বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নিজে ছিলেন পথশিশু। গৃহহীন তরুণদের জন্য চালু করলেন রেস্তোরাঁ ও পাঠাগার

The the story of Amin Sheikh, who wanted to change the fate of boys like him who grew up on the streets of Bombay. Photo credit: Humans of Bombay

বোম্বের পথশিশুদের ভাগ্য বদলে দিতে চেয়েছেন আমিন শেখ। ছবি কৃতজ্ঞতা: হিউম্যানস অব বম্বে।

নিজের জীবনকাহিনি নিয়ে বই লিখেছেন। তিন বছর ধরে সেই বই ফুটপাতে বিক্রি করেছেন। তাতে কিছু টাকা এসেছে হাতে। সেই টাকা দিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করলেন আমিন শেখ। ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী বলে খ্যাত মুম্বাইয়ের পথশিশুদের জন্য রেস্তোরাঁ ও পাঠাগার নির্মাণ করেছেন। তার ইচ্ছে, এই শিশুদের ভাগ্য বদলে দিবেন।

আমিন শেখের বয়স মাত্র ৩৬ বছর। কিন্তু এই অল্প বয়সেই তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার বেশ ভারী। মুম্বাইয়ের উত্তরের একটি বস্তিতে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। বাবা-মা খুব গরীব। তাই ৫ বছর বয়সেই চায়ের দোকানে কাজ নেন। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত তার জীবন মুম্বাইয়ের রাস্তায় আটকে ছিল। জীবিকার জন্য তিনি কখনো আবর্জনা কুড়িয়েছেন, কখনো লোকাল ট্রেনে গান গেয়েছেন, কখনোবা ভিক্ষা বা টোকাইগিরি করেছেন, আবার কখনো কারখানায় শ্রমিকের কাজ নিয়েছেন, কখনো রেলগাড়িতে হকারগিরি, জুতা পালিশ করেছেন। একদিন স্নেহাসদন নামের একটি সংস্থা তাকে উদ্ধার করে। তারা থাকার জায়গা দেয়ার পাশাপাশি এক নতুন জীবনের হদিস দেয়।

১৭ বছর বয়সে আমিন শেখ ভারতের বিখ্যাত শিল্পী ইউস্টাস ফার্নান্দেজ এর সাথে কাজ শুরু করেন। তিনি একাধারে শিল্পীর গাড়ি চালাতেন, রান্নার কাজ করতেন ও ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে রাখতেন। কাজের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা রপ্ত করার চেষ্টা করতেন। ইউস্টাস এর সহযোগিতা নিয়ে ২০০২ সালে আমিন শেখ ট্রাভেল এজেন্টের ব্যবসা শুরু করেন। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম রাখেন স্নেহা ট্রাভেল। ইউস্টাস একবার বার্সিলোনা সফরে যাওয়ার সময়ে তাকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কিছু পাঠাগারসহ রেস্তোরাঁ দেখেন। এগুলোই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

Amin in his Cafe. Used with permission

আমিন শেখের ক্যাফে। এখানে কর্মরত সবাই স্নেহাসদনের পথশিশু। ছবি অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

শেখের ক্যাফে বোম্বে টু বার্সিলোনাতে কমলা ও সাদা রঙের পেইন্ট করা। তাছাড়া এখানে কর্মরত সবাই স্নেহাসদন থেকে আসা পথশিশু। চলতি বছরের আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে ক্যাফে চালু হয়। সব ধরনের আয়ের মানুষ যেন এখানে আসতে পারে, সেজন্য খাবারদাবারের সাশ্রয়ী দাম রাখা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে এক কাপ চায়ের দামের কথাই ধরুন। মাত্র ১০ রূপি। যা রাস্তার পাশের দোকানের এক কাপ চায়ের দামের সমান। শেখের আপ্তবাণী হলো, এক কাপ দারুণ চা কিংবা কফি খাওয়ার জন্য কেউ যেকোনো জায়গায় যাওয়ার আশা করতেই পারে।

টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন এইড ইন্ডিয়ার জরিপ অনুযায়ী মুম্বাইয়ে পথশিশুরা সংখ্যা ৩৭,০৫৯ জন। এদের পাঁচজনের মধ্যে দুইজন শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হন। তাছাড়া এরা অনাহারে থাকতেও বাধ্য হয়।

গ্লোবাল ভয়েসেস-এর সাথে সাক্ষাৎকারে শেখ কীভাবে ক্যাফে প্রতিষ্ঠা করেছেন, আত্মজীবনীমূলক বই বিক্রি করে কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করেছেন, পথশিশুদের নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি সে সম্পর্কে বলেছেন।

ক্যাফে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমি প্রায় তিনবছর ধরে বই বিক্রি করেছি। পথশিশুদের জন্য আমাদের দরজা সবসময়ই খোলা। তারা কখনোই এখানে এসে ফিরে যায় না।

The cafe provides food and other assortments free of cost to underprivileged children. Photo credit: Bombay to Barcelona FB page. Used with permission.

এই ক্যাফে থেকে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদেরকে বিনামূল্য খাবার এবং অন্যান্য দরকারি বিষয়ে সহযোগিতা দেয়া হয়। ছবি: বোম্বে টু বার্সিলোনা ফেইসবুক পেইজ। অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

তার আত্মজীবনী গ্রন্থ বোম্বাই মুম্বাই: লাইফ ইজ লাইজ: আই অ্যাম বিকজ অব ইউ ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়। বইয়ে শেখ মুম্বাইয়ের রাস্তায় রাস্তায় তার ছোটবেলা কীভাবে কেটেছে, ট্রেনে গান গেয়ে ভিক্ষা করে কীভাবে জীবন চালিয়েছেন সেই অভিজ্ঞতার গল্প বয়ান করেছেন।

এই বই বেচে যে টাকা আয় হয়েছে, সেগুলো দিয়ে তিনি ক্যাফে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

শেখ বলেন, “পাঁচ বছর বয়সে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। কারণ, সৎ পিতা আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করতো। আমাকে হুমকি-ধামকি দিতো। স্নেহাসদনে আশ্রয় পাওয়ার আগে আমি ভিক্ষা করতাম, রেলস্টেশনে ঘুমাতাম।“

এখন তাই তিনি অন্যান্য পথশিশুদের সাহায্য-সহযোগিতা দেয়ার নীতি নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি চাই না, এই শিশুরা আবার পথে ফিরে যাক।“

Photo Credit: Bombay to Barcelona FB page.

ছবি: বোম্বে টু বার্সিলোনা ফেইসবুক পেইজ। অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

স্প্যানিশ, ক্যাটালান, মারাঠীসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় তার বই অনুবাদ হয়েছে। সবমিলিয়ে বই বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২,০০০ কপি। ক্যাফের তহবিল এসেছে এই বিক্রির টাকা থেকেই।

স্পেনের মারিয়া আন্তোনিয়া পেরেজ শেখের বই পড়ে মুম্বাইয়ে আসেন। সেখানে এসে শেখকে ক্যাফে প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন।

Photo Credit:

ছবি: বোম্বে টু বার্সিলোনা ফেইসবুক পেইজ। অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

শেখ জানান, “পথশিশুদের জন্য আমাদের ক্যাফের বিশেষ টেবিল সেট রয়েছে। এখানে তাদেরকে কেক এবং অন্যান্য হালকা খাবার পরিবেশন করা হয়। আর এটা পেয়ে তারা খুব খুশি হয়।“

Photo

ছবি: বোম্বে টু বার্সিলোনা ফেইসবুক পেইজ। অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

দিট্টো টিভি তার জীবনের গল্প নিয়ে একটি ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করেছে:

শেখের বই এবং জীবন নিয়ে মুম্বাইয়ের যোগাযোগ বিষয়ক বিভাগের একদল শিক্ষার্থী একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা বানিয়েছে:

যারা যারা শেখের ক্যাফেতে খেতে গিয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাফে সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

শিভাঙ্গিনি সিং ফেইসবুকে লিখেছেন:

This book costs only 300/-. If you buy it, you are helping Amin Sheikh, a former street kid, build a better life for others who are on the streets.

I just finished reading it. The life story, the journey is deep. Very real, very positive and oh so inspiring!

বইয়ের দাম মাত্র ৩০০ রূপি। আপনি এটা কিনলে আমিন শেখের উপকার হয়। শেখ একসময় পথশিশু ছিল। এখন সে চেষ্টা করছে অন্যান্য পথশিশু, যারা রাস্তাঘাটে জীবন অতিবাহিত করছে, তাদের ভাগ্য বদলে দেয়ার।

আমি সম্প্রতি বইটি পড়ে শেষ করেছি। এটা জীবনের গল্প, যার গভীরতা অনেক বেশি। খুবই সত্যি ঘটনা। এবং ইতিবাচক। যে কাউকে অনুপ্রাণিত করবে।

বোম্বে টু বার্সিলোনা ক্যাফে খুবই আন্তরিক এবং সুন্দর একটি জায়গা।

ড্যানি মোরেজ ফেইসবুকে ক্যাফে নিয়ে খুব চমৎকার একটি রিভিউ লিখেছেন:

Never felt like home at any cafe before, like I did when I visited your cafe…. The ambience, the decor, the snacks… everything is just perfect….. The customer service is something I will never forget… I have always forgotten names of people working in hotels or cafe but at your cafe SAI, I can never forget the hospitality he provided and his name.. All the best…

আমি অনেক ক্যাফেতে গেছি। কিন্তু কোনোটিই কখনো আমার নিজের ঘর বলে মনে হয়নি। কিন্তু আপনার ক্যাফেতে যখন আসি, মনে হয় নিজের ঘরে আছি… ক্যাফের পরিবেশ, সাজসজ্জা, খাবারদাবার… সবকিছুই চমৎকার… তাছাড়া গ্রাহক সেবার কথা কি বলবো, এই ধরনের সেবার কথা আমি ভুলবো না… অন্যান্য ক্যাফে বা হোটেলে যারা কাজ করে, তাদের নাম আমার মনে থাকে না। কিন্তু আপনার ক্যাফের সাই যে ধরনের ক্রেতা-সেবা দিয়েছে, তার কথা আমি কখনো ভুলবো না। শুভকামনা রইলো…

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .