বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সিঙ্গাপুরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ব্লগারদের নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত

গত ৮ জুন ২০১৩ তারিখে সিঙ্গাপুরের হং লিম পার্কে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ২ হাজার জনতা অংশ নেন। অনলাইন সংবাদপত্রের জন্য নতুন নিবন্ধন আইনের প্রতিবাদে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ‘ফ্রি মাই ইন্টারনেট‘ মুভমেন্ট। ব্লগারদের নেতৃত্বে সিঙ্গাপুরে এটাই সবচে’ বড়ো প্রতিবাদ সভা।

অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন এই আইনটি প্রণয়ন করে মিডিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটি (এমডিএ)। নতুন আইনে বলা হয়, যেসব ওয়েবসাইটে মাসে ৫০ হাজার ইউনিক ভিজিটর আসে, তাদের নিবন্ধন করতে হবে। এছাড়াও তাদেরকে ‘পারফর্মেন্স বন্ড’ হিসেবে ৫০ হাজার ডলার জমা রাখতে হবে। ওয়েবসাইটে কোনো বিতর্কিত লেখা থাকলে, সরকার নির্দেশ দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। এমডিএ ১০টি সাইট খুঁজে বের করেছে, যাদেরকে এই রুল মেনে চলতে হবে। সাইটগুলোর মধ্যে ইয়াহু! সিঙ্গাপুর-ও রয়েছে।

শনিবারের এই প্রতিবাদ কর্মসূচীর আগে, ১৬০টির বেশি ব্লগ ‌'ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচীর মাধ্যমে এই আইনের প্রতিবাদ জানায়। যদিও সরকারের তরফ থেকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, ব্লগগুলো এই আইনের আওতায় পড়বে না। তবে নেটিজেনরা একে ইন্টারনেট এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি বলে মনে করছে। নিচের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকটি ব্লগ তাদের নীড়পাতা কালো রেখে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচী শেষে ‘ফ্রি মাই ইন্টারনেট’ মুভমেন্ট এই বিবৃতি প্রকাশ করে:

ক্যাম্পেইনের সফলতা মানেই বিজয় নয়। #ফ্রিমাইইন্টারনেট মাত্র কয়েক দিনের নোটিশে তৈরী হয়েছে। এবং দেড় সপ্তাহের মধ্যে তিনটি ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে। সবার স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব ছাড়াই #ফ্রিমাইইন্টারনেট মুভমেন্ট আশাতীত সফলতা পেয়েছে।

সামনের সপ্তাহগুলোতে সাধারণ জনতা এবং সংসদ সদস্যদের জানানোর জন্য আমরা কিছু ম্যাটেরিয়াল তৈরী করবো এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো। এগুলোর মূল উদ্দেশ্য থাকবে, কেন নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম তুলে নেয়া জরুরি।

আমরা সরকারের সাথে সংলাপ বাতিল করবো না, কিন্তু এই সংলাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম কিভাবে তুলে নেয়া যায়, তাই হবে আলোচনার ইস্যু। তাছাড়া, সংলাপের আরো একটি উদ্দেশ্য হবে নিয়ন্ত্রণহীন মিডিয়া পরিবেশের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরবাসী কীভাবে সুবিধা পেতে পারে, তা জানানো।

Photo from Flickr page of Raymond Lau

ছবি নেয়া হয়েছে রেমন্ড লাোয়ের ফ্লিকার পেজ থেকে।

আইন তুলে নেয়ার জন্য কিছু ছাত্র যোগাযোগ এবং তথ্যমন্ত্রীর প্রতি চ্যালেঞ্জ করেছে:

গণযোগাযোগের তরুণ শিক্ষার্থী এবং চর্চাকারী হিসেবে আমাদের মনে হচ্ছে রাষ্ট্র নতুন এই আইন বা ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে শুধু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপই নয়, যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাদের সবারই মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

আমাদের বাধ্য করার প্রচেষ্টায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তরুণ সিঙ্গাপুরিয়ান হিসেবে আমরা যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ সাইটগুলোকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখুন। তিনি যদি এটা না করেন, তাহলে আমাদের সাথে সংলাপের আয়োজন করে বলুন, কেন তিনি পারবেন না।

আর্টিকেল ১৪ এই প্রচারণার সাফল্যকে হাইলাইটস করেছে:

…খুব কম হলেও এই সপ্তাহে আমাদের মূল্যবান অর্জন হলো ব্লগিং কমিউনিটি পরিষ্কার বার্তা দিতে পেরেছে, আমরা আমাদের সীমিত গণ্ডিকেও মূল্য দিই এবং এটাকে খুব সহজে ছেড়ে দিবো না।

আর এটাই অনলাইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছে।

Photo from Flickr page of Raymond Lau

রেমন্ড লাউয়ের ফ্লিকার পেজ থেকে ছবি নেয়া হয়েছে।

থট অব অ্যা সিনিকাল ইনভেস্টর তার পোস্টে সংগঠকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন:

মাত্র এক সপ্তাহের কম সময়ে নোটিশে ২০০০ থেকে ২৫০০ সিঙ্গাপুরবাসীকে জড়ো করতে পারা কম কথা নয়, এটা সংগঠকদের চমৎকার অর্জন। এটা তাদের একটা কীর্তি।

রাভি ফিলমন ঘোষণা করেছেন, আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরের সাধারণ নেটিজেনরা:

আমাদের আন্দোলন এটা। কারণ নতুন এই আইন সরকারকে ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেয়ার সীমাহীন ক্ষমতা দিয়েছে। কেউ-ই জানে না ট্র্যাফিক মনিটরিং টুলস এবং পারসেপশন-বেজড সার্ভে’ সম্পর্কে। এমনকি ঈশ্বরও জানেন না- এই টুলসগুলোর কী আর কোনটিইবা অনলাইন সংবাদ সাইট আর কোনটি নয়।

অ্যারন কোহ এই আন্দোলনের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়েছেন:

আমি আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। বক্তাদের কথা শুনে বেশ অনুপ্রাণিত বোধ করেছি। বক্তৃতাকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই ব্লগার ছিলেন। তারা মিডিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটি প্রবর্তিত ইন্টারনেটে পরিচালিত সংবাদ মাধ্যমের নিবন্ধন স্ক্রিম নিয়ে যথেষ্ট অবগত ছিলেন। তাছাড়া আইনটি সংবাদ এবং জনগণের সাথে পরামর্শ না করেই যেভাবে সাততাড়াতাড়ি আইনে রূপান্তরিত হচ্ছে, সেটা নিয়েও অবগত ছিলেন।

পলিটিক্যাল রাইটিং সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই ক্ষুদ্র প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়:

প্রতিবাদ কর্মসূচী হলো পলিসি পরিবর্তন করার জন্য বৈধ উপায়ে শক্তি দেখানো অথবা আলাদা বিষয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন চাওয়া। সিঙ্গাপুরবাসীকে এটা উপলদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ যে, হং লিম পার্ক স্টাইলে প্রতিবাদ কোনো কিছুরই পরিবর্তন আনবে না।

এই আন্দোলনে অংশ নেয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করেছেন লিম জিয়ালিং:

সক্রিয় অংশগ্রহণ আপনাকে গর্বিত করবে এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণে কোনো প্রাপ্তি না হলেও। চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো ভুল নেই। বরং একে অন্যের বিরুদ্ধে অথবা যারা অসত্য এবং উদ্দেশ্যহীন আইনের বিরুদ্ধে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, তাদের পরিশ্রমকে খাটো করলে তখনই ভুল হবে। তখন গণতান্ত্রিক কণ্ঠের পরিবর্তে দমবন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .