বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

চীন, দূষণ আর ক্যান্সার আক্রান্ত গ্রাম

চীনের সবচেয়ে বড়ো ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের একজন ম ইয়ান। তিনি হুঁশিয়ারি করে দিয়ে বলেছেন, যত টাকা খরচ করা হোক না কেন, দূষণজনিত কারণে ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়া থেকে চীনের মানুষদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না। তার এই সতর্কবাণী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এদের অনেকেই দেশের বায়ুদূষণ, পানিদূষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন।

ইয়াবুলি চীনা উদ্যোক্তা ফোরামের ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় চীনের নেতৃত্বশীল ই-কমার্স কোম্পানির আলীবাবা'র প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তার বক্তব্যে দূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা এড়িয়ে কোনো ব্যবসা সুযোগ তৈরি না করার আহবান জানান। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী ১০ বছরে চীনের প্রতিটি পরিবার ক্যান্সার সমস্যায় ভুগবে।

বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন। তিনি আশাবাদী যে, জনগণ শুধুমাত্র সরকারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাও আরো বেশি পরিবেশ সচেতন হয়ে উঠবে:

On Sina Weibo, Global Times shared news about the map of China’s “cancer villages”.

সিনা উইবোতে গ্লোবাল টাইমস চীনের “ক্যান্সার গ্রামের” মানচিত্র শেয়ার করেছেন।

有多少人30年以前,有多少人知道我们边上谁谁谁有癌症,那个时候癌症是一个稀有的名词,今天癌症变成了一种常态。肝癌,可能是因为水;肺癌是因为我们的空气;胃癌,是我们的食物。特权阶级有特权的水,这次没有特供的空气了。我担心我们这么辛苦,最后所有挣的钱最后都是医药费。不管你挣多少钱,享受不到沐浴阳光,其实是很大的悲哀。

আজ থেকে ৩০ বছর আগে কারো ক্যান্সার হয়েছে এ কথা কয়জন শুনেছেন? সে সময়ে ক্যান্সার শব্দটা ছিল অপরিচিত। আর এখন এটা খুব সাধারণ একটা অসুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুষিত পানি পান করার কারণে লিভার ক্যান্সার, বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসে ক্যান্সার, ভেজাল খাবারের কারণে গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার হয়ে থাকে। যাদের টাকা আছে, তারা পরিষ্কার পানি খেতে পারেন। কিন্তু তারা চাইলেই দূষণমুক্ত বাতাস পাবেন না। আমি খুবই চিন্তিত। আমরা সবাই কঠোর পরিশ্রম করছি। চিকিত্সাসেবার খরচ মেটানোর মতো টাকাও হয়তো রোজগার করছি। কিন্তু ঘটনা সেটা না আপনি কতটা রোজগার করছেন- আপনি যদি ভোরের সূর্যের আগমনী আবহ-ই দেখতে না পান, কী লাভ টাকা কামিয়ে। সত্যিই এটা একটা ট্র্যাজেডি।

চাইজিং নিউজ এই বক্তব্য চীনের মাইক্রোব্লগিং সাইট সিনা উইবোতে শেয়ার করেন। শেয়ার করার পরেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। একদিনের মধ্যেই তা ৯৯,১৩৬ বার রিপোস্ট এবং ১৬,৬৭৬টি মন্তব্য পড়ে।

একজন উইবো ব্যবহারকারী“绿色传承生命 মন্তব্য করেন:

不需要十年,目前各地癌症村屡见不鲜、雾霾使北京癌病增长率是同期的67%。污染的灾难比我们估计来得更汹涌澎湃!

আমাদের দশ বছর পরে যাওয়ার দরকার নেই। এখনই অনেক “ক্যান্সার গ্রাম” রয়েছে। বেইজিংয়ের ধোঁয়া ক্যান্সার হার ৬৭% বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা যা ধারণা করছি, দূষণের ফলে তার চেয়েও ভয়ংকর দুর্যোগ দেখা দিবে।

অন্য একজন ব্যবহারকারী “高歌一曲abc” লিখেছেন [zh]:

这就是我选择去探女的原因。希望每年都有机会换下食品质量、空气清新、阳光的普照,使自己健康点,长寿点。

এজন্যই প্রতিবছর আমাদের মেয়েদের দেখতে আমরা বিদেশ যাই। আমরা আশা করি, প্রতিবছর বিদেশ গিয়ে আমরা মানসম্মত খাবারদাবার খেতে পারবো, নির্মল বাতাস উপভোগ করতে পারবো, উজ্জ্বল রোদ গায়ে মাখতে পারবো। আর এ কারণেই আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং বেশি দিন বাঁচতে পারবো।

ক্যান্সার নিয়ে ম ইয়ানের বক্তব্য অতিরঞ্জিত নয়। সিনা উইবোতে ম ইয়ানের বক্তব্যের দিনেই কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র বলে পরিচিত গ্লোবাল টাইমসও চীনের “ক্যান্সার গ্রাম” এর মানচিত্র শেয়ার করেছে:

据京华时报,不久前,环保部印发了《化学品环境风险防控“十二五”规划》,其中明确表示,因受有毒化学品污染,个别地区出现“癌症村”等严重的健康和社会问题。而据媒体人@邓飞 ,这些严重化学污染下所出现的”癌症村”,正在从中东部个别地区,向中西部转移。

বেইজিং টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত “টুয়েলভ ফাইভ-ইয়ার প্ল্যান ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অব এনভায়রনমেন্টাল রিস্কস ফ্রম কেমিক্যালস” প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কেমিক্যাল বিষের কারণেই “ক্যান্সারের গ্রাম” এবং আরো কিছু এলাকায় স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাদুর্ভাব ঘটছে। সাংবাদিক দেং ফেইয়ের মতে, মধ্য পূর্ব চীন থেকে মধ্য পশ্চিম চীনে এই “ক্যান্সারের গ্রাম” ছড়িয়ে পড়ছে।

ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখে ইউথ টাইমস একই রকমের আরেকটি মানচিত্র শেয়ার করে। সেখানে দেখা গেছে, চীনে একেক ধরনের ক্যান্সার একেক অঞ্চলে উচ্চ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মানচিত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেখা যাচ্ছে, সাংহাইয়ের মতো পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলোতে গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার হওয়ার হার অনেক বেশি। আবার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে লিভার ক্যান্সার হওয়ার হার বেশি। তাছাড়া চীনে ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রতি ৫ মিনিটে ৬ জনের ক্যান্সার ধরা পড়ছে। আর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রতি ৫ মিনিটে ৫ জন মারা যাচ্ছেন। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যান্সারে উচ্চ হার হওয়ার কারণ অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। সাথে স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড়ো ঝুঁকি পরিবেশের দূষণ তো রয়েছেই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .