বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

গুয়াতেমালা: রাষ্ট্রপতির পত্নী আগামী নির্বাচনে নিজেকে রাষ্টপতি পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে

গুয়াতেমালা সরকারের এই ছবি ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স এট্রিবিউশন, নন কমার্শিয়াল শেয়ার এলাইক এর অধীনে ব্যবহার করা হয়েছে।

যখন গুয়াতেমালার বর্তমান রাষ্ট্রপতির স্ত্রী সান্ড্রা টোরেস ঘোষণা প্রদান করেন যে, তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, তখন সামাজিক প্রচার মাধ্যমগুলোতে তার এই ঘোষণার উপর বিরক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের মন্তব্য নতুন কিছু নয়; তার প্রার্থিতা ঘোষণার অনেক আগেই সমালোচকেরা তার বিরুদ্ধে অগ্রহণযোগ্যতা এবং বিদ্বেষপূর্ণ শব্দ সব জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছিল।

ফেসবুকে টোরেসের বিরুদ্ধে দুটি পাতা তৈরি করা হয়েছে: একটি হচ্ছে তাদের জন্য, যারা সান্ড্রা টোরেসকে ঘৃণা করে (হু হেট সান্ড্রা টোরেস) [স্প্যানিশ ভাষায়] এবং অরেকটি পাতা তাদের জন্য, যারা তার প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছে [স্প্যানিশ ভাষায়]- পরের পাতাটি ২১,০০০ জন ব্যক্তি পছন্দ করেছে। টুইটারে, #নোভোটপঅরসান্ড্রাটোরেস (আমি সান্ড্রা টোরেসকে ভোট দেব না)হ্যাশট্যাগের অধীনে একই আবেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তার চেহারা এবং শয়তানী পূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে ফেসবুক এবং টুইটারে মন্তব্যে ভরে গেছে, এবং কিভাবে সে গুয়াতেমালার এভিটা পেরনের সংস্করণ হতে পারে, এসব জায়গায় সে সব মন্তব্য করা হয়েছে, এভিটা পেরন এক সময় আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।

ব্লগে তার সমালোচকেরা, দুটি বিষয়ের উপর মনোযোগ প্রদান করেছে: সামাজিক একত্রীকরণ কর্মসূচী, যা সে নিজে পরিচালনা করছে এবং গুয়াতেমালার সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ, যে আইনের কারণে সে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হবার অযোগ্য বলে ঘোষিত হতে পারে।

তার সামাজিক কর্মসূচি

এল ক্রাউঞ্চ চ্যাপিন [স্প্যানিশ ভাষায়] তীব্র ভাষায় তার সামাজিক কর্মসূচির সমালোচনা করেছে এবং তারা বলছে যে, সে তার বদলে লরা বোজ্জোকে ভোট দেবে। লরা বোজ্জো “লরা ইন আমেরিকা” নামক টক শোর উপস্থাপিকা।

Cierto, las dos son unas “mujeres del pueblo” pero a diferencia de la esposa del presidente, Laura Bozzo en su programa no les regala una bolsa solidaria a la cada persona de la clase baja. Ella en cambio les da un CARRITO SANWICHERO. Lo que significa que en ves de regalarle las cosas, así por así, les da trabajo para que esta gente solita salga adelante y no se acostumbre a vivir de promesas vacías.

এটা সত্য যে উভয়ে “জনতার (জন্য নিবেদিত প্রাণ) নারী” কিন্তু রাষ্ট্রপতির স্ত্রীর মত নয়, লরা বোজ্জো তার অনুষ্ঠানে নিম্ন আয়ের প্রতিটি ব্যক্তিকে একটি “সলিডারিটি ব্যাগ (এই ব্যাগে চাল ডাল, আটা, তেল থাকে)” প্রদান করে না, তার বদলে সে তার অনুষ্ঠানে একটি “স্যান্ডউইচ কার্ট (খাবার বহন করার বিশেষ ঠেলাগাড়ি)” প্রদান করে, যার মানে তাদেরকে তৎক্ষনাৎ কোন কিছু দেবার বদলে, সে কাজ প্রদান করে, যাতে তারা তাদের নিজের মত কিছু করতে পারে এবং এতে তারা কেবল শুকনো প্রতিশ্রুতির মধ্যে বাস করে না।

এখানে এক বৈধ চিন্তা রয়েছে যে, সে তার অবস্থানের অপব্যবহার করতে পারে, যেহেতু সে সামাজিক একত্রীকরণ পরিষদের নেত্রী এবং এর মাধ্যমে সে লোকদের তার জন্য ভোট দিতে বাধ্য করার ক্ষমতা রাখে। ব্লগ সান্তা ক্রুজ বারিল্লাস [স্প্যানিশ ভাষায়] সংবাদ প্রদান করেছে যে, উত্তর গুয়াতেমালার কিছু লোককে ভুলপথে পরিচালিত করা হয়, যখন ফার্স্ট লেডির (রাষ্ট্রপতির পত্নী) কিছু কর্মচারী তাদেরকে এই বলে সতর্ক করে দেয় যে, যদি তারা তাদের সামাজিক সুবিধাদি পাওয়ার বিষয়টি বজায় রাখতে চায়, তাহলে যেন তারা ফার্স্ট লেডিকে ভোট দেয়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ খুব ধীর গতিতে ঘটে এবং তা নির্দেশ করছে যে, কেবল কেবল ছোট আকারের কিছু ডিজিটাল সংবাদপত্র যেমন ব্লগ সান্তা ক্রুজ বারিল্লোসে [স্প্যানিশ ভাষায়] এই সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

তবে এটা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ, যে অন্য প্রার্থীরা বিবৃতি দিয়েছে, তারাও এই সামাজিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

একটি সাংবিধানিক জটিলতা

সাংবাদিক জোসে ভালদিজান মন্তব্য করেছে, সংবিধানের এক অনুচ্ছেদে রয়েছে, রাষ্ট্রপতির আত্মীয় রাষ্ট্রপতি হতে পারবে না। তবে তিনি একই সাথে যোগ করেছেন, সাংবিধানিক আদালত হয়ত এই অনুচ্ছেদটির খানিকটা নমনীয় ব্যাখ্যা করবে, যার মধ্যে দিয়ে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করা হবে। এর আগে প্রাক্তন স্বৈরশাসক এফরিয়ান রিওস মন্ট এর বেলায় এমনটি করা হয়। কার্পে ডিয়েম-এ এমনই দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে লুইস ফিগুয়েরো, যে একই সাথে সাম্প্রতিক নির্বাচনে তার কম ভোট অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করেছে, যেখানে ভদ্রমহিলা ১১ শতাংশ ভোট লাভ করেছে।

সেন্ট্রাল আমেরিকান পলিটিক্স-এ, মাইক ব্যাখ্যা করেন:

একদিকে সংবিধান যেমন টোরেসের প্রার্থিতাকে নিষিদ্ধ করেছে কারণ সে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় (সংবিধানের ১৬৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে), আবার অন্যদিকে টোরেসের আইনজীবীরা দাবী করতে পারে যে সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে, কারণ সংবিধানের আরেকটি ধারা দেশের সকল নাগরিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার প্রদান করে। সংবিধান অনুসারে আবার যিনি আগেই ওই পোষ্ট আসীন ছিলেন এমন একজনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হবার কারণে আপনি কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখতে পারেন না (ওয়াশিংটন পোষ্ট)।(দুঃখিত আপনি বলতে পারেন না যে আমার আইনজীবীরা বলেছে যে এটা অবৈধ। এর আগে আমরা একবার যেন শুনেছি?)

রাষ্ট্রপতি কোলম বা সান্ড্রা টোরেস, কেউ এই প্রার্থিতার বিষয়ে তেমন কিছু বলেনি, যেন এটা চিন্তার কোন বিষয় নয়। তবে গুয়াতেমালার সাংবিধানিক আদালত নির্ধারণ করবে টোরেস নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা।

সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের অনেকের মাঝে সান্ড্রা টোরেসের প্রচুর সমর্থক রয়েছে। কিন্তু সেই সব সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় তেমন একটা কণ্ঠস্বর এবং জায়গা নেই। গুয়াতেমালায় নেট সংযোগের পরিমাণ খুবই সামান্য, মাত্র ১ শতাংশ এবং শহুরে এলাকার খুব সামান্য কয়েকটি বাসায় কম্পিউটার রয়েছে। এর বাইরে, ভাষার কারণে আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে খুব সহজেই যাওয়া যায়। নির্বাচনের সময়, অনলাইন এবং অফলাইনের প্রচারণা খুবই ভিন্ন ধরনের হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .