বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মিয়ানমার: ১৯৮৭ সালে মুদ্রার নোট বাতিল প্রসঙ্গ

ব্লগার নিকনেয়মান একটা ব্লগ পোস্ট লিখেছেন যেখানে ১৯৮৭ সালে নতুন- প্রতিস্থাপিত টাকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সে সময় বিভিন্ন নোট যেমন ‘২৫ কিয়াত’ আর ‘৭৫ কিয়াত’ এর তুলে নেয়ার ফলশ্রতিতেই ১৯৮৮ সালের (সরকার বিরোধী) বিক্ষোভ শুরু হয়।

১৯৮৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর জেনারেল নে উইনের আদেশে ইউনিয়ন কাউন্সিলের সচিব (উ) সেন লুইন একটা আদেশ জারি করেন যাতে মিয়ানমার ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের প্রবর্তিত কিছু টাকা যেমন ২৫ কিয়াত, ৩৫ কিয়াত আর ৭৫ কিয়াত এর নোট নষ্ট করতে বলা হয়।

নিকনেয়মান লিখেছেন:

সেটি ৫ই সেপ্টেম্বর শনিবার ছিল। মিয়ানমার রেডিও যখন এই টাকা বাতিলের কথা জানায় তখন সকাল ১১টা বাজে। যেহেতু শনিবার ছিল তাই মানুষে রাস্তায় ছিল বিভিন্ন জায়গায়, বন্ধুর বাড়িতে বা বাজারে যাচ্ছিল আর যারা দ্রুত বেরোনোর জন্য তৈরি হচ্ছিল তারা থেমে যায় ওই স্থানেই যখন রেডিওতে এই খবর ঘোষণা করা হয়। কয়েক ঘন্টার মধ্যে সবাই থেমে যায়। রাস্তা খালি হয়ে গেল, আর মনে হলো যেন কোন দুর্যোগ এসেছে।

ওইসব টাকা তুলে নেয়ার পরে, ৪৫ কিয়াত আর ৯০ কিয়াতের নতুন টাকা ছাড়া হয়। তবে সরকার কোন ব্যবস্থা নেয় না যেসব টাকা ধ্বংস করা হয়েছে তা পাল্টিয়ে দেয়ার।

নতুন টাকা (৪৫ আর ৯০ কিয়াত) ৯ দিয়ে ভাগ করা যেত আর ৯ নম্বর জেনারেল নে উইনের জন্য সৌভাগ্যজনক ভাবা হতো। সায়ার সান আর থাকিন পো হেলা গি (ঔপনিবেশিক আমলের দুইজন বার্মিজ বিপ্লবী) এর ছবিও টাকায় দেয়া হয়, জেনারেল অং সাং এর ছবির বদলে (যার ছবি তিনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত টাকায় ছিল)।

kyat
মায়ানমারের মুদ্রা কিয়াত, ফ্লিকার ব্যবহারকারী এসএইচএনএনএন এর সৌজন্যে।

নিকনেয়মান মানুষ আর জনগণের কষ্টের কথা লিখেছেন:

গরীব আর মধ্যবিত্ত নাগরিক, সরকারী কর্মচারী, আর প্রাইভেট কোম্পানিগুলো অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এই টাকা ধ্বংসের কারনে আর যেসব মানুষ আর পরিবার সরকার আর মন্ত্রনালয়ের কাছাকাছি ছিল তাদেরকে গোপনে এই ব্যাপারটা আগেই জানানো হয়। তাই তারা তাদের টাকা পাল্টিয়ে সোনা আর অলঙ্কার কিনে নেয়, আর গিয়ে চাল, রান্নার তেল আর অন্যান্য রান্নার জিনিষ কিনে মজুদ করে রাখে। কেবলমাত্র দেশের সাধারণ নাগরিকরা টাকা তুলে নেয়ার কারনে ভুগেছিল।

তরুণ ছাত্র যারা (ইয়াঙ্গুনে) এসেছিল দেশের সর্বত্র থেকে আর হোস্টেলে থাকতো, তাদের বাবা মার কাছ থেকে আর্থিক একটা বাধার সম্মুখীন হয়, আর পড়ার ও থাকার খরচ দেয়ার ক্ষেত্রে কষ্টের সম্মুখীন হয়। টাকা কোন কারন ছাড়া এইভাবে ধ্বংস করা মানুষের কাছ থেকে চুরি করার সামিল আর এটা মানুষ আর ছাত্রদের জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে। এই কারনে মানুষ আর ছাত্ররা জেনারেল নে ইউনের শাসকদের নিয়ে অখুশী ছিল, আর তাই স্বতস্ফূর্তভাবে ১৯৮৮ এর আন্দোলনে অংশগ্রহন করে।


পোস্টে লেখা মন্তব্যগুলো অনুবাদিত। মূল মন্তব্য বার্মীজ ভাষায় করা হয়েছিল।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .