বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সৌদি আরবের বন্দী নারী অধিকার কর্মীরা

সৌদির নারী অধিকার কর্মী আজিজা আল-ইয়ুসেফ, এমান আল-নাফিয়ান এবং লোউযাইন আল-হাথলুল। অ্যাম্নেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ছবি।

২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যার ঘটনাটি – যা কিনা আমেরিকা এবং তুর্কির মতে বর্তমান যুবরাজ বিন সালমানের নির্দেশে ঘটানো হয় – দেশটিতে আরো অনেক মানবাধিকার কর্মীর উপর চলমান অত্যাচারের বিষয়টিতে নতুন করে আলোকপাত করেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক মানবাধিকার সংস্থা এবং কর্মীরা প্রকাশ্যে সেই দেশে বন্দী মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকার কর্মীদের অব্যহতি দাবি করছে।

অন্তত দশ জন নারী অধিকার কর্মী তাদের তৎপরতার জন্যে সৌদি আরবের জেলে বন্দী আছেন। তাদের মধ্যে তিন জন হলেন আজিজা আল-ইয়ুসেফ, এমান আল-নাফিয়ান এবং লোউযাইন আল-হাথলুল। মে মাসের মাঝামাঝি সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে এবং এরপর কোন এক অজ্ঞাত স্থানে কারাবাসে রাখা হয়। তারা প্রত্যেকেই নারীদের গাড়ি চালানোর সপক্ষে এবং রাজতন্ত্রের প্রাচীন প্রথা পুরুষ অভিভাবকত্বের বিপক্ষে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। এই প্রথা অনুযায়ী একজন নারী যদি বিয়ে করতে চায়, তার বাড়ী ভাড়া দিতে চায়, বিদেশে ভ্রমণ বা পাসপোর্টের আবেদন করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে।

এই সব স্পর্শকারত বিষয়সহ আরো অনেক বিষয়ে তারা ইন্টারনেটে স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যান। আজিজা আল-ইয়ুসেফ ঘরোয়া সহিংসতার শিকার মহিলাদের জন্যে কাজ করতেন। আল নাফজান সৌদিউইমেন নামক একটি ব্লগ লিখতেন, যেখানে তিনি নারী অধিকার এবং রাজতন্ত্রের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যা তুলে ধরতেন।

২০১৪ সালে লোউযাইন আল-হাথলুল নারীদের গাড়ী চালনোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইউএই থেকে সৌদি আরবে গাড়ী চালিয়ে আসেন। তার এই গাড়ী চালানো এবং অনলাইন কর্মকান্ডের জন্যে তাকে স্পেসালাইজড ক্রিমিনাল কোর্ট (এসসিসি) এর মুখোমুখি হতে হয় যেখানে সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের শুনানি হয়। ২০১৫ সালে ১২ই ফেব্রুয়ারি ১০ সপ্তাহ বন্দী রাখার পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়। অ্যাম্নেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর মতে তিনি এখনও অভিযুক্তকিনা তা স্পষ্ট নয়।

আল-ফাসি গাড়ী চালাচ্ছেন। তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে নেয়া ছবি।

আরেকজন নারী অধিকার কর্মী হলেন হাতুন আল-ফাসি, তিনিও এখন জেলে রয়েছেন, তাকে ২৭ জুন, নারীদের গাড়ী চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার তিন দিন পর আটক করা হয়। গালফ সেন্টার ফর হিউমেন রাইটস (জিসিএইচআর) এর মতেঃ

আল-ফাসি একজন অত্যন্ত বিদ্বান ব্যক্তি, তিনি কিং আল সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ইতিহাস বিষয়ের একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং “উইমেন ইন প্রি-ইসলামিক অ্যারাবিয়াঃনাবাটাইয়া” গ্রন্থের লেখক। তিনি বহুদিন থেকে নারী অধিকার যেমন ভোটাধিকার বা গাড়ী চালনোর অধিকার ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনিই প্রথম মহিলা যিনি নারীদের উপর থেকে গাড়ী চালানোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দিন প্রথম গাড়ী চালান।

অ্যাম্নেস্টির তথ্য অনুযায়ী, আজিজা আল-ইয়ুসেফ, এমান আল-নাফিয়ান এবং লোউযাইন আল-হাথলুল সহ আরো তিন জনকে মে মাসে আটক করার পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হয় যে তারা সবাই বিদেশী মদতপুষ্ট এবং দেশের নিরাপত্তার জন্যে হুমকি স্বরূপ । বিবৃতিতে বলা হয় যে, “তারা দেশের ও সমাজের ভাবমুর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে”। তাদেরকেও স্পেসালাইজড ক্রিমিনাল কোর্ট এর মুখোমুখি হতে হবে।

কারলোস লাতুফের নারীদের গাড়ী চালানোর প্রচারণার কার্টুন। পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশিত।

৩০শে জুলাই আরো দুজন কর্মী সামার বাদাউই এবং নাসিমা আল-সাদাহকে আটক করা হয়। বাদাউই হলেন রাইফ বাদাউই এর বোন, যিনি ২০১৪ সালে সাধারণ জনগণের মতামত প্রকাশ করার জন্য একটি ওয়েব সাইট প্রকাশ করেন যার প্রেক্ষিতে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১,০০০ বার চাবুক মারার আদেশ দেয়া হয়। নারী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য অক্লান্ত কাজ করে যাওয়া সামার বাদাউইকে বহুবার সৌদি কর্তৃপক্ষ আটক করেছে এবং তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধন চালিয়েছে।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এন্ড প্রোসিকিউশন কয়েক ঘন্টা ধরে তাকে তার মানবাধিকার এবং রাজতন্ত্রের পুরুষতান্ত্রিক অভিভাবকত্ত্ব বিনাশের তৎপরতা নিয়ে জেরা করে।

আল-সাদাহ হলেন আল-আদালাহ সেন্টার ফর হিউমেন রাইটস নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা। সৌদি সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার কোন লাইসেন্স দেয়নি। আল-সাদাহও একজন নারী অধিকার কর্মী এমং বাদাউই এর মতই তাকেও তার কর্মকান্ডের জন্য জেরা করা হয়। ২০১৫ সালে প্রথম নারী ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হলে আল-সাদাহ প্রার্থী হিসেবে দাড়াতে চাইলে কোন সুস্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী এই নারী অধিকার কর্মীরা জেলে তাদের জেরাকারীদের দ্বারা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত হচ্ছে। মানবাধীকার পর্যবেক্ষকদের মতে অন্তত তিন জন নারী অধিকার কর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের মধ্যে ছিল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা, ঊরুতে বেত্রাঘাত এবং জোর করে জড়িয়ে ধরা বা চুমু খাওয়া।

২৯ শে নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী অধিকার সংরক্ষণ দিবসে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সৌদি নারী অধিকার কর্মীদের মুক্তির জন্যে অনলাইনে প্রচারণা করে। প্রায় ২৪০ হাজার আবেদন ইউএন এ জমা পরে, এছাড়াও প্রচুর চিঠি এবং বিবৃতির মাধ্যমে সহমত প্রকাশ করা হয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .