যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমারের ‘বসন্ত বিপ্লব’

Anti-junta protest during APEC summit

কর্মীরা এপেক সম্মেলনের সময় মিয়ানমারের সামরিক শাসনকে যুদ্ধবিমানের জ্বালানি ও অস্ত্র সরবরাহকারী বিভিন্ন কর্পোরেশন ও সরকারের প্রতি নিন্দা জানাতে একটি বিক্ষোভ করেছে। মিয়ানমার শিক্ষার্থী ইউনিয়নের ছবি, অনুমতিসহ ব্যবহৃত

একটি বর্মি ছাত্র জোট নিখিল বার্মা ফেডারেশন শিক্ষার্থী ইউনিয়নের যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যরা বিক্ষোভ সংগঠিত ও প্রবাসী সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক শিক্ষা পরিচালনা করে মিয়ানমারে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে সমর্থন করছে।

এই তরুণ সক্রিয় কর্মীরা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ “বসন্ত বিপ্লব” এর অংশ।

নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের সময় মিয়ানমারের সক্রিয় কর্মীরা জান্তাকে জ্বালানি ও সামরিক অস্ত্র সরবরাহকারী কর্পোরেশন ও সরকারের নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ করে।

গ্লোবাল ভয়েসেস মিয়ানমারের জান্তার নৃশংসতা উন্মোচন ও “বসন্ত বিপ্লব” এর লক্ষ্যগুলিকে প্রচার করার লক্ষ্যে তাদের প্রচারাভিযান ও কার্যক্রম ভাগাভাগি করা কিছু সক্রিয় কর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। মিয়ানমার শিক্ষার্থী ইউনিয়নের একজন প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই লেখকের পাঠানো প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

মং প্যালাতিনো (এমপি): যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ কর্মী হিসেবে ‘বসন্ত বিপ্লব'কে আপনি কীভাবে সমর্থন করছেন?

মিয়ানমার শিক্ষার্থী ইউনিয়ন (এমএসইউ): মিয়ানমারে বর্তমানে যা ঘটছে এবং বসন্ত বিপ্লবের জন্যে জনগণকে একত্রিত করতে শ্রেণীকক্ষে, রাস্তায় ও অনলাইনে যেখানেই পারি সেখানে কীভাবে আমরা বর্তমান পর্যন্ত এসেছি তার ইতিহাস ভাগাভাগি করি। মিয়ানমার বসন্ত বিপ্লবের কর্মী হিসেবে আমরা প্রচারণা চালাই, সংগঠন গড়ে তুলি এবং নিখিল বার্মা ফেডারেশন শিক্ষার্থী ইউনিয়নের নীতিগুলি প্রচার করি।

ফ্যাসিবাদী সশস্ত্র বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন ও ফ্যাসিবাদী মিয়ানমার জান্তা সমর্থকদের ফাঁসের প্রচারণা চালাতে মিয়ানমারের অভিবাসী যুবক/ শিক্ষার্থীদের (নতুন আসা অনেককে) সংগঠিত করা। আমাদের আহ্বানগুলিকে আন্তঃসম্পর্কিত ও উচ্চকিত করতে বিশ্বের অন্যান্য নিপীড়িত মানুষের সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে। (আমাদের শত্রুরা একসাথে কাজ করে)

Shutdown APEC

মিয়ানমারের সক্রিয় কর্মীরা ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে ‘এপেক বন্ধ করো’ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। ছবি: এই লেখকের

এমপি: জান্তা-বিরোধী প্রতিরোধকে তুলে ধরতে আপনি এপেক সপ্তাহে কোন কর্ম/ কর্মকাণ্ড সংগঠিত করেছেন?

এমএসইউ: আমরা ১১ নভেম্বর জন-শীর্ষসম্মেলনের আয়োজন করে মিয়ানমারের বসন্ত বিপ্লব ও স্বৈরাচারের বর্তমান সমস্যা এবং আসিয়ানসহ এপেক কীভাবে ফ্যাসিবাদী মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর সাথে মিশেছে তা নিয়ে একটি কর্মশালা ভাগাভাগি করেছি। আমাদের যুব কর্মশালাটি জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যুবকদের সাথে বিভিন্ন সংগ্রাম এবং যুক্তরাষ্ট্রে শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করা যুব আন্দোলনের সাথে সংযুক্ত করে পরিচালিত হয়।

সান ফ্রান্সিসকোতে সিইও সামিট মিটিং বন্ধ করার সময় আমরা একটি মৃতদের মতো বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। আমাদের আহ্বান ছিল ফ্যাসিবাদী মিয়ানমার জান্তার কাছে যুদ্ধবিমানের জ্বালানি ও অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা।

Myanmar Spring Revolution slogan

এপেক সম্মেলন বিরোধী কর্মশালার সময় এমএসইউ সদস্যরা ‘বসন্ত বিপ্লব’-এর একটি জনপ্রিয় স্লোগান তুলে ধরে। ছবি: এই লেখকের

এমপি: যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী মিয়ানমার সম্প্রদায়ের অনুভূতি কী?

এমএসইউ: প্রবাসী মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী সামরিক অভ্যুত্থানের প্রথম দিন থেকেই মাতৃভূমিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দাবিতে সংগঠিত হয়ে আসছে। বসন্ত বিপ্লবের জন্যে বিদেশী বর্মি সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমর্থন, প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক শিক্ষা আমাদের বিজয়ের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। একটি চলমান সাধারণ ধর্মঘট [প্রায় ৩ বছর] সামরিক জান্তার বেসামরিক প্রশাসনকে স্থবির এবং বসন্ত বিপ্লবের বাহিনী ও আদিবাসী/ জাতিগত বিপ্লবী সংগঠনগুলি ব্যাপক অঞ্চল দখল করেছে।

এপেক সম্মেলন বিরোধী কর্মশালার সময় এমএসইউ সদস্যরা ‘বসন্ত বিপ্লব’ এর তরুণ শহীদদের সম্মানে একটি গান পরিবেশন করে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .