বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মেক্সিকো: কয়ার অফ একটিয়াল শান্তি এবং ন্যায়বিচারের জন্য গান গাইছে

দক্ষিণ মেক্সিকোর চিয়াপাস অঞ্চলের ‘ৎজোৎজিল” এলাকার এক ভিন্ন ধর্মী কয়ার নামক (সাধারণত গীর্জায় গান গায়) গানের দল, কয়ার অফ একটিয়াল। আদিবাসী একদল গায়ক-গায়িকা মিলে এই গানের দল তৈরি করেছে। এটা এক যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এক অসাধারণ ভিন্ন মাধ্যম। বিশেষ করে মেক্সিকোতে আদিবাসীদের কণ্ঠস্বর যখন প্রায়শ:ই উপেক্ষা করা হয়, যখন তাদের বেশিরভাগই দারিদ্র, ক্ষুধা এবং বৈষম্যের মত বাস্তবতায় বাস করে, তখন তাদের গানে এইসব বিষয় প্রতিফলিত হয়।

এলেনা গোমেজ শান্তিজ বলেন, এইসব গানের বাণীতে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং ব্যথা উপশমের অনুসন্ধান করা হয়ে থাকে। আমরা যে শহরে বাস করি সেই শহর এবং সারা বিশ্বের জন্য এসবের খোঁজ করি। এলেনা এক আদিবাসী নারী, যে এই গানের দলের সাথে কণ্ঠ মিলান। তিনি তার এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে এই সমস্ত কথা বলেন। তিনি নারানজাটিক বাজো নামের এক ছোট্ট মফস্বল শহর থেকে এসেছেন। এটি লস আলটোস (সর্বোচ্চ চূড়া) নামের এক অঞ্চলে অবস্থিত। ব্লগ ওয়ান লাকি লাইফ [স্প্যানিশ ভাষায়] শহরটি সম্বন্ধে বর্ণনা করেছেন। এটি এমন এক শহর, যার চারপাশ ভিন্ন রকম সবুজ রঙের চেহারার পাহাড় দিয়ে ঘেরা। এই শহর মেঘের এত কাছে যে, ইচ্ছে করলে তাদের আপনি হাত দিয়ে ধরতে পারবেন।

নারানজাটিক বাজো শহরের দি চার্চ অফ “ৎজোৎজিল”। ছবি আন্দ্রেয়া  আরজাবা।

নারানজাটিক বাজো শহরের দি চার্চ অফ “ৎজোৎজিল”। ছবি আন্দ্রেয়া আরজাবা।

জর্জ সিফুয়েন্টাস [স্প্যানিশ ভাষায়] জাতীয় দৈনিক লা জুর্নাডার এক সাংবাদিক। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই কয়ার সঙ্গীত এক ধর্মীয় ঘটনার স্মরণে গাওয়া শুরু হয়। বাইবলের অনুবাদ স্প্যানিশ ভাষা থেকে “ৎজোৎজিল” ভাষায় অনুবাদ শুরু হওয়াকে স্মরণ করার মধ্যে দিয়ে এই গানের যাত্রা আরাম্ভ। “ৎজোৎজিল” আদিবাসীদের কথ্য ভাষা। এই কাজটি শুরু হয় ১৯৯৬ সালে।

তবে ‘একটিয়াল’ গণহত্যার পর কোরাস গানের দল অন্য এক লক্ষ্যকে সামনে রেখে গান গাইতে শুরু করে। ১৯৭৭ সালে এই একটিয়াল শহরে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়। এই শহরটিও লস অলটোসের একটি অংশ। সে সময় এই শহরের একটি গির্জার ভেতরে ৪৫ জন আদিবাসীকে মেক্সিকোর আধা-সামরিক বাহিনী হত্যা করে। এই গণহত্যার পর কয়ারের দল নিজেদের তৈরি গানের মধ্যে দিয়ে সরকারের কাছে এই ঘটনার বিচার দাবি করে। এই বিষয়টি একই সাথে সেই এলাকায় কি ঘটছে তার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত সেই ঘটনার কোন বিচার হয়নি।

ব্লগার লেওর্বাডো আলভারডো গানের মধ্যে স্মরণ করার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় সান ক্রিস্টোবাল ডে লাস কাসাসে, যে অনুষ্ঠানে গণহ্ত্যায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি এবং নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয় স্বজনরাও গণহত্যা স্মরণে কয়ার অফ একটিয়ালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:

Al terminar la primera oración, el coro de Acteal conformado en su mayoría por mujeres y sólo cinco hombres, suben a la escalinata de la iglesia. Antonio anuncia su participación. Es un canto singular, atractivo. En el claman por los hombres y las mujeres masacrados. La estrofa es rica en ideales, sin metáforas.

যখন প্রথম প্রার্থনা শেষ হল, তখন কয়ার অফ একটিয়াল যা বেশকিছু মেয়ে এবং পাঁচজন পুরুষের সমন্বয়ে প্রাথমিকভাবে তৈরি করা গানের দল, তারা গির্জায় গান গাওয়ার স্থানে উঠে দাঁড়ায়। এন্টোনিও তাদের অংশগ্রহণের কথা করে। এটি একটিমাত্র গান, কিন্তু তা আকর্ষণীয় সঙ্গীত। এই গানে তারা গণহত্যায় যে সমস্ত নারী এবং পুরুষ মারা গেছে, তাদের জন্য কাঁদতে থাকে। কোন ধরণের অলঙ্কার ব্যবহার ছাড়াই তৈরি করা গানের কথাগুলো চিন্তায় অনেক সমৃদ্ধ।

গানের কথার কিছু অংশ:

Yo no puedo callar,
No puedo pasar indiferente,
Ante el dolor de tanta gente,
Yo no puedo callar,
No, no puedo callar,
Me van a perdonar amigos míos,
Pero ahora tengo un compromiso,
Y tengo que cantar la realidad

আমি চুপ থাকতে পারি না,
আমি আলাদা হয়ে থাকতে পারি না,
অনেক লোকের ব্যথার মাঝে
আমি নিরব হয়ে থাকতে পারি না।
না, আমি নিশ্চুপ হয়ে থাকতে পারি না,
এবং আমার বন্ধু আমাকে ক্ষমা করে দাও,
এখন আমার এক প্রতিজ্ঞা রয়েছে
এবং আমাকে বাস্তবতার জন্য গান গাইতে হবে।

মেক্সিকোর আদিবাসীদের অধিকার অর্জনের জন্য এই কয়ার গানের দল ক্রমাগতভাবে সৎ এবং সুষ্ঠু আচরণ দাবি করে আসছে। এটি এমন এক কণ্ঠস্বর যা স্বেচ্ছায় সীমান্ত পাড়ি দিতে চায়, যে গান সবাই শুনতে চায় এবং যাকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমর্থন করছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .