বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

যানজট থেকে মুক্তি পেতে ঢাকাবাসী সাইকেলে আশ্রয় খুঁজছে

Traffic jam is a regular feature in Dhaka city. Image by Firoz Ahmed. Copyright: Demotix (25/7/2012)

যানজট ঢাকা শহরের নৈমিত্তিক ঘটনা। ছবি তুলেছেন ফিরোজ আহমেদ। স্বত্ত্ব: ডেমোটিক্স (২৫/৭/২০১২)

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা’র বয়স ৪০০ বছরের বেশি। আয়তন ৩৫০ বর্গকিলোমিটার। আর লোকসংখ্যা প্রায় ১৮ মিলিয়ন। এতো ছোট জায়গায় এই পরিমাণ মানুষের বসবাস সত্যিই অবিশ্বাস্য!

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মতেও, বিশ্বের বসবাস অযোগ্য শহরগুলির একটি ঢাকা। আর এর পিছনে অনেক কারণগুলির অন্যতম যে অসহনীয় যানজট তা বলাইবাহুল্য। যে কেউ ঢাকায় বেড়াতে এলে গাড়িগুলোর হামাগুড়ি দিয়ে চলা নজরে পড়বে। এই শহর কোনোভাবেই ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, দিন দিন এটি মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই যানজট থেকে মুক্তি পেতে অনেকে এখন সাইকেলে আশ্রয় খুঁজছেন।

এদের একজন ব্লগার পলাশ রঞ্জন সান্যাল। তিনি ঢাকা টিব্রিউন ব্লগে লিখেছেন:

One morning, I was waiting for to take a rickshaw to the university I attended and I was getting late for the exam that had been scheduled for that day. I waited, waited and waited…

Then suddenly I had the idea that I could use my bicycle. I did that and it took me only ten minutes to get the university, a journey that would usually take about half an hour.

That was it. The start. From that day, I cycle everywhere. It saves enormous amount of time and money. Some days, I do not have my wallet on me and I don’t even notice it.

একদিন সকালবেলার ঘটনা। ভার্সিটিতে যাবো। রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু রিক্সা পাচ্ছি না। এদিকে পরীক্ষার সময় চলে যাচ্ছে…

তখনই আইডিয়াটি আসলো। আমি সাইকেলে করে যাচ্ছি না কেন! তারপরে তাই করলাম। এখন আমার ভার্সিটিতে যেতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগে। রিক্সায় গেলে এই পথ আধা ঘণ্টায় শেষ হতো না।

সেই থেকে শুরু। এখন আমি যেকোনো জায়গায় যেতে সাইকেল ব্যবহার করি। আমার সময় যেমন বেঁচে গেছে, তেমনি টাকাও বেঁচে গেছে। আমি যে ম্যানিবাগ নিয়ে বের হইনি সেটাই কোনো কোনোদিন মনে থাকে না।

ক্যাডেট কলেজ ব্লগে সন্ধি সাইকেলে স্বস্তি খুঁজে পাওয়ার কথা বলেছেন:

ঢাকা শহরের অবস্থা দিন দিন যেদিকে এগুচ্ছে, বাসে বা রিক্সায় চলাফেরা করাটা যেমন কষ্টসাধ্য, তেমন ব্যয়বহুল। আর জ্যামে বসে থেকে তো নাভিশ্বাস উঠে যায় মানুষের। তার মাঝে আমার সাইকেলখানা যেন স্বর্গের বাহন রূপে দেখা দিল। হল থেকে ক্লাস, রাত-বিরাতে বাইরে খেতে যাওয়া, গৃহশিক্ষকতায় এত কম সময়ে, কম কষ্টে সহজে পৌঁছানোর এত সুন্দর উপায় খুঁজে পেয়ে আমার জীবনে যেন স্বস্তি নেমে আসল।

A cycle procession on Dhaka University campus, for World Cycling Day 2012 and demanding a lane for cycle riders in the Dhaka streets. Image by Firoz Ahmed. Copyright Demotic (18/9/2012)

বিশ্ব সাইক্লিং দিবস ২০১২ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাইকেল র‌্যালি। সেখানে ঢাকার রাস্তায় আলাদা সাইকেল লেনের দাবি করা হয়। ছবি তুলেছেন ফিরোজ আহমেদ। স্বত্ত্ব: ডেমোটিক্স (১৮/৯/২০১২)

সাইকেল বিপ্লব
সাইকেল ঢাকা শহরের পুরোনো বাহন হলেও ২০১১ সাল থেকে এটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। আর জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছেন মোজাম্মেল হক নামের একজন ব্যক্তি। তিনি পেশায় চাকরিজীবী। প্রতিদিন অফিসে আসতে যানজটে পড়ে তার এক-দেড় ঘণ্টা সময় নষ্ট হতো। এ থেকে মুক্তি পেতে বাইসাইকেল কিনলেন। তার দেখাদিখি আরো অনেকেই। তারপর তারা মিলে বিডিসাইক্লিস্ট বলে একটি সংগঠন গড়ে তুললেন। গঠনের তিন বছরের মধ্যেই সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে। সংগঠনটি ফেসবুকে বেশ সক্রিয় রয়েছে। সেখানে সাইক্লিং নিয়ে তারা নানা ধরনের সলাপরামর্শ করে থাকেন। বিডিসাইক্লিস্ট-এর ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে:

We are neither an elite athlete group, nor people who are training to compete in races. We are just general people like you who is either a student, a service holder, a business person having a common goal of staying healthy in this stressful Dhaka life and ride for recreation, health, and sheer fun.

আমরা কোনো অভিজাত ক্রীড়াবিদ নই, প্রতিযোগিতায় নামতে আমরা কা্উকেই প্রশিক্ষণ দেই না। আমরা কেউ শিক্ষার্থী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী; আমরা খুব সাধারণ মানুষ। তবে আমাদের সবারই একটি সাধারণ লক্ষ্য আছে। আমরা ঢাকার মতো অসহনীয় শহরে স্বাস্থ্যকর জীবন কাটাতে চাই। আমরা স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে, আনন্দ পেতে সাইকেল চালাতে চাই।

বিডিসাইক্লিস্ট নিয়মিতভাবে বাইক ফ্রাইডে, ক্রিটিক্যাল ম্যাস, জোশিলা সাটারডে, বিডিসি নাইটরাইডার্স, বিগিনার্স লেসন এবং অ্যানুয়াল গ্র্যান্ড রেস-এর আয়োজন করে থাকে। ১০-২০ কিলোমিটার রাইডে সাধারণত: ৪ হাজারের মতো সাইক্লিস্ট যোগ দিয়ে থাকেন।

বিডিসাইক্লিস্ট ঢাকাকে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের কাছে সাইকেলের নগরী পরিচয় করিয়ে দিতে কাজ করছে। ব্লগার আমিনুল ইসলাম সজীব বিডিসাইক্লিস্টের সাথে প্রথম দিনের সাইকেল চালনা কেমন হয়েছে, তা শেয়ার করেছেন:

I’m not a rider yet, still I feel like starting to get out. I haven’t begun cycling yet, still I had so much fun at today’s session that I can actually imagine how fun it would be to go out on an actual ride.

আমি এখনো সাইকেল চালক হয়ে উঠতে পারিনি। তবে ইচ্ছে করে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে। আমি এখনো সাইকেল চালানো শুরু করিনি। আজকের সেশনে ব্যাপক মজা হয়েছে। আমি মনে মনে কল্পনা করছি, যেদিন সত্যি সত্যি সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়বো, সেদিন না জানি কতো মজা হবে।

বিডিসাইক্লিস্ট কমিউনিটির সদস্য ইকবাল হোসেন ইউটিউবের এই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন:

দ্বিচক্রযানে নারী

আমাদের দেশের মেয়েরা রাস্তায় প্রায়ই নানা ধরনের অশোভন আচরণের মুখোমুখি হন। তারাও আজ সাইকেলে করে রাস্তায় নেমেছেন। বিডিসাইক্লিস্টে একশ'র বেশি নারী সদস্য রয়েছে। তারাও নিয়মিতভাবে রাস্তায় বাইক নিয়ে নেমে পড়েন।
যাযাবর ব্যাকপ্যাকার ঢাকার বাইরে থাকেন। শিক্ষকতা করেন। তিনি সাইকেল নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা নিয়ে সচলায়তন ব্লগে লিখেছেন:

আমাদের আবাসিক এলাকার কাছেই আর একটা এলাকা আছে, সেটা ঠিক বস্তি নয়, দিনমজুর-গেরস্ত নানারকম মানুষ থাকেন। কেউ কেউ মোটামুটি ভালোই জীবনযাপন করেন, গরু-ছাগল পোষেন। গত বছর নতুন সাইকেল কেনার পরপরই ঐদিকে গিয়েছিলাম রাস্তা এক্সপ্লোর করতে। বারদুয়েক চক্কর দেয়ার পরে তৃতীয়বার দেখি টিন-ছনের ঘরগুলোর কাছে একটা ছোটখাটো জটলা। সেখানে ছোট-বড়-বুড়ো সকলেই আছেন। আমি কাছে যেতেই হাসি দিলো কয়েকজন, কোনরকম ঠাট্টা নয়, উৎসাহজনক হাসি রীতিমতো।

বাংলাদেশে সাইকেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকার সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ার এই প্রবণতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিকে সাইকেল চালকরা রাস্তায় সাইকেলের জন্য একটি লেন বরাদ্দ করার দাবি করেছেন। তবে পথচারী এবং হকাররা যেভাবে ফুটপাত ছাড়াও রাস্তা দখল করে রেখেছেন, সেখানে এই দাবি পূরণ করা আসলেই কঠিন।

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ করা হয়েছে।