বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নেট-নাগরিক প্রতিবেদন: ২০১৬ সালে ভারতে ৩১ বার ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। আপনার দেশে কতবার?

মাইক্রোসফটের বিং উপাত্ত (ডেটা) কেন্দ্র। ছবি: ফ্লিকারের মাধ্যমে রবার্ট স্কোবল (সিসি বাই ২.০)

গ্লোবাল ভয়েসেস এডভোকেসির নেট-নাগরিক প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের অধিকারের চ্যালেঞ্জ, বিজয় এবং উঠতি প্রবণতাগুলো নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক আলোকপাত করা হয়েছে।

১ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালে আঞ্চলিক পর্যায়ে সাতবার ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এখানে মোট ৩১বার এই ধরনের বন্ধ হয়েছিল। পাশাপাশি, স্থানীয় এবং আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে রাজনীতি ও নির্বাচনে, জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা এবং সহিংসতার ঘটনায় গণ অস্থিরতা মোকবেলায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া একটি ক্রমবর্ধমান সাধারণ কৌশল হয়ে উঠেছে বলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমেই এধরনের দেশের সংখ্যা বাড়ছে

গত (ফেব্রুয়ারি) মাসে সফটওয়্যার স্বাধীনতা আইনের নয়া দিল্লি কেন্দ্র একটি অনলাইন ক্রিয়াশীল মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এতে কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়া প্রকাশ্য ঘটনাবলীর একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনাসহ ভারতের প্রত্যেকটি ইন্টারনেট বন্ধের অবস্থান ও বিবরণ প্রদর্শিত হয়েছে।

একটি সাম্প্রতিক ব্লগপোস্টে কেন্দ্রের পরিচালক মিশি চৌধুরীর যুক্তি তুলে ধরেছেন যে প্রকাশ্যে কথাবলা এবং সরকারি সেবা, জনস্বাস্থ্য, অর্থ এবং আরো অন্যান্য কিছুসহ “ডিজিটাল ভারত” প্রচারাভিযানের প্রশাসনের সব অংশের নেটওয়ার্ককৃত যোগাযোগ প্রযুক্তির উপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় হিসেবে মোদী সরকারের ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ার উপর নির্ভরশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করা প্রয়োজন। “ডিজিটাল ভারতের মাধ্যমে আমাদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে” তিনি লিখেছেন, “(ইন্টারনেট) বন্ধ করে দেয়াটা নতুন ‘স্বাভাবিকতা’ হতে পারে না।”

২০১৪ সালে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য সবচেয়ে বেশিবার এই কৌশল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে – শুধু ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ১০বার এবং ২০১৪ সাল থেকে বছরে পাঁচবার করে বন্ধের সম্মুখীন। এই আঞ্চলিক-স্তরের নেটওয়ার্ক বন্ধ পরিকল্পনায় জম্মু ও কাশ্মীর একা নয়, প্রায়শই রাজনৈতিক ও জাতিগত উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠা প্রান্তিক রাজ্য এবং প্রদেশগুলোর মতো বিশ্বের কিছু অংশে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়াকে আর সংবাদ বিবেচনা করা হয় না।

পশ্চিম চীনের দুইটি জাতিগত সংখ্যালঘুপ্রধান অঞ্চল তিব্বত এবং জিনজিয়াংয়ে প্রকাশ্য অস্থিরতার সময় এবং এমনকি তিব্বতী নববর্ষের মতো ছুটির দিনে (ইন্টারনেট) বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি নৈমিত্তিক প্রতিক্রিয়া যা কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি মাসের পর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মিশরের সিনাই উপদ্বীপে (ইন্টারনেট) বেশ কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকা ২০১৩ সাল থেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে গাজা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তরের সহিংস বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংঘাতের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

ব্রুকিং ইনষ্টিটিউশনের হিসেব অনুসারে ২০১৬ সালে ইন্টারনেট বন্ধের সময়টুকুতে মোট জিডিপি (স্থুল জাতীয় উৎপাদন)ভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হিসেব করে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের আনুমানিক সমষ্টিগত ক্ষতি প্রায় ২৪০ কোটি ডলার (প্রায় ১৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা)। মোটের উপর, এসব বন্ধের ফলে (আরো অনেক বিষয়ের মধ্যে) নাগরিকদের যোগাযোগ, তথ্য, জন পরিষেবায় প্রবেশ এবং আর্থিক লেনদেন করতে না পারায় তাদের আনুষঙ্গিক ক্ষতির পরিমাণ ধারণাতীত।

ইরানী বিচারক ২১ বছর বয়সীর মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেছে

বার্তাবাহী লাইন প্ল্যাটফর্মে তার পোস্ট করা ইসলাম ও কুরআন বিরোধী বলে গণ্য করা কিছু প্রকাশ্য বার্তার জন্যে একজন অল্প বয়স্ক ইরানী মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন। ২০১৫ সালে ১৯ বছর বয়সে সিনা দেঘানকে পোস্টের জন্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং এই বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তার দণ্ড নিশ্চিত করেছে।

ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জন্যে নাইজেরীয় ব্লগার গ্রেপ্তার

১৩ মার্চ তারিখে একটি গির্জার একজন পাদ্রি এবং তার ধর্মীয় মণ্ডলীর একজন সদস্যের বিবাহ-বহির্ভূত একটি ব্যাপার নিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি চিঠি প্রকাশের জন্যে নাইজেরীয় সাংবাদিক এবং ব্লগার কেমি ওলুনলোয়ো গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়াও তার প্রকাশক স্যামুয়েল ওয়ালসনকে গ্রেপ্তার করে মানহানি এবং “মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ”এর দায়ে করা দুইজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে

ধর্ষণের হুমকি সম্পর্কে অনলাইনে অভিযোগ করার জন্যে প্যারাগুয়ের সাংবাদিক সমালোচনার সম্মুখীন

প্যারাগুয়ের একজন সাংবাদিক অনলাইনে ধর্ষনের হুমকির সম্মুখীন। আক্রমণকারীরা এই হুমকিটিকে “তার যৌন প্রবণতা সংশোধন” করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্যারাগুয়ের নাগরিক প্রযুক্তি ও যোগাযোগভিত্তিক অধিকার সংগঠন তেএদেইসে অনলাইনে হয়রানি ও যৌন সহিংসতার সমস্যা সম্পর্কে তার বর্ণনার বরাত দিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। পোস্টটিতে নামোল্লেখ করা হয়েছে এমন একজন পোস্টটিকে নামিয়ে ফেলার দাবি করে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর ফলে হয়রানির মোকাবেলা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে নিবন্ধটি বিতর্কের একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। তেএদেইসে-এর মতে, অনুরোধটির “উদ্দেশ্য হলো সেন্সর করার মাধ্যমে একটি বৈধ দাবিকে চুপ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা, এর প্রকাশ্য আলোচনাকে সীমিত করা চেষ্টা এবং আরো নারীদের একে সমালোচনা করা থেকে আটকানো।”

ভেনিজুয়েলার স্বাধীন গণযোগাযোগ মাধ্যম এবং এনজিও ওয়েবসাইট অনলাইন আক্রমণের শিকার

ভেনিজুয়েলার টিভি নেটওয়ার্ক থেকে সিএনএন-এর সৌজন্যে হীন উৎখাতের পরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একাধিক স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন ওয়েবসাইট প্রযুক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছে যার ফলে তাদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কোন কোন ক্ষেত্রে একটানা সারাদিন অফলাইনে থাকতে হয়েছে। ঐসব ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে গণযোগাযোগ মাধ্যমের সাইট প্রোভিয়া (প্রদান) এবং কারাওটা (মটরদানা) ডিজিটাল রয়েছে।

জাপান অপরাধের “প্রস্তুতি”কে শাস্তি দিতে গণ-নজরদারির আশ্রয় নিতে পারে

জাপানী আইন প্রণেতারা শীঘ্রই ষড়যন্ত্র বিরোধী একটি খসড়া আইনের পর্যালোচনা করবেন যার মধ্যে আগাম পুলিশী পদক্ষেপ গ্রহণের মতো বিতর্কিত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খসড়া বিধানটির আওতায় বিস্তৃত সংখ্যক (মোট ২৭৭ টি) সম্ভাব্য অপরাধ রয়েছে এবং এটি দুই বা ততোধিক মানুষের ভবিষ্যৎ অপরাধের – যাদের অন্তত: একজনের অপরাধের জন্যে তহবিল বা আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ অথবা অপরাধের সম্ভাব্য স্থান জরিপ করার – জন্যে নেয়া “প্রস্তুতি”কে শাস্তি প্রদান করবে। টোকিও আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোতোজি কোবায়াশি জানুয়ারিতে একটি প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলেছেন: “খসড়া ষড়যন্ত্র আইনটি আমাদের দেশের ফৌজদারী বিধি এবং আইনী ব্যবস্থার মৌলিক নীতি বিরোধী। এটা মানবাধিকার রক্ষা কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।”

‘তথ্য পাচারকারীরা’ নকল সংবাদ ছড়িয়ে দিতে চীনের মহা (অগ্নি)প্রাচীর ব্যবহার করছে

চীনে তথ্য পাচারকারীরা মহা অগ্নিপ্রাচীর জুড়ে বিদেশী ওয়েবসাইট থেকে চীনা পাঠকদের জন্যে নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু অনুবাদ এবং পুনঃপ্যাকেজ করার কাজ করছে। অনুসন্ধানী সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ইনিটিউম বেশ কিছু পাচারকারীদের সাক্ষাত্কার গ্রহণ করেছে। কিভাবে তারা ছদ্মবেশী সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে বাজফিড এবং রেডিটের মতো অবরুদ্ধ সাইটগুলোর বিভিন্ন সংবাদ কাহিনী সংগ্রহ করে সেগুলো চীনা ভাষায় পুনর্লিখন করে সে সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞেস করেছে। ইনিটিউম জেনেছে সাইটগুলো সাংঘাতিক মুনাফা করে, কিন্তু তারা জনগণকে আকর্ষণ করা সাংবাদিকতার তুলনায় বেশি ক্লিক পাওয়াগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।

বিলেতীরা ইইউ-কে বিদায় জানিয়ে অ্যাপ্সের সংকেতায়ন পর্যন্ত করে ফেলেছে?

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যাম্বার রুড বলেছেন ব্রিটিশ সরকার হয়তো সংকেতায়নের জন্যে পেছনের দরজা ব্যবহার করবে। ওয়েস্টমিনস্টারের আক্রমণকারী তার আক্রমণের পূর্বে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিল এই প্রমাণ প্রকাশিত হওয়ার পর এটা ঘটেছে। হামলাগুলোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে দাবিগুলো আনুপাতিক কিংবা কার্যকর নয় বলে বেশ কিছু ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ও নাগরিক স্বাধীনতা গোষ্ঠী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নতুন গবেষণা

  • Post-Snowden Internet Policy (স্নোডেন পরবর্তী ইন্টারনেট নীতি) – মিডিয়া ও যোগাযোগ জার্নাল, স্নোডেন পরবর্তী উদ্ঘাটনের পর নীতিনির্ধারণের জন্যে নিবেদিত বিশেষ সংখ্যা
  • The State of Internet Censorship in Myanmar (মিয়ানমারে ইন্টারনেট সেন্সর পরিস্থিতি) – নেটওয়ার্ক হস্তক্ষেপের মুক্ত মানমন্দির

ইমেলের মাধ্যমে নেটিজেন প্রতিবেদন পাওয়ার জন্যে গ্রাহক হোন

 

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .