বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

ফুকুশিমা’র বাসিন্দা বললেন, “আমার মতো আর কোনো শিশু’র ক্যান্সার হোক, তা চাই না।“

Fukushima Daiichi

ফুকুশিমার পানির চৌবাচ্চা। আইএইএ ইমেজব্যাংকের অফিসিয়াল ফ্লিকার অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি নেয়া হয়েছে। সিসি বিওয়াই-এসএ ২.০ লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত।

ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকার ইয়ান থমাস অ্যাশ সম্প্রতি ইউটিউবে চার খণ্ডের একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। সে ভিডিওতে জাপানের ফুকুশিমার পারমানবিক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত একজন তরুণীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যার টাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়েছে। ২০১১ সালে মার্চ মাসে জাপানে ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামি আঘাত হানে। এতে করে ফুকুশিমা ডাইচি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের ঠান্ডা করার যন্ত্র বিকল হয়। পারমানবিক চুল্লি শীতল করতে না পারায় চুল্লি গরম হয়ে হাইড্রোজেনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং ৬টি রিঅ্যাক্টরের ৪টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়

বিস্ফোরণ ও বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুনের কারণে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকাজুড়ে পারমানবিক তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। এই ডকুমেন্টারিতে একজন তরুণীর সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। তবে তিনি তার পরিচয় প্রকাশ করতে চান নি। ফুকুশিমা’র বাসিন্দাদের মধ্যে ১৬৬ জনের থাইরয়েড ক্যান্সার সনাক্ত করা হয়েছে। তার সর্বকনিষ্ঠদের একজন ছিল সে।

থাইরয়েড ক্যান্সারের লক্ষণ বৃদ্ধির কারণে কঠোরভাবে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। অ্যাশ জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে ১ এপ্রিলে যাদের বয়স ১৮-২১ বছর ছিল, তাদের মধ্যে ৭৪.৫ শতাংশ থাইরয়েড ক্যান্সারের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করাননি। এরা সবাই পারমানবিক দুর্ঘটনার সময় ফুকুশিমায় ছিলেন।

অ্যাশ সাক্ষাৎকার নেয়ার শুরুতেই বলেছেন, “যেসব পরিবারের ছেলেমেয়েদের এখনো থাইরয়েড ক্যান্সারের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা হয়নি, তাদের অনুপ্রাণিত করতে এই তরুণী সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।”

ইউটিউবে সাক্ষাৎকারের চারখণ্ড আপলোড করা হয়েছে: প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় খণ্ড, চতুর্থ খণ্ড

তরুণী তার ডাক্তারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে তার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। আর কয়েকদিন দেরিতে ধরা পড়লে ক্যান্সার সারা শরীরের ছড়িয়ে পড়তো। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি তার থাইরয়েড অপসারণ করেছেন।

এ বছর থেকে তিনি নার্সারি স্কুলে কাজ শুরু করবেন। তিনি যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছেন, অন্য ছেলেমেয়েরা সেই কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাবে, ভাবতেই তার কষ্ট হয়:

I would hate if any children I taught developed cancer. To tell the truth, I do not want any children to develop cancer like me.

কোনো বাচ্চার ক্যান্সার হয়েছে জানলে আমার খুব খারাপ লাগবে। সত্যি বলতে কি, আমার মতো আর কোনো শিশু’র ক্যান্সার হোক, তা চাই না।

ফিল্মমেকার ইয়ান থমাস অ্যাশ থাকেন টোকিওতে। ২০১১ সালের ১১ মার্চে ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট সুনামি ও পারমানবিক বিপর্যয় পরবর্তী জাপানের জীবনযাত্রা নিয়ে অনেকগুলো স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওচিত্র বানিয়েছেন

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .