বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

‘রুশপন্থী’ নাম তাড়া করছে বুলগেরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টকে

বুলগেরীয় প্রেসিডেন্ট রোমিন রাদেভ এবং ব্রাসেলসে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টোল্টেনবার্গ। ছবি প্রেসিডেন্ট.বিজি (সিসি বাই ২.৫)

বুলগেরিয়ায় গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় কিছু কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বুলগেরিয়ার রোমিন রাদেভ-কে রুশপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এখন তিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পরও এই লেবেল দূর হচ্ছে না এবং রাদেভের পরিষ্কার করে দেয়া স্বত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম পদক্ষেপগুলো একটি রুশপন্থী বা রুশবিরোধী লেন্সের ভেতর দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বকবক করা মাথাগুলো আর সাধারণ বুলগেরীয়রা তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছে যে রুশ মিডিয়াসহ বিদেশী সব মিডিয়া প্রেসিডেন্টকে রুশপন্থী বলতে শুরু করেছে কারণ (স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রাদেভ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা স্বত্ত্বেও) বুলগেরীয় কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী বুলগেরীয় সমাজতান্ত্রিক দল তাকে সমর্থন করে বলে। সাম্প্রতিক অতীতে একটি কমিউনিস্ট দেশ এবং সোভিয়েত ব্লকের অংশ ছিল বলে বুলগেরিয়াতে রুশপন্থীতা একটি সংবেদনশীল বিষয়। তবে ১৯৮৯ সালে দেশটি তার গণতান্ত্রিক উত্তরণ শুরু করে এবং এখন এটি একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্র।

অন্যান্যরা বলেছে যে এটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মূলত: ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে করা তার অবস্থান সংক্রান্ত। নিকোলাই নেইচেভ ফেসবুকে লিখেছেন:

Цялата теория, че Радев е проруски идва от призива ЕС да отмени санкциите срещу Москва, които вече всички знаят, че са пълна глупост, но ги е срам да си признаят.

রাদেভ যে রুশপন্থী এই পুরো তত্ত্বটি আসে ইইউ’র কাছে মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্যে তার করা আবেদন থেকে।

রাদেভ ইউরোনিউজকে সম্প্রতি বলেছেন  বলেছেন যে রাশিয়ার ক্রিমিয়া সংযুক্তকরণ ছিল “আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন,” নিষেধাজ্ঞাগুলো “নির্দিষ্ট কোন সুবিধা এনে দেয় না” এবং “তারা বরং রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতির ক্ষতি করছে।”

রাদেভের কিছু কিছু বিরোধীরা নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ইউরোপপন্থী অথবা রাশিয়াকে সন্দেহের চোখে দেখা সম্ভাব্য ভোটারদের কাছ থেকে সুবিধা পাওয়ার জন্যে এই তকমাটি ব্যবহার করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বুলগেরিয়ার ইউরোপীয় উন্নয়নের জন্যে নাগরিক – জিইআরবি রাজনৈতিক দল থেকে রাদেভের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৎসেতসাকে ৎসাচেভা রাদেভের রুশপন্থী  অবস্থানকে সামনে নিয়ে আসেন। জাতীয় বুলগেরীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ব্যাপকভাবে দেখা একটি বিতর্কে রাদেভ তিনি যে একজন রুশপন্থী প্রার্থী এই ধারণাটিকে “মিথ্যা” বলেন।

সেসময়ে বুলগেরীয়রা সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রার্থীদের রুশপন্থী বা রুশবিরোধী বানানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। উদাহরণস্বরূপ, নিকোলাই নেইচেভ তার  পোস্টে যুক্তরাজ্যের পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের করা “বুলগেরিয়া এবং মালদোভাতে রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের জয়ের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে” একটি শিরোনামের প্রতি আপত্তি জানিয়েছিলেন:

Нито дума, че човекът се е изучил в САЩ и цялата му кариера е в НАТО. (Най-смешното е, че заглавието на Гардиан е “проруски”, а вътре в материала цитират посланик, според който Радев е 100% про-НАТО).

লোকটি যে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা লাভ করেছে এবং তার পুরো [সামরিক] কর্মজীবন যে ন্যাটো ছিল সেই সম্পর্কে  এমনকি একটি শব্দও নয়। (সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপারটি হলো গার্ডিয়ান পত্রিকার শিরোনামে “রুশপন্থী” বলা, অথচ নিবন্ধটির ভিতরে তারা একজন রাষ্ট্রদূতকে [সোফিয়ায় নিযুক্ত একজন পশ্চিমা কূটনীতিক] উদ্ধৃত করছে যিনি বলেছেন রাদেভ ১০০% ন্যাটোপন্থী)।

ন্যাটো  কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কয়েক ডজন দেশের আন্তর্জাতিক সামরিক জোট যাতে ২০০৪ সালে বুলগেরিয়া যোগদান করে। রাদেভ বুলগেরীয় বিমানবাহিনীর মেজর জেনারেল পদমর্যাদার অধিকারী।

ডিসেম্বর শেষ দিকে – ২২ জানুয়ারি তার অভিষেকের আগেই – সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার মাধ্যমে রাদেভ এই আখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করা অব্যাহত রাখেন। বৈদেশিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ পিটার কাতজারফ একটি ফেসবুক পোস্টে  বুলগেরীয় অনলাইন মাধ্যম মিডিয়াপুল থেকে নেয়া “আমি ন্যাটো’র একজন জেনারেল, আমাকে একজন রুশপন্থী বানাবেন না” শিরোনামে রাদেভের একটি  সাক্ষাৎকার  শেয়ার করে মন্তব্য করেছেন:

Отговорна позиция на един генерал, доказващ всеки ден,защо е спечелил доверието на Суверена-българският народ!! Стратегически правилно,г-н ПРЕЗИДЕНТ!

একজন (সামরিক) জেনারেলের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে তিনি প্রতিদিন প্রমাণ করেছেন কেন তিনি সার্বভৌম বুলগেরীয় জাতির আস্থা জিতেছেন!! কৌশলগতভাবে সঠিক, জনাব রাষ্ট্রপতি!

‘মানুষকে আখ্যা দেয়া একটি সরলীকৃত রাজনৈতিক অভ্যাস’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাদেভের প্রথম বিদেশ সফর ছিল ন্যাটো’র সদর দপ্তর ব্রাসেলসে, যেখানে তিনি ন্যাটো'র সাধারণ সম্পাদক জেনস স্টোল্টেনবার্গ এবং ন্যাটো'র মিত্রদের কমান্ড অপারেশনসের মিত্র বাহিনীর ইউরোপীয় সর্বাধিনায়ক কার্টিস স্কাপারোত্তি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক সম্প্রচারক এসবিসি রেডিও অনুসারে, সেখানে থাকাকালীন রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়ার সময় তিনি ন্যাটো শক্তিশালীকরণের পক্ষে কথা বলেছিলেন।

তার সফরকালে রাদেভ ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেন্দ্রিক সংবাদ ওয়েবসাইট ইউরঅ্যাক্টিভ.কম-কেও সাক্ষাৎকার দিয়ে (বুলগেরিয়া একটি ইইউ সদস্য)  বলেছিলেন, “ইইউ এবং ন্যাটো বুলগেরিয়ার কৌশলগত পছন্দ  এবং একে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।”

তিনি তার নিযুক্ত করা রুশপন্থী ঘরাণার বলে ধরে নেয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে পররাস্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী (রাদি নায়দিনভ এবং স্টিফান ইয়ানেভ) হলেন ইউরোপপন্থী এবং ন্যাটোপন্থী যা নামকরণটির সম্পূর্ণ বিরোধী::

মানুষকে আখ্যা দেয়া একটি সরলীকৃত রাজনৈতিক অভ্যাস। কিছু কিছু ইউরোপীয় মিডিয়া নামকরণ করে স্বেচ্ছায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চক্রান্তে জড়িয়ে পড়ে।

আমি ইতোমধ্যে সংসদে আমার বক্তব্যে বলেছি যে ইইউ এবং ন্যাটো বুলগেরিয়ার কৌশলগত পছন্দ  এবং একে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।

যেমন [রাশিয়ার বিরুদ্ধে] নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারটি, আমি ঐগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখি না, সুস্পষ্ট লোকসান ছাড়া। আমি আশংকা করি যে  নতুন মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে আবার সংলাপ শুরু করবে, আর (মাঝখান থেকে) ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুধু নিষেধাজ্ঞার যুদ্ধের  জিম্মি হয়ে থাকবে।

সবগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়াই যে রাদেভকে রুশপন্থী বলেছে তা নয়। উদাহরণস্বরূপ, নিউ ইয়র্ক টাইমস “প্রধান ভারসাম্যকারী” আখ্যা দিয়ে তার জন্যে আরো সূক্ষ্ণ একটি বিবরণ বেঁছে নিয়েছে:

প্রেসিডেন্টসহ বুলগেরীয় রাজনীতিবিদরা রাশিয়া সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়, তবে অতটা কাছাকাছি নয় যে তাদের জাতি পশ্চিমের সঙ্গে এর কাঙ্ক্ষিত বন্ধনগুলো হারিয়ে জোরালোভাবে রাশিয়ার কক্ষপথে পড়ে যায়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .