বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আমিরাতের আদালতের রায়ে জর্দানীয় সাংবাদিক তায়সির আল-নাজ্জার কারাগারে

২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে আরব আমিরাতের কারাগারে অন্তরীণ তায়সির আল নাজ্জারের মুক্তির জন্যে ২০১৬ সালের জুনে ‘তাদের স্বাধীনতা তাদের অধিকার’ প্রচারাভিযান।

১৫ মার্চ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত জর্দানীয় সাংবাদিক তায়সির আল নাজ্জারকে ২০১৪ সালে জর্দানে অবস্থানকালীন ফেসবুকে প্রকাশিত তার একটি পোস্টে রাষ্ট্রের অবমাননার দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তার পাঁচ লক্ষ দিরহাম (প্রায় ১ কোটি ৯ লক্ষ বাংলাদেশী টাকা) জরিমানার সাজা দিয়েছে।

পোস্টটিতে আল-নাজ্জার গাজায় ২০১৪ ইসরাইলী যুদ্ধে অধিক ২,২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনী যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক মারা যাওয়ার ঘটনায় আমিরাতের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন। এছাড়াও সংঘাতটিতে ছয়জন ইসরায়েলি নাগরিক এবং ৬৪ জন সৈন্য নিহত হয়। আমিরাতের মানবাধিকার কেন্দ্রের আল-নাজ্জার লিখেছেন:

গাজার প্রতিরোধটি পছন্দ না করা কিছু সাংবাদিক ও লেখকদের কাছে একটি বার্তা […] এক মামলায় দুই রকম অধিকার হতে পারে না, তবে গাজার প্রতিরোধটিই সঠিক, আর এছাড়া নিজেরা নিজেদের কর্মে লজ্জিত না হওয়া অন্য সব যেমন – ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, [মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ এল-] সিসি এবং অন্যান্য ব্যবস্থাগুলো – খারাপ।

২০১৫ সালে ডিসেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে আটক এবং এক বছরের বেশি সময় বিচারের অপেক্ষায় থাকা আল-নাজ্জারকেও তার সাজা ভোগ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার দেশে ফেরত পাঠানো হবে। আবুধাবির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আদলত তাকে সামাজিক গণমাধ্যমে “রাষ্ট্রের অবমাননার প্রতীক” হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০১২ সালের সাইবার অপরাধ আইনের ২৯ ধারা অনুসারে রাষ্ট্র এবং এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নেতাদের “বিদ্রূপ বা সুনাম, প্রতিপত্তি বা মর্যাদা হানির অভিপ্রায়ে” যেকোন ধরনের বিবৃতি, তথ্য, সংবাদ অথবা গুজব প্রকাশনা সাময়িক কারাদণ্ড ও জরিমানার মতো শাস্তিযোগ্য একটি অপরাধ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যবহারকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতামত প্রকাশের কারণে কারাগারে পাঠানো কোন বিরল ঘটনা নয়। তবে আল-নাজ্জারের ঘটনার সমস্যাটি হলো স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের একজন সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করতে এমনকি সেদেশে চলে আসার আগে করা মন্তব্যের জন্যে কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

লেখক, সাংবাদিক এবং জর্দানীয় সাংবাদিক সমিতির একজন সদস্য আল-নাজ্জার জর্দানের দৈনিক আল-দস্তুর (সংবিধান) সংবাদপত্রের সংস্কৃতি বিভাগে কাজ করতেন। সরকারি মালিকানাধীন আলজেওয়া সংস্কৃতি ও মিডিয়া কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত আল-দার সংবাদপত্রের একজন সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করতে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি আবু ধাবিতে আসেন।

আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে ডিসেম্বর মাসে পরিবারের কাছে যাওয়ার পথে আবু ধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জর্দানগামী একটি ফ্লাইটে আরোহণ নিষিদ্ধ করে নাজ্জারকে আটক করে। তিনি প্রায় দুই মাস বহির্যোগাযোগ বিহীন অন্তরীণ এবং এক বছরের বেশি সময় প্রাক-বিচার আটক ছিলেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .