বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সোশ্যাল মিডিয়া আন্দোলন ভারতীয় নারীদের গর্বের সাথে শাড়ী পড়তে উৎসাহিত করছে

গঙ্গা নদীর তীরে শাড়ি পরিহিতা ভারতীয় নারী।  ছবি অলেকজান্দর রুপেতার।  সর্বসত্ত্ব ডেমোটিক্স (৮/৮/২০১২)

গঙ্গা নদীর তীরে শাড়ি পরিহিতা ভারতীয় নারী। ছবি অলেকজান্দর রুপেতার। সর্বসত্ত্ব ডেমোটিক্স (৮/৮/২০১২)

দিনে দিনে ভারতীয় নারীরা সনাতন ভারতীয় পোষাকের পরিবর্তে পশ্চিমা পোশাকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এমতাবস্থায় বেশ কিছু অনলাইন এবং অফলাইন প্রচারণা উদ্যোগ শাড়ির জন্য ভালবাসা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

শাড়ি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন মহিলাদের পোশাক। দৈর্ঘ্যে ৪.৫ মিটার থেকে ৮ মিটার ও প্রস্থে এক থেকে দেড় মিটার এর একটি সেলাইবিহীন অভিজাত কাপড়ে এটি সাধারণত তৈরি হয়। শাড়ির ইতিহাস অনেক পুরোনো – সিন্ধু সভ্যতায় (২৮০০-১৮০০ খ্রিস্টপূর্ব) এর অস্তিত্ব ছিল, এবং বর্তমানে ব্যাপকভাবে ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার জাতিগত সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।

আজকাল, ভারতে ফ্যাশনের বিবর্তনে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় পোশাকের সাথে পশ্চিমা পোশাকের মিশ্রণ – যেখানে শার্ট এবং ব্লেজার সঙ্গে স্টাইল করে শাড়িকে পুনরাবিষ্কৃত করা হচ্ছে “শাড়ি-গাউন” হিসেবে। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতীয় নারীরা এখনো দৈনন্দিন জীবনে শাড়ি পরে চলেছেন এবং সেইসাথে বিশেষ অনুষ্ঠানের পোশাক হিশেবে শাড়ি এখনো আবশ্যকীয় রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, মহিলাদের পাশ্চাত্য স্টাইলের পোশাক ক্রমশঃ জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

এছাড়াও আপনার শাড়ি পরা পরা বা না শুধু ফ্যাশন এর বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি গভীর অর্থও বহন করতে পারে। দ্যা লাইভস অ্যান্ড টাইমস অফ অ্যান ইন্ডিয়ান হোম মেকার ব্লগের লেখিকা বলছেনঃ

শাড়ি পরা যেন অনেক ক্ষেত্রেই একটি বাধ্যবাধকতা, কারণ প্রায়ই না শাড়ি পরা একজন মহিলাকে ধরা হয় স্বাধীনচেতা – যেন তাকে ব্যক্তিগত পছন্দ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। [..]

আমি এক মেয়েকে জানতাম যে তার শ্বশুর শাশুড়ি কাছে থাকলে শাড়ি পরত এবং তারা চলে গেলে জিনস এর প্যান্ট পরত। সে বলেছে যে তাদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য এরকম করে সে। [..]

যারা মহিলাদের শুধু শাড়ি পরিহিত দেখতে পছন্দ করে তারা প্রায়ই পশ্চিমা পোশাক পরা মহিলাদের সমালোচনা করে ‘মুক্ত, আধুনিক, পশ্চিমা মনভাবসম্পন্ন’ নারী হিসেবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে শাড়ির জন্য ভালবাসা প্রকাশ করে বেশ কিছু প্রচারণা, সেমিনার ও উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে যা পোশাক হিসেবে শাড়ি সম্পর্কে ভারতীয় নারীকে উৎসাহ প্রদান করেছে। দেবীদিতি নামক একটি সংগঠন শাড়িকে জনপ্রিয় করার জন্য একটি প্রচারের অংশ হিসেবে গত ২৭শে অক্টোবর ২০১৫ দিল্লিতে একটি অভিনব ফ্ল্যাশমব এর আয়োজন করে। এতে প্রায় ৫০জন রঙিন শাড়ি পরিহিত নারী জনপ্রিয় বলিউড নৃত্যের তালে নেচেছেনঃ

#১০০শাড়িপ্যাক্ট

দক্ষিণ ভারতীয় শহর বেঙ্গালুরু অধিবাসী দুই উদ্যোক্তা নারী আলী মাত্থান ও আঞ্জু মুদ্গাল কদম অনুধাবন করেছেন যে ভারতীয় শহুরে নারীরা, যারা কাজ বা পড়াশোনার জন্য বাইরে যান প্রায়শঃ, তারা বর্তমানে খুব কমই শাড়ি পরছেন। তারা যেন জিন্স বা অন্যান্য ব্যবহারিক পশ্চিমা পোশাকে বেশী স্বচ্ছন্দ এবং মনে করেন শাড়ি পরা বেশ ঝামেলার। এই মনোভাবের পরিবর্তন ঘটাতে তারা একটি অঙ্গীকার করেছেন যে এক বছরের মধ্যে ১০০ দিন অন্তত শাড়ি পড়বেন।

এভাবেই #১০০শাড়িপ্যাক্ট আন্দোলনের জন্ম। তারা এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে শাড়ি পরা নিয়ে একটি গল্প, একটি আলোকচিত্র, একটি অনুভূতি বা একটি স্মৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আহবানে সাড়া দিয়ে প্রচুর ভারতীয় নারী ফেসবুক বা টুইটার এর মাধ্যমে এই উদ্যোগে সামিল হয়েছেন।

#দিওয়ালী খুবই মজার ছিল! ১৩ নম্বর শাড়ি পরেছিলাম #১০০শাড়িপ্যাক্ট

করভাচথ এর দিন ৭৯ আর ৮০ নম্বর শাড়ি পরেছি। এম্ব্রয়ডারি করা পেঁয়াজ-গোলাপি রঙের শাড়ি সকালের কনফারেন্সের জন্য আর রংচঙা চাইনিজ সিকু শাড়ি পুজোর জন্যে। #১০০শাড়িপ্যাক্ট

#১০০শাড়িপ্যাক্ট সাইট এছাড়াও শাড়ি নিয়ে বিভিন্ন গল্প জমা নেয় ও প্রকাশ করে।

ভক্তি ভারগভ এই গল্প বলেছেনঃ

বিশ্বাস বিশ্বাস বিশ্বাস … আজ সকালে কি হোল যে নিজেকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম….বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও যখন আপনি আপনার সাধ্যমত চেষ্টা করতে পারেন না, তখন হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে জানবেন যে এটা জীবন এবং মৃত্যুর ব্যপার না। আপনার যা আছে তাই নিয়ে আপনার কাজ চালিয়ে যান। কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল পাবেন। এভাবেই আপনার আত্মবিশ্বাস জন্মাবে এবং এগিয়ে যাবেন। হ্যা, দমে না থেকে আমি চালিয়ে যাব। একটি কাঁথা শাড়ি পরেছি। এটা কলকাতার জন্য আমার ভালবাসা যা প্রায়ই জেগে ওঠে। এই শাড়ির হাতের কাজ খুব ভালো লাগে। এই শাড়ি অনেক দুরে এসেছে – শান্তিনিকেতন থেকে আমার হৃদয়ের কাছে।

#আন্সটিচড: শাড়ি প্রকল্প

#আন্সটিচড: শাড়ি প্রকল্প হচ্ছে টরোন্টো-ভিত্তিক শিল্পী মীরা শেঠির একটি আন্তর্জাতিক ও সহযোগীতামূলক একটি শিল্প প্রকল্প। একটি সেলাইবিহীন কাপড়ের টুকরা – ৫.৫ মিটার শাড়ির মাধ্যমে ১০৮ জন দক্ষিণ এশিয় লোকের মধ্যে (হিন্দু জপমালার একটি সম্পূর্ণ সেটে ১০৮টি বোতাম থাকে) একটি কমিউনিটি তৈরি করবে এই প্রকল্প।

লারেরিয়া বান্ধেজ শাড়ি।  ছবি ভারত সিংহের, ফ্লিকার থেকে।   সিসি বাই-এনসি-এনডি

লারেরিয়া বান্ধেজ শাড়ি। ছবি ভারত সিংহের, ফ্লিকার থেকে। সিসি বাই-এনসি-এনডি

এই প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীরা একটি শাড়ি, একটি সায়া, নির্দেশাবলী সহ একটি ক্যামেরা এবং নির্দেশাবলীসহ একটি নোটবুক সমেত একটি বাক্স পায়। তারা যদি বাক্সটি রাখতে চান তাহলে তাদের এই শাড়ি পড়তে হবে ও তার ছবি তুলে সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করতে হবে এবং নোটবুকের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করতে হবে। এই প্রকল্পটি যাত্রা শুরু করেছে এবং এখানে এ সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে।

#শাড়িনটসরি

যুক্তরাষ্ট্রের রিভারসাইড এ অবস্থিত ইউনিভারসিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক তানিয়া রাওয়াল গত সেপ্টেম্বর মাসে #শাড়ি নট সরি নামে সামাজিক মিডিয়ায় একটি অভিযান শুরু করে। তিনি ভারতে একটি সাম্প্রতিক অবকাশ কাটানোর পর ইন্সটাগ্রামে তার শাড়ি পরা ছবি শেয়ার করা শুরু করেন এবং অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। শীঘ্রই এটি একটি আন্দোলনে পরিণত হয় যাতে অন্যান্য ভারতীয়-আমেরিকান নারীরা তাদের ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি হীনমন্যতার প্রতিবাদ হিসেবে আমেরিকায় ঐতিহ্যগত ভারতীয় পোশাক পরে চলেছেন।

রাওয়াল মিডিয়াম এ প্রকাশিত “#শাড়ি নট সরি, আমার স্বপ্নরা সব হিংলিশ” শিরোনামে একটি সাম্প্রতিক প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করেছেনঃ “সময় হয়েছে – আমাদের চামড়ার রঙ, ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য আর ক্ষমা চাওয়া নয়।” তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ইতিহাস আলিঙ্গন করা দরকার এ ধরনের বলিষ্ঠ পদক্ষেপের জন্যে।

অনেকে সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করে তার কথা ছড়িয়ে দিচ্ছেনঃ

#শাড়ি নট সরি

#দিওয়ালীর সন্ধ্যায় – আমি এবং আমার জগৎ।

Sreet Bhatt, an expat Indian in Australia, writes about the impetus for all these campaigns in support of the saree:

We, along with the younger generation of India should make it a point to wear Saree more often, not wait for reasons to drape it rather make it a reason to celebrate our ethnicity and femininity.

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক ভারতীয় নারী শ্রিত ভাট শাড়ির সমর্থনে এসব প্রচারণার জন্য প্রেরণা সম্পর্কে লিখেছেন:

ভারতের তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি আমরাও আওয়াজ তুলতে চাই যে আরো ঘন ঘন শাড়ী পরতে হবে এবং তা কোন উৎসব বা উপলক্ষ ব্যাতিরেকেই। আমাদের জাতিগত ঐতিহ্য এবং নারীত্বের উদযাপন হোক শাড়ি পড়ার মাধ্যমে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .