বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সিঙাপুর: “ধর্ষণকে না বলুন” প্রচারণা

সিঙাপুরে স্ত্রীকে ধর্ষণ করলে তা ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয় না। কিন্তু তাকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ফেসবুকের একটি বিশেষ দল যারা “ধর্ষণকে না বলুন” নামে ফেসবুকের পাতায় প্রচারণা চালাচ্ছে এটাই তাদের মূল বাণী। এই দলটির উদ্দেশ্য, স্ত্রীকে ধর্ষণকারী সিঙাপুরে যে আইনের আশ্রয় পায় সেই আইনকে অবলুপ্ত করা।

“ধর্ষণকে না বলুন” প্রচারণা খুব সাধারণ একটা চিন্তাকে তুলে ধরছে: যে কোন ব্যক্তির দ্বারা যৌন নিপীড়ন ও যে কোন ব্যক্তির উপর ঘটা এই ধরনের নিপীড়ন, এক অপরাধ মূলক কাজ। ঘটনাক্রমে, উত্তেজনাহীন যৌন প্রভাবের ক্ষেত্রে, নিপীড়নকারী ব্যক্তির সাথে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা সত্বেও বিষয়টিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

এই দল ইতোমধ্যে তাদের দরখাস্তে (পিটিশন) প্রায় ৩০০০ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ফেলেছে যা দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে প্রদান করা হবে।

যারা “ধর্ষণকে না বলুন” প্রচারণার মাধ্যমে সিঙাপুরে বিবাহিত যৌন নিপীড়ককে আশ্রয় প্রদানকারী আইন বাতিলের দরখাস্তে সমর্থন প্রদান করেছে, তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই। ২০ মিনিট পূর্বে আমরা এই দরখাস্তে স্বাক্ষর গ্রহণ করা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করেছি এবং সে পর্যন্ত আমরা মোট ৩৬০০ টি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি।

পরবর্তী কয়েকদিন, আমরা প্রধানমন্ত্রী জনাব. লি সিয়েন লুং-কে প্রদান করার আগে সবগুলো তথ্য এক সাথে রাখব। তাকে আমরা ইমেইল-এর মাধ্যমে এবং মূল সব কাগজ প্রদান করে (হার্ড কপি) সকল তথ্য জানাব।

বার্নইয়ার্ড কোরাস পর্যবেক্ষণ করেছেন যে “সিঙাপুরে ধর্ষণের সংস্কৃতি সমাজের একটি উপাদান যা কিনা বিস্ময়কর ভাবে ধরা পড়ে এবং আমাদের বিব্রত করে যখন তা চূড়ান্ত ভাবে তার নির্লজ্জ কুৎসিত, ঘৃণ্য চেহারা প্রদর্শন করে”।

সিনিক “ধর্ষণ কে না বলুন” প্রচারণাকে সমর্থন করেন

চলুন আমরা একটা তথ্যের দিকে তাকাই যা কি না বিপজ্জনকভাবে বিব্রতকর।

যখন একজন অচেনা মানুষ আরেকজন অচেনা ব্যক্তিকে ধর্ষণ করে, এরপর তাদের মুখোমুখি হবার ঘটনা খুব কমই ঘটতে পারে।

যখন একজন স্বামী তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে, এরপর তারা সারাদিন পরস্পরের মুখোমুখি হয়। বাস্তবতা হচ্ছে এরপর এই নিপীড়ন চলতেই থাকে। সম্ভবত প্রতিদিনই নিপীড়ন চলতে থাকে।

যে ব্যক্তি আজীবনের জন্য ভালবাসা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে, সেই যদি এ রকম ভয়াবহ কাণ্ড ঘটায় – তা হলে বিষয়টি একজন ব্যক্তির মানসিকতার গভীরে গিয়ে আঘাত হানে।

দি টেমাসেক রিভিউ ব্যাখ্যা করছে, কেন এর কারণটি সবার জীবনের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে।

এই প্রচারণা সকলকে এক করেছে, নারী ও পুরুষ, তরুণ ও বৃদ্ধ, ভিন্ন বর্ণের, ধর্মের এবং যারা অদৌও কোন ধর্মে বিশ্বাস নয়, তাদের সবাইকে। যে কোন প্রেক্ষাপট থেকে আসা ব্যক্তি হোক না কেন, আমাদের সকলের জীবনে এ ধরনের ঘটনার কথা জানা আছে। যেই কেউ এই নিপীড়নকারী হোক না কেন, যে কারো নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য আইনের আশ্রয় নেবার অধিকার রয়েছে, কেবল ঘুষি মারাই আঘাত নয়,, জোর করে যৌন মিলনও এক ধরনের আঘাত।

“ধর্ষণ কে না বলুন” নামক প্রচারণা বেশ কিছু বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে, যেখানে সিঙাপুরবাসীদের আহ্বান জানানো হয়েছে যেন এই দরখাস্তকে সামনে নিয়ে যাবার জন্য তারা এটিকে সমর্থন করে।

তবে বেশ কিছু নেটিজেন বা নেটবাসি একে সমর্থন করে নি। টুলাং দি অনলাইন সিটিজেন ব্লগে মন্তব্য করেছে

এ ব্যাপারে সামান্য সাড়া প্রদানেই প্রমাণিত হয় যে, যদি বৈবাহিক ধর্ষণকে আইনে পরিণত করা হয় তা হলে সারা বছরই পুলিশকে এই কাজে ব্যস্ত থাকতে হত এবং তাদের আর সিঙাপুরবাসীদের অপরাধ ও সন্ত্রাস থেকে নিরাপদ রাখা ও নিরাপত্তা দেবার জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকত না। তার বদলে তাদের প্রতি রাতে হাজার হাজার দম্পতি বিছানায় যা করে তার তদন্ত করতে হত। সেক্ষেত্রে তাদের বিচার করতে হত মিলনের সময় সঙ্গীটি কি সঙ্গীনীর উপর জোর জুলুম করেছে কি না।

বিটান বিশ্বাস করেন, সংগঠকরা যথেষ্ট পরিমাণ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ এই বিষয়ে সত্যিকার জনসমর্থনের অভাব ছিল।

এই দরখাস্তকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কেবল যথেষ্ট পরিমাণ স্বাক্ষর প্রদান না করা বা প্রচারণার অভাব বা একে পরিচালিত করার অভাবের কারণে এটি প্রত্যাখ্যান হয় নি, বেশীরভাগ মানুষ মনে করে এই দরখাস্ত দুর্বল এবং অর্থহীন।

এই দরখাস্ত প্রদানকারীরা লোকজনদের অপমান করেছে, বিশেষ করে মেয়েদের। তারা এই ধারণা পোষণ করে যে, মেয়েরা নিজেদের যত্ন নিতে পারে না, যখন তাদের পিছনে আইনের পুরো সমর্থন রয়েছে।

এটাই সবচেয়ে ভালো হয়, যদি তারা তাদের শক্তি উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রদান করে। যেমন সিঙাপুরের সত্যিকারে দ্বি-দলীয় পদ্ধতি স্থাপন করার চেষ্টা করা, যেখানে আমাদের নাগরিকরা দাসদের মত শৃঙ্খলিত থাকবে না এবং বিদেশীরা যারা গণহারে এদেশে প্রবেশ করছে তারা আমাদের জাতীয় সংহতিকে বিনষ্ট করছে।

ঘর জ্বলছে এবং তারা একটা দিন চুল নষ্ট হচ্ছে বলে চিন্তিত?

কোনটি গুরুত্বপূর্ণ তা ঠিক করুন।

“ধর্ষণকে না বলুন প্রচারণার” একটি টুইটার একাউন্টও রয়েছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .