বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

এইচআইভি/এইডস বিস্তার প্রতিরোধের জন্য অনলাইনে প্রচারণা

সারা বিশ্বে যারা এইচআইভি জীবাণু বহন করছে তাদের প্রতি ঘৃণা ও বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়। অনেক দেশে সাংস্কৃতিক অনুশীলন ও সামাজিক প্রথার কারণে লোকজন এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করে না। এইডস রোগ ছড়ানোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ও লোকজন যাতে এই রোগ সম্বন্ধে সচেতন হয় এবং এই রোগের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা নেবার জন্য, সারা বিশ্বে অনেক সংগঠন ও কর্মীরা সৃষ্টিশীল ও স্থানীয় উদ্ভাবনী শক্তি দ্বারা প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এ কাজে তারা ইন্টারনেট এবং নাগরিক মিডিয়াকে ব্যবহার করছে, যাতে তাদের এই আন্দোলন বেগবান হয়।

কেনিয়া:

২০০১ সালে রিপ্যাক্টেড গঠিত হয়। কেনিয়ার নাকুরো থিয়েটার ক্লাবের তরুণ নাট্যশিল্পী এবং কেনিয়ার তরুণ যারা সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে আচরণগত পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে, তাদের মধ্যে সংগঠিত এক চুক্তির মাধ্যমে এর জন্ম হয়। সামাজিক বিষয়ের মধ্যে পুন:প্রজননের মতো ঘটনা ও এইচআইভি/এইডস রয়েছে। এই প্রকল্পে কাজের জন্য ম্যাগনেট থিয়েটার ব্যবহার করা হয় যা তাদের ফোরাম থিয়েটার ধারায় এটি একটি উদ্যোগ। এই শৈল্পিক প্রদর্শনে সেই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে, যা তারা তাদের প্রতিদিনের জীবনে আলোচনা করতে পারে না এবং তাদের জন্যে একটি ফোরাম তৈরি করা। তারা এই সমস্ত বিষয় এমনকি তাদের পরিবারেও আলোচনা করতে পারে না, কারণ এই সমস্ত বিষয় তাদের পরিবারে আলোচনা করা নিষেধ এবং সাংস্কৃতিক কারণে এগুলো নিয়ে খোলামেলা ভাবে আলোচনা করা সম্ভব হয় না। এখানে এক ভিডিও বর্ণনা করছে, তাদের অনুশীলনের বিষয়টি।

রাইজিং ভয়েসের অনুদানে রিপ্যাক্টেড এর সদস্যদের ব্লগ লেখার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা তাদের অভিজ্ঞতা বিশ্বকে জানাতে পারে। এখানে কয়েকজন সদস্যের আলোচনা তুলে ধরা হল।

এমসিসিজেএক্স কেনিয়ার স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্বন্ধে আলোচনা করেছে:

যৌনতার (অনুশীলন) স্কুলে এত বেশি মাত্রায় হয় যে, এখন অন্য যে কোন খেলার চেয়ে মাঠে এটি খেলা হয় বেশি। ৭ থেকে ২০ বছরের তরুণ, তরুনীরা অন্য যে কারো চেয়ে এই বিষয়ে বেশি জানে […]। এমন কোন ছেলে বা মেয়ে নেই, যাদের বিপরীত লিঙ্গের সাথে সম্পর্ক নেই। এর বাইরে, আমি মনে করি স্কুলে কনডম বিতরণ করা উচিত।

রিপ্যাক্টেডের সদস্যরা: ছবি রিপ্যাক্টেড/রাইজিং ভয়েসেস-এর সৌজন্যে

রিপ্যাক্টেডের সদস্যরা: ছবি রিপ্যাক্টেড/রাইজিং ভয়েসেস-এর সৌজন্যে

কলিন্স ওটিনো সাইলাস যথারীতি মনে করেন স্কুলে কনডম ব্যবহার করার শিক্ষা দিলে বিষয়টি এইচআইভি/এইডস ও অন্যান্য যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমিত রোগ ছড়ানোর পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারে।

তবে এই সমাধান এতটা সরল নয়। এই প্রকল্প ঘৃণা ও বৈষম্যের মতো আরো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে এবং এসবের থেকে বেরিয়ে এসেছে:

ঘৃণা ও বৈষম্যের ক্ষেত্রে এক সৃষ্টিশীল মনোভাব প্রয়োজন, কারণ তা এইচআইভির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সকল দিক থেকে এক প্রভাব তৈরী করে। জনসম্মুখে কনডম বিতরণ করা এখনো এক সমস্যা। যখন তরুণরা তাদের বিতরণ কার্যক্রমের জন্যে বেশী পরিমানে কনডম নিতে চায়, তখন তারা ভয়ে থাকে যেন সম্প্রদায়ের কেউ তাদের দেখে না ফেলে, কারণ এর ফলে সম্প্রদায়ের লোক তার এই কনডম নেবার সাথে যৌন মিলনকে মিলিয়ে ফেলে।

রিপাবলিক অফ কঙ্গো:

বর্তমানে কঙ্গোর ৭৯,০০০ জন লোক (মোট জনসংখ্যার ৩.৫ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক লোক) এইচআইভির সাথে বসবাস করছে এবং ৬৪০০ জন লোক এইডস রোগে মারা গেছে। আজুর ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ২০০৬ সালে রিপাবলিক অফ কঙ্গোর পয়েন্ট নোয়ারে এক প্রকল্প চালু করে যার মাধ্যমে তারা রাজধানীর ১০০ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে মানসিক ও সামাজিক সমর্থন প্রদান করছে। রাইজিং ভয়েসেসের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদিকা জুহি ভাটিয়ার মতে:

এই সংগঠনটি এখন আরো এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কঙ্গোতে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ও এর দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিরা যে ঘৃণা ও বৈষম্যের শিকার হয়, এ সব নিয়ে তথ্য তৈরি করেছে। তারা এইচআইভি ও এইডস নিয়ে কাজ করা স্থানীয় সংগঠন গুলোর কর্মকর্তা ও নেতাদের যোগাযোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে, এইডস নেটওয়ার্ক আফ্রিকার উদ্যোগে তারা ডিজিটাল গল্প বলা (যার মধ্যে রয়েছে ভিডিও ও ছবি তোলা) পডকাস্ট, এবং ব্লগিং করেছে। প্রত্যেক কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ কর্মকর্তা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে তাদের গল্প জানানোর জন্য। যেখানে সে কাজ করে সেখানকার স্থানীয় সম্প্রদায়কে কিভাবে এইচআইভি/ এইডস প্রভাবিত করছে সে নিয়ে এই সব গল্প বলা হবে।

প্রশিক্ষণ চলছে। ছবি আজুর ডেভলপমেন্ট/ রাইজিং ভয়েসেস-এর সৌজন্যে

প্রশিক্ষণ চলছে। ছবি আজুর ডেভলপমেন্ট/ রাইজিং ভয়েসেস-এর সৌজন্যে

তাদের ব্লগ এইডস রাইট কঙ্গোতে আপনি কঙ্গোর এইচআইভি পজিটিভ লোকদের গল্প পড়তে পারেন। এই পোস্ট বর্ণনা করছে. কি ভাবে এ ধরনের ঘৃণা এক গর্ভবতী মহিলার জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে:

পয়েন্ট- নোয়ারে এক এইচআইভি আক্রান্ত মহিলা হাসপাতালে সন্তান জন্মদানের সময় সন্তানকে হারান (বাচ্চা মারা যায়), কারণ কোন ধাত্রী, এই মহিলাকে স্পর্শ করতে চাইছিল না। পিএমটিসিটি [প্রোগ্রাম ফর প্রিভেনশন অফ মাদার টু চাইল্ড বা মা থেকে সন্তানের মধ্যে যাতে এইচআইভি প্রবেশ না করে তার জন্যে কাজ] চিকিৎসা গ্রহণ করার পর, অনেকেই সমাজ পরিত্যক্ত হয়েছেন….আরেকজন এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী মহিলা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এমন এক ধাত্রীর কারণে প্রাণে বেঁচে যায়, কিন্তু তার সন্তানটি মারা যায়; এই ঘটনার সময়ও ধাত্রী ভয় পেয়েছিল, তাকেও এই রোগ ধরে কিনা।

সে সমস্ত মেয়ের এইচআইভিতে আক্রান্ত হয় তাদের জীবনে….বাতিল, অনীহা এবং পরিত্যাগ এই বিষয়গুলো চলতে থাকে।

এই পোস্ট উপেক্ষা এবং বৈষম্যের এক গল্প জানাচ্ছে:

কঙ্গোর, পয়েন্ট-নোয়ারে এক এইচআইভি পজেটিভ বিবাহিত পুরুষ ও পিতাকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যখন পুলিশ জানতে পারে সে এইচআইভিতে আক্রান্ত। তার গল্পের গভীরে যে মানে রয়েছে অবশ্যই তা বিশ্লেষণ করা উচিত […]। তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ পুলিশ মনে করেছিল সে অন্য কয়েদীদের এই রোগে আক্রান্ত করতে পারে।

এই প্রকল্পে এইচআইভি/এইডসের বিরুদ্ধে ঘৃণা রোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লড়াইয়ে কমিউনিটি রেডিওর ব্যবহার করা হচ্ছে।

আমরা প্রায়শই শুনি যে বাবা মা এইচআইভি পজেটিভ সন্তানের উপর টাকা খরচ করতে চান না। যেহেতু ব্যক্তিটি নিশ্চিত মারা যাবে, কাজেই তার উপর টাকা খরচ করার কোন মানে নেই, এভাবে সমস্ত বিষয় বিবেচনা করা হয়। এই রেডিও অনুষ্ঠান এসব কারণে বাবা মাকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয় যে, শরীরে এইচআইভি রোগ নিয়ে বাস করা কোন অপরাধ নয়। সকলকেই ভালোবাসা উচিত। যে সমস্ত লোক এইচআইভি নিয়ে বাস করছে তাদের প্রতি একতা প্রদর্শন করা উচিত।

ইউক্রেইন

ইউক্রেইনে এক হিসেবে দেখা গেছে ৩২৩,০০০-৪২৫,০০ জন ইন্জেকশনের মাধ্যমে ওষুধ গ্রহণ করা ব্যক্তি রয়েছে। ইউরোপের মধ্যে এই দেশটিতে এইডস রোগ দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকা এক অন্যতম মহামারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইউক্রেইনের মাদক ব্যবহারকারী ও এইচআইভি আক্রান্তদের জন্য পাভেল কুটসেভ এক নিরাময় কেন্দ্র বা ড্রপ ইন সেন্টার স্থাপন করেছেন। তিনি ইউক্রেইনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত এই ক্ষতি কমানো কেন্দ্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার ব্লগের পোস্ট, ছবি, পডকাস্ট ও অনলাইন ভিডিওর মাধ্যমে জানাচ্ছেন।

ড্রপ ইন সেন্টার বা নিরাময় কেন্দ্র। ছবি ড্রপ ইন সেন্টারের সৌজন্যে/ রাইজিং ভয়েসেসের সৌজন্যে।

ড্রপ ইন সেন্টার বা নিরাময় কেন্দ্র। ছবি ড্রপ ইন সেন্টারের সৌজন্যে/ রাইজিং ভয়েসেসের সৌজন্যে।

পাভেল বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেছেন:

এইচআইভি/এইডস মহামারী রোধ করার জন্য বিকল্প পদ্ধতি অন্যতম এক কার্যকর পদ্ধতি এবং এটি বৈধ। বার্তাটি আমরা সমাজের কাছে পৌঁছে দেব। যদি আমরা সফল হই, তাহলে যারা এইচআইভি আক্রান্ত এবং মাদকাসক্ত, আমরা তাদের জীবন উন্নত করতে পারব।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .