বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০১০ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে ৩২ টি দল এবং ৪০,০০০ পতিতা?

যদি আপনি ২০১০ ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা যান, তা হলে সারা বিশ্ব থেকে সেখানে আগত ৪০,০০০ পতিতার কোন একজনের সাথে সাক্ষাৎ ঘটার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যদি আপনি গুজবে বিশ্বাস করে থাকেন, তা হলে জেনে রাখুন, আশা করা হচ্ছে বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় এই পরিমাণ পতিতা সেথায় ভীড় জমাবে!

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের রাস্তার চিত্রকল্প, ছবি ফ্লিকার থেকে ক্যান্ডিস্কির তোলা (২০০৫)

ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, সেটা পড়ুন:

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, সারা বিশ্ব থেকে অন্তত ৪০,০০০ যৌনকর্মী এই আশায় দক্ষিণ আফ্রিকার পথে রওনা দিচ্ছে যে, বিশ্বকাপের সময় ফুটবল ভক্তদের কাছ থেকে তারা কিছু সৌভাগ্য (অর্থকড়ি) লাভ করবে। সামনের মাসেই ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রবন্ধ এই ধারণা দিচ্ছে।

নিহান্ড রেডিওর সাভিয়াস কিউইনিকা বিশ্বকাপ শুরু হবার সময় এগিয়ে আসার সাথে সাথে জিম্বাবুয়ের যৌনকর্মীদের সম্বন্ধে লিখেছে যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমাচ্ছে:

২০১০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা যত এগিয়ে আসছে জিম্বাবুয়ের যৌনকর্মীর ততই আরো সুন্দর ভবিষ্যৎ-এর আশায় চিরতরে জিম্বাবুয়ে ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমাচ্ছে। এই বিষয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং সারা বিশ্বের চার্চ গ্রুপ নারী পাচার ও পতিতাবৃত্তি কি পরিমাণ বাড়ছে তা পরিমাপ করার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপে সারা বিশ্ব থেকে ৫০০,০০০ বিদেশী ফুটবল ভক্তের আগমনে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনের হাতছানি ইতোমধ্যে অনেক দরিদ্র যৌনকর্মীকে সেখানে যাবার জন্য প্রলুব্ধ করছে।

এই পোস্টের কোন এক জায়গায় যাদুকরী সংখ্যাটি দৃশ্যমান:

ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে যৌনতা নিয়ে ব্যবসা নতুন কিছু নয়। ২০০৬ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ জার্মানীতে অনুষ্ঠিত হয় যেখানে পতিতালয় এবং পতিতাবৃত্তি আইনত বৈধ, সেখানে এক হিসেবে দেখা গেছে বিশ্বকাপের সময় বাড়তি ৪০,০০০ যৌনকর্মীর উপস্থিতি ঘটেছিল- তার সাথে ডানপন্থী দলগুলো এই ঘটনার প্রচুর সমালোচনা করেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কর্তৃপক্ষও হিসেব করে দেখেছেন যে ২০১০ বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে জোহানেসবার্গে প্রায় ৪০,০০০ যৌনকর্মীর আগমন ঘটবে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি কেন এত বিশাল পরিমাণ যৌনকর্মীর আগমন ঘটবে, তার কোন কারণ জানায়নি।

একই ধরনের আরেকটি প্রবন্ধে (এখানেও একটি যাদুকরী সংখ্যা রয়েছে- এক বিলিয়ন {১০০ কোটি} কনডম!) বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল বিশ্বকাপ: এক বিলিয়ন কনডম এবং ৪০,০০০ যৌনকর্মী:

যৌক্তিকভাবে বলা যায়, যৌন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ফুটবল বিশ্বকাপ অনেকটা ছুটির দিনে চকলেটের (ক্যান্ডি) দোকানে যাবার মত ঘটনা। সামগ্রিক এক উৎসবমুখর পরিবেশে উত্তেজিত জনতার অনুভূতির ক্ষণস্থায়ী উচ্ছাস, যে বাড়তি তৃপ্তির জন্য তারা খানিকটা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে রাজি।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাদক অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা হিসেব করে দেখেছেন যে এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪০,০০০ যৌনকর্মীর আগমন ঘটবে, অনেক দুরের দেশ যেমন রাশিয়া থেকে, এছাড়া কঙ্গো এবং নাইজেরিয়া থেকে যৌনকর্মীর আগমন ঘটবে, যারা ৪০০,০০০ ব্যক্তির জন্য নানাবিধ বৈচিত্র্যময় মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করবে, যাদের বেশিরভাগই পুরুষ। তারা এখানে আগত অতিথি এবং ফুটবল বিনোদনের বাইরের তাদের চাহিদা পূরণ করবে।

ব্রেট ডেভিডসন একজন ব্লগার এবং স্বাধীন প্রচার মাধ্যম উপদেষ্টা। তিনি কল্পনাকে বাস্তবতা থেকে আলাদা করেছেন। দৃশ্যত এই সংখ্যা (৪০,০০০ পতিতা) পুরোপুরি বানানো। এটা একটা মিথ্যা

আমাদের প্রচার মাধ্যমে বার বার এই সংখ্যার পুনরাবৃত্তিতে আমি বিভ্রান্ত এবং উদ্বিগ্ন, এ কারণে যে, বিশ্বকাপের সময় ৪০,০০০ পতিতাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে আসা হচ্ছে ।

এই সংখ্যাটিকে বার বার উচ্চারণ করা হচ্ছে (এবং তৎক্ষণাৎ বলা যায়, মানব বা নারী পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত একটি ভিডিও-তে দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কিছু টিভি তারকাকে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে সংখ্যাটি আরো বেড়ে ১০০.০০০ জনে দাঁড়ায়)। এটা আসলে পুরোপুরি একটা বানানো সংখ্যা, যার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। এটিকে প্রমাণ করার জন্য কোন উপাত্ত নেই।

ব্রেট বলছেন, এই বাড়িয়ে তোলা সংখ্যা জার্মানীতে অনুষ্ঠিত গত বিশ্বকাপের সংখ্যাকে পিছে ফেলে যাচ্ছে।

জার্মানীতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ঠিক এই একই পরিমাণ পতিতার উপস্থিতি দাবি করা হয়েছে- কিন্তু বিশ্বকাপের পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিল এর তদন্তে (এর নথি ৫০০৬/১/০৭ এবং ৫০০৮/৭) আবিষ্কার হয়েছে, বড় আকারে কেবল নারী পাচারের ৫টি ঘটনা ঘটেছে- হ্যাঁ, মাত্র ৫টি ঘটনা।

আমরা বলছি, এই বানানো সংখ্যা প্রতি বছর দ্বিগুণ হয়ে যায়।

একটি অনলাইন প্রকাশনা স্পাইকড এর ফ্রেরুয়ারি ২০০৭ – সংখ্যায় এই ঘটনার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়। স্পাইকড তার এই সংখ্যায়, প্রচারিত হতে থাকা এইসব অর্থহীন প্রবন্ধের আবার উপর নজর দিয়েছে। আগ্রহভরে লেখক ব্রেন্ডন ও নীল খেয়াল করছেন, কি ভাবে এই সব কাল্পনিক সংখ্যা প্রতি বছর আকারে দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এর শুরু হয়েছে অষ্ট্রেলিয়া অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের আসর থেকে, সেখানে এর হিসেব বের করা হয় যে ১০,০০০ যৌন দাসীর উপস্থিতি ছিল সেখানে। ২০০৪-সালে এথেন্স অলিম্পিকে এই সংখ্যা হয় ২০.০০০ হাজার, ২০০৬-সালে জার্মানীতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে এর পরিমাণ ৪০,০০০ জনে এসে দাঁড়ায়, এবং এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় এ পর্যায়ে (৮০,০০০ জনে) এসে ঠেকেছে (কার ভাষ্যমতে?)।

কিন্তু দাঁড়ান….এইসব সংখ্যা কোথা থেকে আসছে?

এই সংখ্যা কোথা থেকে আসছে? চলুন দেখি, সিডিএর উপ পরিচালক ডেভিড বেইএভার ঠিক কি বলছেন। আইওএল এর সংবাদ অনুসারে, বেইএভার এই সংখ্যার ব্যাপারে কোন প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি এবং এটি নির্দেশ করে যে তিনি অপ্রমাণিত দ্বিতীয় কোন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য সরবরাহ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, ডারবান পৌরসভা সিডিএ-কে বিশাল সংখ্যায় পতিতার আগমনের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে: তিনি বলেন, “কেউ একজন তথ্য প্রদান করেছে যে, এটা ডারবান পৌরসভার সংখ্যা, তারা এই তথ্য আবিষ্কার করেছে” কাজেই- এটা সিডিএ নয়, যারা এই সংখ্যা প্রদান করেছে, এমনকি এটা ডারবান পৌরসভার নিজস্ব সংখ্যা নয়। এটা এমন এক সংখ্যা, যা কেউ একজন বের করেছে, তারপর তাকে সবার সামনে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু বেইএভার এখন ৪০,০০০ জনের যে সংখ্যার কথা হঠাৎ উল্লেখ করছেন পরবর্তী সংবাদের ক্ষেত্রে সিডিএ কর্তৃপক্ষকে এই সংখ্যার উৎস বলে উল্লেখ করে উদ্ধৃত করা হচ্ছে।

এমনকি আরো কৌতূহলজনক বিষয়, এই গুজব ধারণা দেয় যে, পূর্ব ইউরোপ থেকে এই সমস্ত মেয়েদের আমদানি করা হবে। এখন যে কোন সাংবাদিক বা পাঠক যাদের মস্তিষ্কে অর্ধেক পরিমাণ ঘিলু রয়েছে, তারা উপলব্ধি করতে পারবে এটা একটা অর্থহীন সংবাদ। হিলব্রোর রাস্তায় দেহ দানের মূল্য হিসেব করলে, কি ভাবে অন্য জায়গা থেকে এদের নিয়ে আসা পাচারকারীরা বা আমদানিকারকেরা এখান থেকে লাভ করবে, বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপে থেকে খুঁজে আনা হাজার নারীদের জন্য বিশাল ব্যায়, তা কি এই মূল্য থেকে মিটবে?

তার উপসংহার:

এই তথ্য আমাদের উপর এক বিশাল চাপ তৈরি করে, যাদের সঠিক এবং কঠোর মান সম্পন্ন গবেষণার অধিকার রয়েছে, এ ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যে আমার বক্তব্য পরিষ্কার এবং কার্যকর। কাজেই জন নীতিকে অস্পষ্ট ভুল তথ্য দিয়ে বিশৃঙ্খল করা উচিত নয়।

যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে, নারী পাচারের মত অবাস্তব উন্মাদনা, দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্বকাপে বাস্তব বিষয় থেকে অনেককে দুরে সরিয়ে দেবে- কর্তৃপক্ষের দক্ষিণ আফ্রিকার যৌনকর্মী মানবাধিকার, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোতে, তাদের শ্রদ্ধার সাথে দেখা হয় এবং নিরাপত্তা প্রদান করা হয়।

চান্দ্রে গোউল্ড তার প্রবন্ধে একই বিষয়টির অবতারণা করেছে যা আফ্রিকা.অর্গে প্রকাশিত হয়েছে, মানব পাচার এবং বিশ্বকাপ: এটা আসলে কত বড় হুমকি? এই শিরোনামে:

২০০৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আগে জার্মানীতে একই ধরনের ভীতি বিরাজ করছিল যে, এই অনুষ্ঠানের সময় নারী পাচারের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে এবং সমর্থকদের চাহিদার কারণে টাকার বিনিময়ে মিলনের ঘটনাও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। ২০০৪-এ এথেন্সে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসের সময় একই ভাবনা বাড়তে থাকে, যেমনটা আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখতে পাচ্ছি। জার্মানীতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের সময় প্রচার মাধ্যমের তথ্যে দাবি করা হয়েছিল সেখানে পতিতার সংখ্যা বেড়ে ৪০,০০০ জনে পরিণত হয়েছিল, যাদের একটা বড় অংশ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিল(পাচার হয়ে)।

হ্যাঁ, ২০০৬-এর বিশ্বকাপ ফুটবলের কিছুদিন পরই আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংগঠনের (ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন বা আইএমও) এক তদন্তে আবিষ্কার হয় যে বিশ্বকাপের সময় নারী পাচার বা পতিতা আগমনের ঘটনার কোন বৃদ্ধি ঘটেনি এবং ৪০,০০০ যৌনকর্মীর তথ্য অসত্য এবং অবাস্তব। বাস্তবিক পক্ষে এই সংবাদ (সেপ্টেম্বর-২০০৬-এ) যুক্ত করা হয় যে, পাচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এমন কোন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই [যৌন নিপীড়নের ক্ষেত্রে] এবং বড় এই অনুষ্ঠানে তা ঘটেনি। অলিম্পিক ক্রীড়ার সময়, না আইওএম, না গ্রীক পুলিশ যৌন নিপীড়নের জন্য নারী পাচারের মত কোন অপরাধের ঘটনা খুঁজে পায়নি। বাস্তবতা হচ্ছে ২০০৪ সালে আইএমও পাচারের শিকার যে চারজন নারীকে খুঁজে পায়, তা অলিম্পিক ক্রীড়া চলার সময় ঘটেনি।

অতীতের এই সমস্ত ক্রীড়া অনুষ্ঠানে কেন নারী পাচার/পতিতাবৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি, তার নানা ধরনের কারণ রয়েছে:

জার্মানীতে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী চলা ফুটবল বিশ্বকাপের সময় কেন নারী পাচারের (পতিতাদের আগমনের) ঘটনার বৃদ্ধি ঘটেনি, আইএমও তার তথ্যে এর বেশ কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেছে। একদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যদিকে পুলিশ বিশেষজ্ঞ, যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তারা যুক্তি প্রদান করে যে, এ ক্ষেত্রে পরিমাণ মত সতকর্তা গ্রহণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল এ বিষয়ে প্রচারণা এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালে আইন শৃঙ্খলার জন্য বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ হয়ত পাচারের ঘটনা প্রতিরোধের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে যতটা ধারণা করা হয়েছিল, যৌন সেবার চাহিদা ছিল তার চেয়ে অনেক কম। এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, জার্মানীতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সময় বাস্তবতা ছিল সমর্থকরা সাধারণত বিশ্বকাপের সময় সপরিবারে উপস্থিত ছিল, যা পুরুষদের যৌন সেবা নেবার চাহিদার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর বাইরে বেশিরভাগ সমর্থকই সীমিত টাকা নিয়ে ভ্রমণ করছিল, পতিতালয়ে গিয়ে তাদের সাথে মিলিত হবার মত অতিরিক্ত টাকা সমর্থকদের ছিল না। এ ছাড়াও যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, পাচারকারীরা হয়ত উপলব্ধি করেছে বিশ্বকাপের মত এক স্বল্প সময়ের অনুষ্ঠানে, ভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের নিয়ে এসে এখানে যে ব্যবসা করা হবে, সেক্ষেত্রে তাদের বিনিয়োগের টাকা উঠে আসবে না। সীমান্ত পার করে নারীকে নিয়ে আসার জন্য এবং তাদেরকে মুঠোর মধ্যে রাখার জন্য যে অর্থ প্রদান করা হয় বিশ্বকাপের আসরে তা উঠে আসে না।

এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) কনডম কিসের জন্য? ব্লগাররা এখনো এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেনি।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .