বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

চীনের পুলিশেরা স্পাইওয়্যার কিনছে –আর সেগুলোর দরপত্র অনলাইনে পোস্ট করছে

Screen capture of Wenzhou police's purchase order of Trojan spyware that targets at Android moble phone and jailbreak iphone.

ওয়েনঝোহু পুলিশের নজরদারী সফটওয়্যার টুলস ক্রয়েরপত্রের (পারচেজ অর্ডার)-ছবি।

এই বিষয়টি এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে যে চীনা কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অনলাইন এবং মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নাগরিকদের প্রতি গোয়েন্দাগিরি নজর রাখছে। তারপরে এই অনুশীলনের শক্ত প্রমাণ এখনো অবিশ্বাস্য ঠেকে।

৭ জানুয়ারি তারিখে, বেইজিং-এর সংবাদপত্র জিনহুয়া টাইমস একটি নজরদারী সফটওয়ার কেনার আদেশপত্র প্রকাশ করেছে, সংবাদে জানা গেছে যে স্থানীয় এক পুলিশ বিভাগ যা ওয়েবোতে তৈরী করেছে। এখন নেট নাগরিকেরা দেখতে পাবে ঠিক কি ধরনের নজরদারি টুলস পুলিশ বিভাগ ব্যবহার করছে, আর এর জন্য তারা ঠিক কত টাকা প্রদান করে।

জিনহুয়া টাইমস ওয়েব ওয়েনঝুহু সাইটে এই ক্রয়পত্রটি খুঁজে যায়, তারা তারা এই আদেশের স্ক্রিনের ছবি তুলে নেয় এবং এর উৎপত্তির বিস্তারিত ব্যাখ্যা সহ স্যোশাল মিডিয়ায় তা পোস্ট করে দেয়। এই ক্রয়পত্রে দুটি জিনিষ রয়েছেঃ মোবাইল ফোনে ট্রোজান প্রবেশ করানোর সফটওয়্যার, এবং মোবাইল ফোনের আলাপচারিতা, বার্তা ও আদান প্রদানের এবং এ্যান্ড্রয়েড ফোনের ছবিবার্তা আদান প্রদানের বিষয়ে গোয়েন্দাগিরি করার জন্য এবং আই ফোনের জেল ব্রেকিং (কোড ভাঙ্গা)-এর জন্য ট্রোজান কিনেছে। প্রথম উপাদানটির জন্য খরচ পড়েছে ১০০,০০০ আরএমবি (প্রায় ১৬,০০০ মার্কিন ডলার) এবং দ্বিতীয় উপাদানটির দাম ৪৯,০০ আরএমবি (প্রায় ৮০০ মার্কিন ডলার) ।

যখন এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে, তখন পুলিশ বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে ক্রয়পত্রটি সরিয়ে নেওয়া হয়। টুইটার ব্যবহারকারী@বেইডাইজিন স্যোশাল মিডিয়ায় অন্য স্থানীয় পুলিশ বিভাগের ক্রয়পত্রের ছবি খুঁজে পেয়েছে, যারা কর দাতাদের অর্থ নজরদারির কাজে ব্যবহার করছে এবং জনমতকে চ্যালেঞ্জ করছে:

প্রথম ছবিটি ওয়েনঝুর অর্থনীতি এবং উন্নয়ন এলাকার উপ শাখা জন নিরাপত্তা বিভাগের। দ্বিতীয় ছবিটি তিয়ানজিন সরকারের ক্রয়পত্র। তৃতীয় ছবিটি তাইআন নগর পরিষদের ক্রয়পত্র:

তিয়ানজিন সরকারের কেনা জিনিসটি হচ্ছে একটি সফটওয়্যার টুলস যা বিদেশের টুইটার, ফেসবুক , গুগল প্লাস সহ স্যোশাল মিডিয়ার বার্তা সংগ্রহ করে। তাইআন শহরের কর্তৃপক্ষ ডাটা সংগ্রহ এবং কন্টেন্ট পোস্ট করার সফটওয়্যার ক্রয় করেছে, যার উদ্দেশ্যে চীনে এবং বিদেশের নয়টি প্রধান স্যোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে গণমতামতের ক্ষেত্রে ভিন্ন আরেক মত তৈরীতে সাহায্য করা।

ফাইলটাইপে গিয়ে খুব সাধারণ এক অনুসন্ধান এবং “টুইটার”, “ ইনফরমেশন” এবং “ ক্রয়” শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে @বেইডাইজিন চীনের ডজন খানেক স্থানীয় সরকার খুঁজে পায়, যারা স্যোশাল মিডিয়ায় নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার কিনেছে:

অনুসন্ধানের জন্য যে সমস্ত শব্দ লেখা হয়েছিল তা হচ্ছে “ফাইলটাইপ: ডক সাইটঃগভ.সিন, টুইটারে তথ্য ক্রয়” (“filetype:doc site:.gov.cn twitter information purchase”)। যেমনটা স্ক্রিন থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যাচ্ছে তাইআন, কুইডং, শানডং, হুলুনবুরি, ওরদোস সিটি, নানজিং, নাননিং, হেফেই, চ্যাংঝু, কিংইয়ুয়ান, ইয়ানচেং তিয়ানজিন এবং ইত্যাদির স্থানীয় সরকার বিদেশী স্যোশাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করার উদ্দেশ্যে নজরদারি সফটওয়্যার কেনার জন্য ক্রয়পত্র পোস্ট করেছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .