বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

উজবেকিস্তান: ভাস্কর্যের যুদ্ধ

১৪ জানুয়ারি ছিল উজবেকিস্তানের ‘মাতৃভূমি প্রতিরক্ষা’ দিবস। দিনটি উজবেকিস্তানে উদযাপন করা হয়। সেদিন মহাসমারোহে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। যার নাম “মাতৃভূমির শপথ”। এটিকে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে স্থাপন করা হয়।

এই ভাস্কর্যে এক সৈনিকের মূর্তি রয়েছে যে কিনা শপথ নিচ্ছে এবং তার পিছনে এক আশীর্বাদ প্রদান করা এক নারীমূর্তি রয়েছে। এটি পার্ক অফ মিলিটির ফেম নামক উদ্যোনে দাঁড়িয়ে আছে। এর আগে এখানে সোভিয়েত যুগের নির্মিত “ডিফেন্ডার অফ মাদারল্যন্ড” বা ‘মাতৃভূমির রক্ষক’ নামের এক ভাস্কর্য ছিল। ২০০৯ সালে ভাস্কর্যটিকে এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। পুরোনো ভাস্কর্যটি ১৯৭৩ সালে এখানে বসানো হয়েছিল এবং পার্ক অফ মিলিটারি ফেম নামক উদ্যোনটি চালু করা হয় ১৯৭৫ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জয়লাভের ৩০তম বার্ষিকীতে এটি চালু করা হয়।

ভাস্কর্য উদ্ভোধনের সময় প্রদান করা বক্তৃতায় উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইসলাম কারিমভ বলেন, প্রাক্তন ভাস্কর্যটি অপসারিত করার পিছনে কারণ, তা এক পুরোনো শাসনামলের আদর্শের প্রতিচ্ছবি তৈরি করত [রুশ ভাষায়]। উজবেক ব্লগস্ফেয়ারের সকলেই কর্তৃপক্ষের অবস্থানের সাথে একমত নন।

নাসিংইউ দু'টি ভাস্কর্যের ছবি (ছবি দু'টি নিচে দেওয়া হল)- পুরাতন ও নতুন ভাস্কর্যের ছবি-নিউ তাশখন্দ কমিউনিটিতে প্রকাশ করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন [রুশ ভাষায়]:

ডিফেন্ডার অফ হোমল্যান্ড নামক ভাস্কর্যের ছবিটি:

এবং বলা কঠিন, এখানে এখন কি হচ্ছে:

টুপিজ্জা২ তার মন্তব্যে জানাচ্ছে [রুশ ভাষায়]:

এই ভাস্কর্য আমাকে জোসেফ স্ট্যালিনের যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়…..

ওল্ড বেঞ্জ উত্তর দিয়েছেন ব্যঙ্গ করে [রুশ ভাষায়]:

তারা ভাস্কর্যটাকে সরিয়ে ফেলেছে, দেশরক্ষার প্রতি যে নিবেদিত প্রাণ, এবং এই নতুন ভাস্কর্য, কোন এক ব্যক্তিকে সেখানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যে এমনকি এখনো শপথ নেয়নি! অন্য কথায় বলা যায়, এই ভাস্কর্যটিকে অনেকটা জোর করে দেশপ্রেমিক বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে!!!!

এই কাজটির প্রয়োগের ক্ষেত্রে, অনেক ব্লগারের কাছে মনে হয়েছে, এটি অনেক বেশি রাজনৈতিক এবং সোভিয়েত বিরোধী (রুশ বিরোধী) কাজ। পাভেলশেহেরমেট লিখেছেন [রুশ ভাষায়]:

এটা বেশ কৌতূহলজনক যে রুশ “দেশপ্রেমী” এবং “সত্যানুসন্ধানঈ” সংসদ সদস্যরা নিরব কেন? সম্প্রতি তারা বেশ উত্তেজিত ছিল, [জর্জিয়ার রাষ্ট্রপতি মিখাইল সাকাশভিলি] মনস্ট্রম ভাস্কর্য যা কংক্রিটের তৈরি তা ভেঙ্গে ফেলার কারণে। এই ঘটনার কারণে তারা এস্তোনিয়ার সাথে প্রায় যুদ্ধ ঘোষণা করে ফেলেছিল। এস্তোনিয়ায় একটি সৈনিকের মূর্তিকে শহরের কেন্দ্রীয় চৌরাস্তা থেকে সরিয়ে এক স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্য নির্মিত কবরখানায় নিয়ে আসার কারণে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু উজবেকদের দ্বারা তৈরি ঘটনার ক্ষেত্রে কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তাশখন্দে রুশদের উপস্থিতির স্মৃতি মুছে ফেলা শুরু হয়েছে, কিন্তু মস্কো এ ব্যাপারে নিরব।

তাশখন্দের অন্য জনপ্রিয় ব্লগার মিয়াৎশাখন্দ александр махнёв [আলেকজান্ডার মাখনভ]। যে ভাবে কর্তৃপক্ষ তাদের মনোভাব প্রকাশ করেছে তাতে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন [রুশ ভাষায়]:

আমি বলছি না এই ভাস্কর্য নষ্ট করে ফেলায় আমি খুব দু:খিত হয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন তারা নতুন করে ভাস্কর্যকে সাজানো বা নির্মাণের কথা বলে? কেন তারা স্পষ্ট করে বলে না যে, সেখানে এক নতুন স্মৃতিস্থাপনা বা ভাস্কর্য তৈরি করা হবে। নগরের বাসিন্দাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্য তারা আমাদের বিষয়টি জানাতে পারে।

এ সব ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যে সমস্ত উদ্যোগ নিতে পারে: ১ম ধাপ: ভাস্কর্যের নতুন নাম দেওয়া; ২য় ধাপ; “নতুন করে একে নির্মাণ” করা; ৩য় ধাপ- এক নতুন ভাস্কর্য বসানো যা হবে পুরো ভিন্ন এক আদর্শের প্রতীক। আমরা অবজ্ঞা প্রদর্শনে এস্তোনিয়ার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে যাব।

বলা যায়, অনেক ব্লগার সেই জায়গায় নতুন কোন ভাস্কর্য দেখতে চায় না। রাশিয়ায় উজবেক রাষ্ট্রদূত ইলকহম নেমাটভ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন উদ্যোনের যে অংশ জুড়ে ভাস্কর্যটি রাখা হয়েছিল সেটি নতুন করে নির্মাণ করা হবে এবং সেই স্থানে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে [রুশ ভাষায়]। Алекс [আলেক্সিই] মিয়াৎশাখন্দের ব্লগে মন্তব্য করছেন:

রাষ্ট্রদূত মিথ্যা বলেছেন….যদিও তিনি প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিলেন যে, পুরোনো ভাস্কর্যটিকে তার আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা হবে! বেদনাদায়ক, ভারী বেদনাদায়ক এক বিষয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .