বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইন্দোনেশিয়া: বৌদ্ধ মূর্তি অপসারণের জন্য মন্ত্রণালয়ের আদেশ

উত্তর সুমাত্রার তানজুংবালাই-এর “ত্রি রত্ন” বৌদ্ধ মন্দিরে স্থাপিত সবচাইতে বড় বুদ্ধ মূর্তি ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক অপসারণের আদেশের ফলে ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় সহনশীলতার বিষয়টি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। ঐ এলাকার কিছু কট্টরপন্থীদের আপত্তির কারনে সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়।

গত কয়েক মাস আগে মুসলিম ‘উগ্রবাদী’রা একাধিক গীর্জায় আক্রমণ করে। ইন্দোনেশিয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হয়রানি করার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে অনেকে বিষয়টিকে দেখছেন। ইন্দোনেশিয়া হল বিশ্বের সবচাইতে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।

তানজুংবালাইয়ের বিতর্কিত বুদ্ধ মূর্তি যা অপসারিত হবে। সূত্র: বৌদ্ধবাদ আলোচনার ওয়েবসাইট (তথ্য বাতায়ন)

উত্তর সুমাত্রার এ সমস্যাটি সৃষ্টি হয় জিআইবি/জেরাকান ইসলাম বারসাতু (সম্মিলিত ইসলামি আন্দোলন) দলের সদস্যদের দাবীর কারনে। তাঁরা দাবী করেন শহরের ত্রি রত্ন বৌদ্ধ মন্দিরে বুদ্ধের মূর্তি ইসলামী বিশ্বাসের প্রতি হুমকী স্বরূপ। তাঁরা প্রস্তাব করেন বুদ্ধ মূর্তিটিকে শহরের ঐতিহাসিক প্রতীক “বালাই দি উজুং তানদুক”-এর সামনে প্রতিস্থাপিত করা যেতে পারে। বুদ্ধ মূর্তি অপসারণের দাবীতে জিআইবির আবেদন বৌদ্ধবাদ আলোচনার ফোরাম ওয়েবসাইট (তথ্যবাতায়ন) এ প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের প্রতি বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের আবেদন-এর সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Mohon berikan tekanan kpd Walikota Tanjung Balai SUMUT agar mencabut Surat Keputusan ttg Penurunan Patung Budha di Vihara Tri Ratna Tanjung Balai, Sumut.

ত্রি রত্ন বৌদ্ধ বিহার থেকে বুদ্ধ মূর্তি নামানোর আদেশ যাতে বাতিল করা হয় সে বিষয়ে দয়া করে উত্তর সুমাত্রার তানজুংবালাইয়ের নগরপালের উপর চাপ সৃষ্টি করুন।

বৌদ্ধ বিহার ও সহানুভূতিশীল দলগুলো বুদ্ধ মূর্তি অপসারণ রোধে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে মন্ত্রণালয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আবেদনের বিরুদ্ধে সরকারি আদেশ জারী করতে যাচ্ছে।

বেরিয়ান্তো সিতোহাগ, ডাইরেকটুর একসেকুটিফ আলিয়ানসি সুমুট বেরসাতু (ঐকবদ্ধ উত্তর সুমাত্রা জোট-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) যে যুক্তিগুলো তুলে ধরেন তার ধারাবাহিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্লগার এক্সপ্রেসি হাতি। প্রথমতঃ তাঁরা নগরপালের কাছে অভিযোগ করেন এবং তারপর স্থানীয় সংসদে যায়, এবং এরপর তাঁরা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দিকে যায়; তাঁরা শেষ পর্যন্ত হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভেও ধরণা দেয় কিন্তু তাঁরা কোন সন্তোষজনক উত্তর পায় নি। একারণে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন যখন তাঁরা জানতে পারেন যে মন্ত্রণালয় মূর্তি অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিছু অনলাইন প্রতিক্রিয়া: ইন্দোনেশীয় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন নিচের এ বিবৃতি দেয়:

“Negara tidak berhak untuk mengatur apalagi menurunkan perlengkapan apapun yang ada di tempat ibadah. Penurunan patung Buddha di Vihara sudah dapat dikategorikan kekerasan agama yang dilakukan oleh negara. Ini akan menjadi catatan pelanggaran konstitusi dan hak asasi manusia”, demikian ditegaskan oleh Wahyu Effendy, Ketua Umum Gerakan Perjuangan Anti Diskriminasi (GANDI) dalam pernyataan persnya.

বৈষম্য বিরোধী সংগ্রামী আন্দোলনের সাধারণ সভাপতি ওয়াহয়ু এফেন্দি বলেন,

সরকারের নিয়ন্ত্রণের কোন অধিকার নেই,এমনকি ধর্মীয় স্থানগুলোতে বিদ্যমান অবকাঠামো সরানোরও কোন অধিকার সরকারের নেই।বিহার থেকে বুদ্ধ মূর্তি অপসারণকে রাষ্ট্র কর্তৃক সম্পাদিত ধর্মীয় সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।এটা সংবিধান পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের বরখেলাপ।

ব্লগার জোবিগজো বলেন:

Walaupun agama Buddha dianggap sebagai agama minoritas, tetapi apakah agama yang mayoritas harus menindas yang minoritas? Apakah hanya sebuah patung Buddha saja harus mendapatkan restu dari yang beragama mayoritas? Dan dimana rasa saling menghormati antar beragama di Negara ini?

যদিও বৌদ্ধ ধর্মকে সংখ্যালঘু ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয় কিন্তু তাই বলে কি প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠীর উচিত সংখ্যালঘুদের দমন করা? বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুমোদন নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? এ দেশে ধর্মীয় পারস্পারিক সম্মানবোধ কোথায়?

পেলোপর-এর একজন ব্লগার কোলসন বলেন:

ভাল, এটা ২০১১ সালের আচেহ বা ২০০১ সালের আফগানিস্তান নয়, এটা শরিয়া “মক্কার বারান্দা-স্টাইল” বা এটা তালিবানও নয়, এটা নিছক একটা বুদ্ধ মূর্তি যা ১৭০০ বছরের পুরোনোও নয় এবং বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশও নয়, এর উচ্চতা টেনেটুনে ৬ মিটার ৫৩ মিটারও নয়।কিন্তু দুটো ক্ষেত্রেই ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এমনকি আক্রমণাত্মক মনোভাব, স্ব-ন্যায়নিষ্ঠা, সংকীর্ণ মন-মানসিকতা, এবং সাংষ্কৃতিক বর্বরতা, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাদের ছত্রছায়ায় এখানে পেছন থেকে কাজ করেছে।

ব্লগার লাপাক ইনফো বলেন ইন্দোনেশিয়ায় ধর্মীয় বহুত্ববাদীতা মরে গেছে:

INI ADALAH PERUSAKAN TERHADAP KEBEBASAN BERAGAMA, PLURALISME DAN RUNTUHNYA BHINEKA TUNGGAL IKA

এটা ধর্মীয় স্বাধীনতার ধ্বংস ডেকে আনবে, বহুত্ববাদ এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা কে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

‘বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা’ ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় নীতি।

1 টি মন্তব্য

  • ডালিম

    সংখ্যালঘু হলে ও কোন র্ধমের আঘাত করা ঠিক নয় ।

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .