বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তানে মুহররম এর শোভাযাত্রা: দেখার জন্য দরকার সাহসের

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ আশুরার সকালে ফয়সালাবাদে মুসলমানের এই শোক পালনের জন্য সমবেত হয়েছে। ছবি লেখকের, অনুমতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

পৃথিবীর সকল মুসলমানদের জন্য পবিত্র মাস মুহাররম, তার প্রথম দিনটি ইসলামের বর্ষপঞ্জি অনুসারে বছরের প্রথম দিন। আশুরা বা মুহররম মাসের দশম দিনটি শোকের এক সময় যেদিন মুসলমান বিশেষ করে শিয়া সমপ্রদায় হজরত আলীর (রাঃ) পুত্র ও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইনের (রাঃ) শহীদ হওয়ার ঘটনাটি স্মরণ করে।

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নাগরিক শিয়া মুসলমান অবশিষ্ট নাগরিকেরা সুন্নি মুসলমান। শিয়া ও শিয়া হাজার জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হামলা খুব সাধারণ এক ঘটনা। এই সকল হামলার আশঙ্কা ও কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক আশুরার এই দিনটি পালন করার জন্য বাইরে বেড়িয়ে আসে।

এই বছর ৭০,০০০ পুলিশকে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থান পাহারা দেওয়ার জন্য এ সব এলাকায় মোতায়েন করা হয় এবং এই সময় দেশের মোবাইল ফোন সেবা আংশিক বন্ধ রাখা হয়

পাকিস্তানে শান্তিপূর্ণ ভাবে আশুরা পালিত হল। দেশজুড়ে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দারুণ কাজ করেছে। মাশাল্লাহ

এই বছর ৭০,০০০ পুলিশ পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পাহারা দেয় এবং সে সময় দেশের মোবাইল ফোন সেবা আংশিক বন্ধ রাখা হয়।

মুহররম এর ইতিহাস

এখন থেকে ১৪ শত বছর আগে আশুরার ঘটনা ঘটে যখন রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নাতি ইমাম হুসাইন (রাঃ) এবং তার কিশোর পুত্র কারবালার যুদ্ধে উমাইয়া শাসক প্রথম ইয়াজিদের সেনাদের হাতে সংগঠিত কারবালার যুদ্ধে নিহত হন। মুহররম এর শোকার্ত শোভাযাত্রা হচ্ছে শিয়া মুসলমানদের পালন করা কিছু রীতি যা মুলত এই সম্প্রদায়ের নাগরিকেরাই পালন করে থাকে আর এই দিনটি মুসলমান বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হয়।

সকল মুসলমান এর জন্য মুহররম মাস অত্যন্ত পবিত্র মাস আর বিশেষ করে শিয়াদের জন্য শোক বহ এক মাস যারা ইমাম হুসাইন ও তার পরিবারের মৃত্যুর ঘটনা শোক প্রকাশে উৎসবমুখর কোন অনুষ্ঠান পালনে বিরত থাকে। তারা যে রীতি পালন করে তার মধ্যে রয়েছে কালো পোষাক পড়া, বিশেষ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা, রোজা রাখা, তাজিয়ার শোভাযাত্রায় লোহার সেকল দিয়ে নিজের শরীরে আঘাত করা, চাকু বা ধারালো কিছু দিয়ে গায়ের চামড়া কাটা এবং শোকার্ত শোভাযাত্রা শোক প্রকাশ করতে করতে যাওয়া।

আশুরার এই দিনটি কেবল ইমাম হুসাইন (রাঃ) ত্যাগকে স্মরণ করে না, সেই সাথে মনে করিয়ে দেয় এক শিক্ষার কথা যে ন্যায়ের দাবীতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া। এটি হচ্ছে এমন একটি দিন যা চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ন্যায় ও সত্যের জন্য সকল কিছু ত্যাগ করা।

এই পোস্টে যে সমস্ত ব্যক্তি, স্থান ও মুহররম এর ধর্মীয় রীতির যে সকল ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তা এই পোস্টের লেখকের। তিনি যে সকল ছবি তুলেছেন সেগুলো সব পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে তোলা।

একজন মানুষ ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে আশুরার শোক প্রকাশের সময় প্রদীপ জ্বালাচ্ছে।ছবি লেখকের, অনুমতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

৯ মুহররম তারিখে পাকিস্তানের ফয়সলাবাদে আলি হাসান (বামে) ও তার বন্ধুরা ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত।ছবি লেখকের, অনুমতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে ৯ মুহররম এর দিনে আশুরায় যে সমস্ত রীতি পালন করা হয়, এক বিক্রেতা সেসব ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রি করছে।

রাস্তার ধারের এক বিক্রেতা ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে আশুরার সকালে ক্রেতার অপেক্ষায়।ছবি লেখকের, অনুমতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

মুহররম এর ৯ তারিখে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে প্রদীপ প্রজ্বলন।ছবি লেখকের, অনুমতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

এক রমনী এক মনে দোয়া করে যাচ্ছে।ছবি আনাস সালিম এর, অনুমতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের রাস্তার পাশের এক দোকানে নাগরিকেরা আশুরার মিছিলে যে সমস্ত সামগ্রী ব্যবহার করবে সে সব কেনাকাটা করছে।ছবি লেখকের, অনুমতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের সড়কের পাশের এক দোকান থেকে এক বালক একটি আংটি কিনছে।ছবি লেখকের, অনুমতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .