বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সিঙ্গাপুরের তেল দুর্ঘটনা

ফেসবুকে ছবিটি দিয়েছেন জোসেফ চুন

ফেসবুকে ছবিটি দিয়েছেন জোসেফ চুন

মে মাসের শেষের দিকে সিঙাপুর স্ট্রেইটে একটি মালয়েশিয়ান তেলবাহী জাহাজের সাথে একটি মালবাহী জাহাজের ধাক্কা লাগার পর ২,০০০ টন তেল সাগরে পরে গিয়েছিলো। এই তেল বিপর্যয়ের ফলে সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর অনেক ক্ষতি হয়েছে।

সিঙাপুর পূর্ব চাঙ্গি তেল দুর্ঘটনা নামে একটি ফেসবুক পাতা তৈরী করা হয়েছে – যেটির মাধ্যমে এই দুর্ঘটনার হিসেব ও তথ্য সংগ্রহ রাখা হবে এবং এটি সেচ্ছাসেবীদের একত্র করবে তেলের স্তর পরিষ্কার করার জন্য। লিম উই লিং তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসে নীচের কথাগুলো লিখেছেন যেখানে তিনি সাক্ষী হয়ে দেখেছেন সিঙাপুরের এক সমুদ্র সৈকতের বিপর্যয়।

গতকাল তানাহ‌ মেরাহতে আমার বন্ধুর সাথে ছিলাম। বিপর্যয়ের স্থানটি বেশ বিস্তৃত। কিছু তেলে ফোঁটায় ফোঁটায় ডুবে গেছে এবং সেটি এখন ঘুরছে সমুদ্রের তলায়। সামুদ্রিক প্রাণীগুলো অচেতন হয়ে পড়েছিলো জলে অক্সিজেনের অভাবে। মৃত ও সংগ্রামী কিছু প্রাণীও দেখা যায়…দুঃখজনক। তবে আমরা কিছু তারা মাছ দেখেছি… তারা মনে হয় ভালোভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে =)

মিউজিং ফ্রম লায়ন সিটি মনে করেছিলো যে “অস্বাভাবিক গন্ধটি” সিঙ্গাপুরের কোনো বন্য আগুনের থেকে হয়েছে।

গতকাল দুপুর ১টায় আমি কিছু একটা অস্বাভাবিক গন্ধ পাই। গন্ধটি শুকনো রঙ বা কিছু একটা পোড়ানোর মত লেগেছিল। গতকাল অনেক গরমের কারণে আমি মনে করেছিলাম সেটা কোন বন্য আগুন থেকে আসছিল।

আমাদের ব্যস্ত নৌপথ এবং সকল জাহাজ ডক করা অর্থনৈতিক মন্দার কারণে, আমি আশঙ্কা করছি এই ধরনের গন্ধের শেষ এবারেই নাও হতে পারে।

ওয়াইল্ড শোরস অফ সিঙ্গাপুর নেটিজেনদের অনুরোধ করে সিঙ্গাপুরের সকল প্রাণীগুলোর তথ্য পাঠানোর জন্যে।

আমাদের সমুদ্র তটে এই তেল দুর্ঘটনার পর সমুদ্রের প্রাণীর বিপর্যয়ের পর আমি একটি গভীর সাহায্য হীন রাগ দেখেছি সবার মাঝে। আমি এইমাত্র জানতে পারলাম যে এই দুর্ঘটনা চেক জাউয়াতেও গিয়েছে, সাথে সাথে চাঙ্গির সমুদ্রতটেও যেটি কারপার্ক ৬ ও ৭-এর মধ্যে।

এটি অসম্ভব সকল প্রাণীকে বাঁচানো। একজন সমুদ্র-প্রেমীর এ ক্ষেত্রে কি করা উচিৎ?

এটি দেখে খুশি লাগছে যে প্রচুর পরিমানের সেচ্ছাসেবক এখানে কিছু করতে চায়।

কিছু সামুদ্রিক ‘প্রাণীকে’ পরিষ্কার করা অসম্ভব তাদের না চাপ দিয়ে। এবং একবার যখন তেল তাদের ফুসফুসে আটকায়, প্রাণীগুলো প্রায় শেষ হয়ে যায় যদিও তাদের বাইরের তেল পরিষ্কার করা সম্ভব। এবং আমরা যদি ‘পরিষ্কার’ করতে চাই সামুদ্রিক প্রাণীদের, তাহলে আমাদের সমুদ্রের জল ব্যবহার করতে হবে।

সবচেয়ে সুন্দর ও মনোরম সামুদ্রিক প্রাণীদের (হার্ড কোরাল, সি এনেমোন, সি ফেন) পরিষ্কার করা অসম্ভব অথবা তাদের স্থান পরিবর্তন করাও। কিছু প্রাণী যেগুলো আপাতদৃষ্টে মনে হয় না ‘বাঁচার’ যোগ্য (যেমন কেঁচো), অথচ এরা সমুদ্রের ইকোসিস্টেমের প্রধান প্রাণী, যারা খাবার চক্রের প্রধান শক্তিটি তৈরী করে।

তাহলে সমুদ্র-প্রেমীদের কি করা উচিৎ?

আমার মতে, আমাদের সকল তথ্য যোগাড় করতে হবে। আমাদের শুধু দৃশ্যমান সামুদ্রিক প্রাণীদের ক্ষতি দেখলে চলবে না, দেখতে হবে আমাদের সমুদ্রের অস্বাভাবিক বৈচিত্র্যগুলোকেও (কেচো থেকে মাছ, কোরাল থেকে সামুদ্রিক ঘাস) এবং কি করে এই দুর্ঘটনা মানুষদের মধ্যে প্রভাব ফেলছে।

কালারফুল ক্লাউডস মৃত সামুদ্রিক প্রাণীর ছবি তুলেছে যেগুলো সমুদ্র পাড়ে ভুগছিল।

আমরা সমুদ্রের পাড়ে পৌঁছলাম যখন, দেখলাম সেখানে তীব্র গ্যাসের গন্ধ। আমাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। আমি গিয়েছিলাম একটি মাস্ক নিয়ে ও তোয়ালে দিয়ে আমার শরীরটাকে বাঁধি। সেটা অনেক ভালো হয়েছিলো কিন্তু এখনো কিছুটা ধোয়ার গন্ধ আমার কাছে আসে!

উঁচু সমুদ্র পাড়ে, আমরা তেলের প্রসারণ দেখতে পাই।

আহ্‌…..কষ্ট লেগেছে অনেকগুলো পশু-পাখিকে মৃত দেখে! আশা করছি তেল দুর্ঘটনা পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং সমুদ্রের প্রাণীগুলো আবার ফিরে আসতে পারবে!

কেসিকে জানিয়েছে যে তেল সিঙ্গাপুরের পাড়গুলো পর্যন্ত দেখা গিয়েছে:

তেল দুর্ঘটনা আমাদের সমুদ্র পাড়গুলোকেও ধরেছে যদিও আগে জানান হয়েছে তেল বাষ্প হয়ে যাবে, ভূমিতে আসার আগেই। বলা হয়েছিলো যে এটি হালকা অপরিশোধিত তেল, তাই বাষ্প অনেক সহজেই হতে পারবে।

দুর্ঘটনার ছবিগুলো পাওয়া যাবে ফেসবুকে, ইল_মেয়ার৭৭-এর ফ্লিকার পাতায়, ওয়াইল্ড শোর-এ, এবং মানতামোলাতে। সিঙ্গাপুর স্ট্রেইটে তেল বিস্ফোরণের দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে ১৯৯৭, ২০০০ ও ২০০৪ সালে। মনে হয় সমুদ্রের কর্মকর্তাদের উত্তর দিতে হবে সিঙ্গাপুর লাইফ এন্ড টাইমস-এর প্রশ্নগুলোকে

…যারা সমুদ্রের ট্রাফিক পরিচালনা করে তারা কি করছিলো, অথবা আরো প্রআসঙ্গিক প্রশ্ন, কিছুই কি করছিলো এই বিস্ফোরণকে রোধ করার জন্য? যারা এয়ারপোর্টের কন্ট্রোল টাওয়ারে থেকে প্লেইনগুলো পরিচালনা করেন, সেই রকম কাজই সমুদ্র বন্দরের কর্মকর্তাদের ছিল যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে।

টুইটারে সিঙ্গাপুরের বসবাসকারীরা এই মতগুলো প্রকাশ করে:

বিয়ারমেনডিডি: গিয়েছিলাম পূর্ব পাড়ের সমুদ্রসৈকত দেখার জন্য এবং সেখানটি পুরো তেলে ঢাকা..
ডেকিক: RT @এসটিকম অনেক কম লোকজন সমুদ্রে যাচ্ছে যদিও তারা অনেক লম্বা ছুটি পেয়েছে তেল দুর্ঘটনার কারণে।
উয়াটসাপ৮০: একটি সুন্দর দিন সৈকতে, যেটি তেল দিয়ে পুরো..আহ্‌
আর্থিএলিমেন্ট: জানতে ইচ্ছে করছে সেখানে কোনো সাম্প্রতিক হুমকি ছিলো কি না সেই সমুদ্র বাসিন্দাদের যেটি তেল বিস্ফোরণের কারণে তৈরী হয়েছে..

ফেসবুক ছবি তুলেছেন হ্যাং চোং

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .