বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ক্যামেরুন: বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে

গত ২৩শে ফেব্রুয়ারী, ২০১১ বুধবারে ক্যামেরুনের বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভের আয়োজন করে দেশের প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার পদত্যগের দাবিতে। ২৮ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন প্রেসিডেন্ট পল বিয়া যিনি এই বছর পূর্ণ নিবার্চন জন্য দাঁড়াবেন। পল বিয়ার বিশেষ হস্তক্ষেপকারী ব্রিগ্রেড প্রচন্ড শক্তি দিয়ে বিক্ষোভকে দমন করছে।

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কাহ ওয়াল্লা বিজয় সূচক চিহ্ন দেখাচ্ছেন যখন পুলিশ তার উপরে জল কামান ব্যবহার করছে:

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কাহ ওয়াল্লা বিজয় সূচক চিহ্ন দেখাচ্ছেন যখন পুলিশ তার উপরে জল কামান ব্যবহার করছে

বিক্ষোভের ব্যাপারে লিখতে গিয়ে, এলিজা আনিয়াঙ্গে চিন্তা করেছেন কেন সাব- সাহারা আফ্রিকার প্রতিবাদকে সংবাদ হিসাবে দেখা হয়না:

বাতাসে বিদ্রোহ ভাসছে। আর মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেনের রাস্তায়..

কিন্তু যখন সাব সাহারা আফ্রিকার বিষয় আসে, এটা সংবাদে আসে বলে মনে হয়না। মনে হয় এই মহাদেশের দমন করা শাসকরা কারো মাথা ব্যাথা না যতক্ষণ না এই সংঘর্ষ বিদেশী দূতাবাসের মার্বেলের সিঁড়ির গোড়ায় গড়িয়ে আসে বা গণতন্ত্রের জন্য চিৎকার আর মানুষের আত্মত্যাগ দেখে কূটনৈতিক সম্প্রদায় লজ্জিত হয় তাদের কোন কাজ না করা থেকে।

পরিবর্তনের জন্য। ক্যামেরুন গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারী তাদের যাত্রা শুরু করেছে। এটা চিৎকারের থেকে বেশী ফিসফিসানি ছিল: কয়েক শতের একটা শান্তিপূর্ণ দল চুপচাপ পল বিয়ার ২৮ বছরের শাসনের অবসান দাবি করছে। যখন তারা ক্যামেরুনের ভগ্নপ্রায় বানিজ্যিক রাজধানী দোউলার পথ ধরে যাচ্ছিল তখন সেনা বাহিনী পুরো রায়টের পোশাক পরে তাদের সম্মুখীন হয়. সেখানে দলের নেতা আর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কাহ ওয়াল্লার উপরে জল কামান দিয়ে আক্রমন করা হয় আর যখন তিনি সহ অন্য বিক্ষোভকারীরা পানিতে ভিজে ট্রাকে উঠছিলেন তখন তাদেরকে ব্যাটন দিয়ে মারা হয়।

আপ স্টেশন মাউন্টেন ক্লাব জানিয়েছে যে ক্যামেরুন ও বোসসো দলের সদস্যদের আটক করা হয়েছে:

গত দুই দিন ধরে ক্যামেরুন ও বোসসো দলের ৬ সদস্যকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে।

দিনামু মোয়া
দোরক্সিদি রাফায়েল
একোয়া এসসি ফ্রাঙ্ক
দাদিনা বাজাই
জেঙ্গু কামেনি জোসেফ
এমবোন্দো

ডেভিড ওয়েরে সেই দলের সদস্য যারা ২৩শে ফেব্রুয়ারী বুধবারের প্রতিবাদের ব্যবস্থা করেন। তাদের উপরে সেনারা সকাল ৮টায় চড়াও হয় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে। তারা আমাদের সহকর্মীদের আটক করে আর ২০০ টি শার্ট আর ২০০ পানির বোতল আটক করে যা তারা বিক্ষোভকারীদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল।

তবে একজন পাঠক বলছেন যে তাদের ছেড়ে দেয়া হতে পারে:

মনে হচ্ছে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এই দল একি পথে যাচ্ছে যা এসসিএনসি অভিজ্ঞতা করেছিল। তাদের উচিত এসসিএনসির সাথে কথা বলে পরিকল্পনা করা। প্রক্রিয়াটা এমন হবে:

চাপ দিচ্ছে যে দল তাদের দ্বারা জনগনের বিক্ষোভের ঘোষণা
ভয়ঙ্কর জোরের প্রদর্শনী যাতে জনগন যোগদান থেকে বিরত থাকে
শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ শুরুই হতে পারে না
দলের উপরে ভয়ঙ্কর মারধর, আবারো জনগনকে দমিয়ে রাখার জন্য, কিন্তু মৃত্যু ঘটার মতো মার না
জনগন ভয়ের সাথে দেখে। মারধর না থাকলে তারা যোগদান করতো
দলের সদস্যদের আটক
আন্তর্জাতিক তিরস্কার শুরু হওয়ার আগে দলের সদস্যদের মুক্তি
কিছু বিশ্রামের পরে এই প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়।

দ্যা চিয়া রিপোর্ট অনুসারে ক্যামেরুনে বিক্ষোভকারীদের উপর নির্যাতন:

এইসব চিত্র সরকারের প্রচারণার যন্ত্র ক্যামেরুন রেডিও টেলিভিশন (সিয়ারটিভি) দেখাচ্ছে না। তাদের দৃষ্টি অস্বীকার করছে যে ক্যামেরুন লিবিয়া বা মিশর বা তিউনিশিয়া বা বাহরাইন না। কিন্তু এইসব ছবি থেকে এটা তো অস্বীকার করা যাবে না যে অসহিষ্ণুতা একই মানের, যে স্বৈরশাসক গাদ্দাফির মতোই চাচ্ছে ক্ষমতায় থেকেই মৃত্যুবরণ করতে; স্থানীয় প্রেসকে চুপ থাকতে চাপ দেয়া হচ্ছে নাহলে সরকারের প্রচারণা চালাতে বলা হচ্ছে।

পরিশেষে একটি প্রতিবাদ ডায়রি পড়ুন:

ক্যামেরুন ও’বোসসোর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কাহ ওয়াল্লা, যিনি গতকালের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন যেটা সেনা নৃশংসভাবে দমন করেছেন, এই ঘটনার উপর একটি লেখা পাঠিয়েছেন যা এই বিক্ষোভ এর ফলে যে শিক্ষা পাওয়া গেছে তা বর্ণনা করেছে।

প্রায় দুপুর ১২:৪৫। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আবির্ভূত হলো। তারা একপাল। প্রায় ৭০-৮০ জন পুলিশ, দুইটা জল কামান, রায়টের পোশাক আর ঢাল। আমরা দৃঢ় হই আর আগে যেমন ঠিক করা ছিল তেমন দেখানো যে আমরা দাঙ্গাবাজি করবো না। এইসব ছেলে (আর কিছু মেয়ের) অভিধানে এই শব্দ নেই। তারা তাদের লাঠি ব্যবহার করে আমাদের কিছু বিক্ষোভকারীকে মারার জন্য। তাদের ভীষণভাবে অবাক করে দিয়ে আমি তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাদের থামতে বলি। চীফরা তখন বুঝতে পারেন যে তাদের সামনে কাহ ওয়াল্লা। “l’oiseau” [‘পাখি’] বলে একজন সম্বোধন করলো আমাকে।

কয়েক মিনিটের জন্য তারা বুঝতে পারলো না যে আমাকে নিয়ে কি করতে হবে আর আমি সামনে পিছনে হাঁটছিলাম যখন তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল যে আমাকে ট্রাকে না গাড়িতে তোলা হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .