বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নাইজেরিয়া: শান্তিতে ঘুমাক আফ্রিকার ফুটবল কিংবদন্তী রশিদী ইয়েকিনি

গত সপ্তাহের শেষের দিকে আফ্রিকা তার সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবল বীর রশিদী ইয়েকিনিকে হারিয়েছে। কয়েকটি ক্লাবে খেলা এবং আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ও বিশ্বকাপ উভয় ক্ষেত্রে নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার পর তিনি বিস্মৃতির গহবরে হারিয়ে গিয়ে পৃথিবীর অজান্তে মানসিক অসুস্থতায় ভুগে মৃত্যুবরণ করেন।

“রশিদী ইয়েকিনি ১৯৬৩-২০১২” শিরোনামে একটি বিস্তারিত পোস্টে অপ্টিমাম স্পোর্টস বলেছে:

তিনি বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার সর্বপ্রথম গোলটি করেন ইউএসএ ’৯৪-তে বুলগেরিয়া বিরুদ্ধে এবং একইভাবে তিনি সেই বছরেই তাদের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস জয়লাভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। “ইয়েকিনির চমৎকার দক্ষতা ও প্রতিভা বিশ্বের কাছে প্রমাণিত ছিল,” বলেন সিএএফ (আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশন) সভাপতি ঈসা হায়াতু

রশিদী ইয়েকিনি - নাইজেরিয়ার ফুটবল কিংবদন্তি

রশিদী ইয়েকিনি – নাইজেরিয়ার ফুটবল কিংবদন্তি। ছবির উৎস গোল.কম

তারা বলছিলেন আরো:

৫৮ খেলায় ৩৭ গোল দিয়ে তিনি নাইজেরিয়ার শীর্ষ আন্তর্জাতিক গোলদাতা। ক্লাব ফুটবলেও তিনি ছিলেন ফলবান গোলদাতা – অন্যান্য ক্লাবের মধ্যে তিনি নাইজেরিয়ার শুটিং স্টার, আইভরি কোস্টের আফ্রিকা স্পোর্টস এবং পর্তুগালের ভিতোরিয়া সেতুবালের হয়ে বিশাল সফলতা লাভ করেছিলেন।

নাইজেরিয়ার গোল মেশিনকে উৎসর্গ করে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে নাইজা-থিংস লিখেছেন:

আরেকজন নাইজা বীরের পতন হলো এই তো শুক্রবার ৪ঠা মে, ২০১২ তারিখে। বর্তমান পর্যন্ত দুই বছর মানসিক রোগে ভোগার পর অবশেষে রশিদী ইয়েকিনি চলে গেলেন

এছাড়াও গাম্বিয়া থেকে নর্থ ব্যাংক ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড তার খেলোয়াড়ী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভাগাভাগি করেছে:

একজন নাইজেরীয় আন্তর্জাতিক হিসেবে ইয়েকিনি প্রায় ৪০টি গোল এবং দেশের পক্ষে বিশ্বকাপে সর্বপ্রথম গোলটি করাসহ ২টি বিশ্বকাপ মিলে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় জাতির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও একবার তিনি আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবল খেলোয়াড় হয়েছিলেন।

নীচের ইউটিউব ভিডিওটিতে: রশিদী ইয়েকিনিকে বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার পক্ষে সর্বপ্রথম গোলটি করতে দেখা যাচ্ছে:

ম্যাক্সিবিটস সাবেক খেলোয়াড় সহকর্মীদের বিবৃতিগুলো সংকলিত করেন:

সুপার ঈগলের সাবেক গোলরক্ষক ইকে শোরুনমু স্যাটারডে ট্রিবিউনকে ‘খুবই দু:খজনক হলেও সত্য বিষয়টি হলো যে আমাদের প্রিয় রশিদী ইয়েকিনি এখন মৃত,’ একথা নিশ্চিত করে বিলাপ করেছেন। ‘তিনি ইবাদানের একটি বেসরকারী হাসপাতালে মারা যান। ইয়েকিনির একটি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসা একজন মহিলা আমাকে এই দুঃখজনক খবরটি দিয়ে বলেছেন যে তিনি (ইয়েকিনি) আজকে কওয়ারা রাজ্যের ইরা’তে সমাহিত হবেন’, জানিয়েছেন শোরুনমু।

জিস্ট ওনলি বরং একটি বিতর্কিত শিরোনাম “মরহুম রশিদী ইয়েকিনির স্ত্রী তার মৃত্যুর জন্যে মিডিয়াকে দুষছেন” দিয়ে লিখেছে:

রশিদী ইয়েকিনির একজন সাবেক স্ত্রী আদেওলা বলেছেন সুপার ঈগলের মরহুম তারকা হয়তো আরো বেশি কিছুদিন বাঁচতেন মিডিয়া যদি তাকে শান্তিতে রাখতো। ওসোগবো-ভিত্তিক ইয়েকিনির দ্বিতীয় কন্যার মাতা মারিয়াম বলেছেন যে সারাক্ষণ তার ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলিয়েছে এবং তার বিনয়কে অপব্যবহার করেছে”
আফ্রিকার ফুটবল খেলা আসলেই তার সবচেয়ে বর্ণাঢ্য একজন ফুটবল খেলোয়াড়কে হারিয়েছে। সাম্প্রতিককালে দুর্বল দক্ষতা প্রদর্শনের কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলে খারাপ সময় পার করলেও নাইজেরিয়া একজন মহান অনুকরণীয় আদর্শকে হারিয়েছে যিনি মাঠে অদম্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের জন্যে আমাদের স্মৃতিতে চিরজাগরূক থাকবেন।

তুন্দে “রশিদী ইয়েকিনির শেষ দিনগুলির অকথিত গল্প” সম্পর্কে লিখেছেন:

প্রতিবেশী এবং সহযোগীদের বর্ণনা থেকে একটি ভুল বিনিয়োগে সারাজীবনের সঞ্চয় হারিয়ে গুরুতর মানসিক ব্যাধি এবং বিভ্রমজনিত বিশৃংখলার সঙ্গে লড়াই করা একজন মানুষের চিত্র ফুটে উঠে।

একজন প্রতিবেশী একটি প্রতারণামূলক বিনিয়োগে তার সারাজীবনের সঞ্চয় হারানো সম্পর্কে বলেন এবং অন্য একজন প্রায়ই তাকে বোলে (পোড়া কলা) বিক্রয় করা মহিলাদের আশেপাশে দেখার কথা স্মরণ করেন; এবং তিনি শেষ দিনগুলিতে যেখানে বসবাস করতেন সেই ইবাদানের একটি পথের পার্শ্বে তাকে দু’বার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে দেখা যায়।

এরপরে তার সাথে একই দলে খেলা প্রাক্তন একজন খেলোয়াড় তার শেষ আন্তর্জাতিক খেলায় তার ভক্তদের হৃদয়ভাঙ্গা ব্যঙ্গ কীভাবে তাকে তার তিক্ত পরিণতি পর্যন্ত তাড়িয়ে বেড়িয়েছে তা স্মরণ করেছেন।

গত একবছরের মধ্যে যারা রশিদী ইয়েকিনিকে দেখেছেন তারা বলেছেন যে ঐসব পর্বগুলির অন্ততঃ একটি তার এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর একটি কারণ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে।

আফ্রিকার ফুটবল প্রকৃতপক্ষেই এর সবচেয়ে বর্ণাঢ্য একজন ফুটবল খেলোয়াড়কে হারিয়েছে। সাম্প্রতিককালে দুর্বল দক্ষতা প্রদর্শনের কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলে খারাপ সময় অতিবাহিত হলেও নাইজেরিয়া একজন মহান অনুকরণীয় আদর্শকে হারিয়েছে যিনি মাঠে অদম্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের জন্যে আমাদের স্মৃতিতে চিরজাগরূক থাকবেন।

রশিদী ইয়েকিনি

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .