বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভিয়েতনামের পঞ্চ ব্যঞ্জন যা হয়ত মুখে রুচবে না অন্য কারো

কেন্দ্রীয় বাজার, মাউ থো, ভিয়েতনাম। ছবি মেইলি.ভেনসেল-এর, উইকিমিডিয়া কমন্স (ক্রিয়েটিভ কমন্স এট্রিবিউশন শেয়ার এলাইক ৩.০ আনপোর্টেড)

তিয়েন নেগুয়েন-এর এই প্রবন্ধটি লাও থেকে নেওয়া যা ভিয়েত তান-এর এক সংবাদ ওয়েবসাইট এবং রেডিও প্রজেক্ট যা ভিয়েতনামের কাহিনী তুলে ধরে। লেখা বিনিময় চুক্তি অনুসারে এই লেখাটি পুনরায় গ্লোবাল ভয়েসেস–এ প্রকাশ করা হল।

প্রতিটি রাষ্ট্রের কিছু নিজস্ব আলাদা, কারো মতে বিচিত্র খাবার রয়েছে; যেমন জাপানী ব্যঞ্জন টুনা মাছের চোখের মণি, চীনের বানরের মগজ, এবং ফ্রান্সের পোকার ডিমের (এক ধরণের মাছির লার্ভা বা শূককীট) তৈরি খাবার। এখানে ভিয়েতনামের সেরা পাঁচটি বিচিত্র খাবারের তালিকা তুলে ধরা হল যা আপনাদের জানা উচিত।

নিষিক্ত হাঁসের ডিম বা ভ্রুণ-হট ভিট লন ওরফে বালুত

সুত্রঃ ফ্লিকার/ শঙ্কর এস (সিসি বাই ২.০)

হাঁসের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার ঠিক আগে এটি দিয়ে যে খাবার তৈরি হয় তার নাম বুলাত, ডিমের ভিতরে ভ্রুণ আকারে থাকা হাঁসের ছানাকে সিদ্ধ করে খোসার ভেতরে একে খাওয়া হয়। সাধারণত ডিমের বয়স যখন ২৯ থেকে ২১ দিন হয়, তখন সেটি এমন পরিপুষ্ট হয় যে কেউ একজন খাওয়ার সময় এর সদ্য গঠিত হাড় পর্যন্ত চিবুতে পারে, এই সুস্বাদু খাবার খাওয়ার সঠিক নিয়ম হচ্ছে এর ভেতরে সামান্য লবণ যোগ করা, আর এর পানি চুমুকে পান করে শেষ করা, আর খাওয়ার সময় কয়েকটা রাউ রাম বা ভিয়েতনামের ধনিয়া পাতা চিবানো।

ভিয়েতনামের পিৎজা-টিয়েট কানহ

সূত্রঃ ফ্লিকার/ পেট্রা এন্ড বারা রুজিকা (সিসি বাই ২.০)

যদি আপনি পিৎজার ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ভিয়েতনামের পিৎজার টিয়েট কানহ-এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। এর উপাদানের মধ্যে রয়েছে বাদাম, ধনে পাতা, মাছের সস, লেবু-আর এর সাথে অন্যতম গুরুত্বর্পূণ উপাদান হচ্ছে হাঁসের রক্ত। এখানে এই খাবার বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে, হাঁসের এই রক্ত হতে হবে একেবারে তাজা! এই খাবারটি তখন খাওয়ার উপযোগী বলে বিবেচিত হবে যখন রক্ত জমাট বেঁধে যাবে, এর রক্ত লাল এবং জমাট বাঁধা অবস্থায় এটি আপনি চামচ দিয়ে উঠিয়ে পেটের ভেতর চালান করে দেবেন ।

নারকেল গাছের পোকা/লার্ভা- কন ডুয়ং ডুয়া

নারকেল গাছের লার্ভা। স্ক্রিনশট-কন ডুয়ং ডুয়াঃ সূত্র ইউটিউব

দুধের রঙের মত মোটাতাজা এই রসালো পোকা সাধারণত তিন থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এগুলো নারকেল গাছের কোটরে বাস করে এবং গাছের ভেতর গর্ত করে ডিম পারে, এবং এখানে সন্তান বড় করার মধ্যে দিয়ে তাদের জীবন কাটিয়ে দেয়। যখন এই দুষ্ট বাসিন্দার কারণে গাছের ইহ লীলা সাঙ্গ হয়, তখন সাধারণত এই আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলা হয় যাতে এর ভেতরে আবার পোকারা জন্মাতে পারে এবং শেষে পুরো পোকার আবাসস্থল কেটে ফেলা হয়।

বেশ কয়েকটি উপায়ে এই ছোট্ট মিষ্টি পোকাকে রান্না করা যায়। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিটি হচ্ছে মাছের সসের ভেতরে জীবন্ত লার্ভা বা শূককীটকে ছেড়ে দেওয়া, আর যখন সেগুলো সসের মাঝে সাঁতার কাটতে থাকে তখন মোটাতাজা এই পোকা গুলোকে ধরে মুখে পুরে দেওয়া। চিবানো যোগ্য এই পোকা অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু। ভিয়েতনামের সর্বশেষ রাণীর এই খাবারটি ছিল অত্যন্ত প্রিয়।

ইঁদুরের ব্যঞ্জন-চোউট ডং

সুত্রঃ ফ্লিকার/ জ্যা পিয়েরে ডালাবেরা (সিসি বাই ২.০)

এই সকল ইদুর সে ধরণের ইঁদুর নয়, যা সাধারণত ঘরের পেছনে ময়লার গাদায় কিংবা নর্দমায় বাস করে, এই সকল ইঁদুর হচ্ছে গ্রামীণ ইঁদুর, যারা ফসলের মাঠে বাস করে। ঘরে বাস করা ইঁদুরের চেয়ে এই ধরণের ইঁদুর কম দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং ফসল তোলার সময় এটি খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। কৃষকেরা এই ইঁদুর ধরার জন্য দল বাঁধে এবং প্রতি গর্তে প্রায় ১০০ ইঁদুর শিকার করে। এগুলোকে রান্নার সেরা পদ্ধতি হচ্ছে মাটির পাত্রে সেগুলোকে ভাজা, এরপর কাচা আমের সাথে মাছের সসের ডুবিয়ে রাখা, তারপর উদর পূর্তির জন্য পেটের ভেতর চালান করে দেওয়া। এগুলোকে খেতে নাকি হরিণের মাংসের মত লাগে!

ঘুর্ঘুরে ভাজা-ভে সাউ চিয়েন

কড়কড়ে ঘুর্ঘুরে ভাজা । ছবি এইচহাইথাট। উইকিপিডিয়া কমন্স (ক্রিয়েটিভ কমন্স এট্রিবিউশন শেয়ার লাইক ৩.০)

ভিনহ লং এলাকায় স্থানীয়দের প্রিয় এই ব্যঞ্জন ঘুর্ঘুরে ভাজা, মাছির মত দেখতে এই পতঙ্গগুলো সাধারণত মাছির চেয়ে আকারে খানিকটা বর হয়, বলা হয়ে থাকে শিশুদের রোগ প্রতিরোধে এই ধরণের পতঙ্গের অসম্ভব ক্ষমতা রয়েছে, অন্তত লেখকের দাদির মতে এটা সত্যি। যখন ঘুর্ঘুরের দেহ কেবল চামড়ায় ঢাকতে শুরু করে, তখন সেগুলোকে খাওয়া সবচেয়ে উত্তম। তখন এর মাংস নরম থাকে। সেগুলোকে খাওয়ার জন্য সেগুলোকে ভেজে বা সিদ্ধ করে নেওয়া হয় এবং ভিয়েতনামের বিশেষ ঝোল কনজি-তে মাখিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

আপনি কি কখনো এই খাবারগুলো খাওয়ার চেষ্টা করেছেন? আপনার খাওয়া সবচেয়ে বিচিত্র খাবার কোনটি ছিল তা আমাদের জানান? খাবার উপভোগ করুন।

ভিয়েতনামের আরো কিছু খাবার সম্বন্ধে জানুন এই পডকাস্টের মাধ্যমে:

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .