বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইরান: নতুন বছর শুরু হলো ওবামার বার্তা দিয়ে

ইরানের নতুন বছর শুরু হয়েছে আমেরিকা থেকে প্রেসিডেন্ট ওবামার পাঠানো বিস্ময়কর এক বার্তা দিয়ে। তিনি এই বার্তা সরাসরি ইরানের জনগণ ও প্রথমবারের মতো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতাদের কাছে পাঠিয়েছেন। এই বার্তায় তিনি আবার নতুন করে দু-দেশের সর্ম্পক শুরু করার আহবান জানিয়েছেন। বেশ কয়েকজন ব্লগার এই বার্তার উপর তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং এদের মধ্যে কেউ কেউ এই দুই রাষ্ট্রের সর্ম্পকের টানাপোড়ন এবং অস্থিরতার একটি নতুন যুগ দেখতে পাচ্ছেন।

ইরানের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আলি আবতাহি ওবামার বার্তাটিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তিনি বলেন:

ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান এ শিরোনাম ব্যবহার করে এবং ইরানের নাগরিক ও নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি ভালো কাজ করেছেন। নি:সন্দেহে এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। নি:সন্দেহে আমরা আমেরিকার নেতাদের উপেক্ষা করতে পারি না। তাদের ইরান বিষয়ে সকল চিন্তা, আর অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যে সব বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ইরানী জাতির উপর চাপানো হয়েছে তাকে উপেক্ষা করতে পারি না। অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠানো রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং ঐতিহাসিক সুযোগ হতে পারে। আজকের বাণী এবং আমেরিকার সরকার পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে সে সুযোগ তৈরী হয়েছে। এটি উপেক্ষা করা হলে, বুশের সময়ের চেয়েও মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে কারন ওবামা বিশ্বের রাজনৈতিক নেতা এবং জনমতকে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত করতে সক্ষম।

ব্লগার এবং সাংবাদিক মাশিহ আলিনেজাদ লিখছেন( ফারসি ভাষায়) : কেন ইরানী টেলিভিশন ওবামার ভাষন প্রচার করেনি। ভদ্রমহিলা আরো যোগ করেন:

যদি বুশের মতোই ওবামা কথা বলতেন এবং ইরানকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করতেন ইরানী জাতীয় টেলিভিশন তা কয়েক বার প্রচার করতো। ব্লগার মনে করিয়ে দেন যে ইরানে বুশ বিখ্যাত ছিলেন তার ভাষনের কারনে। তিনি তার ভাষনে ইরানকে শয়তানের একটি চক্র হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য ইরানের জাতীয় টেলিভিশনে অনেকবার প্রচারিত হয়।

জানদেগিয়াহ সাগি বলছেন (ফারাসি ভাষায়) ওবামার ভাষন অনেক আশাবাদি এবং তাতে এমন কিছু ছিল যা ইরানের জনগণ অর্জন করতে পারে। ব্লগার বলেন, যে ইরানের জনগণ প্রথম যে বিষয়টি করতে পারে তাহলো সঠিক রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার।

ইন ভিউ অফ ইরান ব্লগে আমরা পড়ছি:

অনেক পরিমাপক রয়েছে যাতে মাপা যায় যে আমেরিকার সরকার বিশ্বাস তৈরী করার চেষ্টা করছে। এর সবকিছুই ইরান সরকারের ইচ্ছা যে আমেরিকার নেতাদের সাথে আলোচনা শুরু করা যায় এমনই হতে হবে তা না। আমি ওবামার নতুন বছরের বার্তাকে ইতিবাচক মনে করি, কিন্তু তার চেয়েও বেশী উদ্যোগ দরকার।

মোমেইনি লিখছেন( ফারসী ভাষায়), যখন ইরান টিভি ওবামার বার্তা প্রচারিত করলো না তখনই ইরানের প্রেসিডেন্ট আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকে অপমান করতে সমর্থ হলো। ব্লগার বলেন, ভাগ্যের কি পরিহাস, আহমদিনেজাদ বলেন ইরানে পুরোপুরি স্বাধীনতা রয়েছে।

নববর্ষের ছুটি:

বসন্তের প্রথম দিন ইরান তার নতুন বছরে প্রথম দিন হিসেবে পালন করে। ইরানের ঐতিহ্যবাহী রীতিতে নতুন বছরের শুরুতে শুরু হওয়া উৎসবকে বলো নরুজ (নওরোজ)। এই দিনটি সরকারি ছুটির দিন। এই দিনে অনেক ইরানি সাইরাস দি গ্রেটের সমাধিতে ফুল দেয়। সাইরাস ছিলেন ইরানের প্রথম সম্রাট যিনি পাসাগ্রাদ( উপরে ছবি) স্থাপন করেন। দি সেভ পাসাগ্রাদ বা পাসাগ্রাদ বাঁচাও ওয়েবসাইট (ফার্সি ভাষায়) বলছে, এই ঐতিহাসিক স্থানে যারা ভ্রমণ করতে আসে তাদের আরামের কোন ব্যবস্থাই ইসলামি প্রজাতন্ত্র করেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন বছর উদযাপান করতে আগের চেয়ে আরো অনেক বেশী এখানে লোক সমাগত হচ্ছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .