রেণিবদ্ধ করে ভাইরাল দাবিগুলি যাচাই করার একটি বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে। পরিবর্তে ফেসবুক অনেকটা একইরকম মান ব্যবহার করেছে মিথ্যার উপর ভিত্তি করে তাদের কাছে দেওয়া অভিযোগকে আংশিক মিথ্যা বা মিথ্যা হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকে। এদিকে বিভ্রান্তিকর তথ্য, বিতর্কিত দাবি এবং অযাচাইকৃত দাবি হিসেবে টুইটার তার তিন শ্রেণিবিশিষ্ট কাঠামো ঘোষণা করেছে

বাস্তবতা যাচাই করার সংস্থাগুলি তাদের শ্রেণিবিন্যাসে ব্যাপক পার্থক্য করে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, পলিটিফ্যাক্ট সত্যমান যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। এতে “সত্য, অনেকাংশে সত্য, অনেকাংশে মিথ্যা, মিথ্যা” মান ব্যবহার করা হলেও এটি “মিথ্যা এবং হাস্যকর দাবি করা” বিবৃতিগুলির ক্ষেত্রে একটি “আগুনে হাঁসফাঁস” শ্রেণিবিভাগও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্নুপ ১৪টি বিভাগের একেবারে ভিন্ন ধরনের একটি শ্রেণিবিভাগ ব্যবহার করে।

বিপরীতক্রমে, আফ্রিকা যাচাই  আটটি বিভাগ ব্যবহার করে থাকে। তাদের সিদ্ধান্তগুলিকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্যে তারা বাস্তবতার বর্ণনাকে মান দিয়ে থাকে, বক্তার ওপর প্রমাণের বোঝা চাপায়, গুরুত্বের দিকে মনোনিবেশ করে, সেই সময়ে পাওয়া সেরা প্রমাণ ব্যবহার করে  এবং “নতুন বা আরো ভাল প্রমাণ হাজির” হওয়ার সাথে সাথে তথ্য হালনাগাদ এবং ভুলগুলি পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রদান করে।

এদিকে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বাস্তবতা যাচাইকারী সংস্থা ফুল ফ্যাক্ট  মোটেই কোন শ্রেণিবিভাগ করে না — পাঠকের বিবেচনার উপর ছেড়ে দেয়

তবে বাস্তবতা যাচাইকারী সংস্থাগুলির সাথে অংশীদারিত্বের কর্মসুচি চালু করা প্রযুক্তি মঞ্চগুলি সাধারণত তাদের অংশীদারেরা তাদের শ্রেণিবদ্ধকরণ কাঠামো মেনে চলে বলে দাবি করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুক এর সাথে সংশ্লিষ্ট বাস্তবতা যাচাইকারী সংস্থাগুলি তার ফেসবুক প্রকাশিত কাঠামো অনুসারে পর্যালোচনা করে বিভিন্ন বিষয়বস্তুর মান নির্ধারণ করবে বলে আশা করে। এর ফলে সময়ের সাথে সাথে ফেসবুককে সতাসত্যের কেন্দ্রীয় নির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একক বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির প্রাধান্য সৃষ্টি হবে।

পেছনের যৌক্তিক কারণগুলি না জানিয়েই আরো অনেক শ্রেণিবদ্ধকরণ প্রকাশিত হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারকারীদের তা গ্রহণ করতে এবং মেনে চলতে বলা হয়। অল্প কিছু বিশেষজ্ঞ অথবা প্রকৌশলীদের মতামতের ভিত্তিতে মঞ্চগুলি এই শ্রেণিবদ্ধকরণগুলি পরিবর্তন করার পর সমাজটিকে আবার তাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিগুলি সেই অনুযায়ী মানিয়ে এবং হালনাগাদ করে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

গবেষকরা তথ্য শ্রেণিবদ্ধকরণের পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধান অনুসন্ধান করার চেষ্টা করছেন। এই খাতের পরিচিত পণ্ডিত ক্লেয়ার ওয়ার্ডেল সাত ধরনের একটি শ্রেণিবিন্যাস তৈরি করেছেন: বিদ্রূপ বা প্যারোডি, বিভ্রান্তিকর বিষয়বস্তু, প্ররোচিত বিষয়বস্তু, বানোয়াট বা মনগড়া বিষয়বস্তু, ভুয়া সংযোগ, ভুয়া প্রসঙ্গ এবং স্বার্থসিদ্ধির বিষয়বস্তু।

আর ডিউক প্রতিবেদন গবেষণাগারের অধ্যাপক বিল অ্যাডার তার মিডিয়া পর্যালোচনা শ্রেণিবিন্যাস এর মাধ্যমে জনগণের মতামতের মাধ্যমে তথ্যকে শ্রেণিবদ্ধ করার একটি গণতান্ত্রিক অনুধ্যান প্রক্রিয়াকে যুক্ত করে তথ্য শ্রেণিবদ্ধকরণের একটি অনন্য পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু শ্রেণীবিন্যাস শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয় – এটি বিশ্ব সম্পর্কে নাগরিকরা কীভাবে চিন্তাভাবনা করে এবং যুক্তি দেয় তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। জ্ঞান সম্পর্কিত বিজ্ঞানীরা শ্রেণিবিন্যাসের গুরুত্ব দেখিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন “চিনতে পারার মানেই হলো আলাদা করতে পারা।”

অন্যান্যরা শ্রেণিবদ্ধকরণের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেরেক কাবেরা “শ্রেণিবদ্ধ চিন্তার অন্ধকার দিক” নামের একটি প্রবন্ধ রচনা করেছেন। “শ্রেণিবদ্ধ চিন্তার বিপদ” শিরোনামে হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউতে একটি নিবন্ধ লিখেছেন বার্ট ডি ল্যাঙহে এবং ফিলিপ ফার্নবাক

প্রচ্ছন্ন হলেও তথ্যের শ্রেণীবিন্যাসই হলো আসল কর্তৃপক্ষ। যারা তথ্য শ্রেণিবদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে তারাই নিজেদের অজান্তে হলেও নাগরিকদের উপর বাস্তবতা সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা চাপিয়ে দিতে পারে।

তথ্যের শ্রেণীবিন্যাস অরিহার্য হলেও এই ক্ষমতা কার হাতে নাগরিকদের সে বিষয়ে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে। শ্রেণিবিন্যাসের প্রক্রিয়াটি অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে এবং প্রকৃতপক্ষে সারাক্ষণই যৌক্তিক  প্রতিপন্নতা এবং সামাজিক তদন্তের জন্যে উন্মুক্ত রাখতে হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .