বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মায়ানমার: সৈন্যেরা বৌদ্ধভিক্ষুদের প্রভাব কমাতে চাচ্ছে

দ্য ডেমোক্রাটিক ভয়েস অফ বার্মা (ডিভিবি) হচ্ছে একটি অলাভজনক সংবাদ সংস্থা এবং সেই স্বল্পসংখক উৎসের অন্যতম যেখান থেকে মায়ানমারের সংবাদ এখনও পাওয়া যাচ্ছে। ডিভিবি বার্মিজ ভাষায় একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানাচ্ছে যে সৈন্যরা চেষ্টা করছে বৌদ্ধভিক্ষুদের তাদের ধর্মীয় জীবন পরিত্যাগে বাধ্য করতে।

কিছুদিন আগে যে ৩০০ ভিক্ষুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের ইনসিন জিটিআই কলেজের পাশে একটি গ্যারেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সৈন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তারা ভিক্ষুদের বাধ্য করছে “ধর্মীয় জীবন ত্যাগ করতে, ভিক্ষুদের পোষাক পরিত্যাগ করতে, ভিক্ষুদের ব্রত আর পালন না করে একজন সাধারন মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করতে।”

বৈধ কারণ ব্যতীত ভিক্ষুব্রত ত্যাগ করাকে পাপ হিসেবে ধরা হয়। সৈন্য তাদেরকে জনগণের দৃষ্টিতে নীচে নামিয়ে এনে তাদের প্রভাব কমাতে চাচ্ছে, তাদের লজ্জা দিতে চাচ্ছে।

ডিভিবি উল্লেখ করেছে যে সৈন্যরা নির্দেশ দিয়েছে “ইনসিনের সবচেয়ে প্রবীন ভিক্ষুকে” সেখানে আসতে এবং পালি ধর্মগ্রন্থ থেকে পড়ে শোনাতে যাতে “ভিক্ষুদের লজ্জা দেয়ার” পদ্ধতি শুরু করা যায়। এর ফলে ভিক্ষুরা সাধারন মানুষে পরিণত হবে। কিন্তু ভিক্ষুরা, যাদের প্রবীন ভিক্ষুক কর্তৃক পালি ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতিগুলো পুনরাবৃত্তি করতে বলা হয়েছিল, তা করতে অস্বীকার করে। কিছু সময় পরে ঐ প্রবীন ভিক্ষু জানান যে তিনি এই ভিক্ষুদের সাধারণ মানুষে রূপান্তর করতে পারবেন না। তিনি জোর দিয়ে তা করতে অস্বীকার করেন এবং সেই স্থান ত্যাগ করেন।

আরও সংবাদ রয়েছে যে সৈন্যেরা ইনসিনে ভিক্ষুদের পেটাচ্ছে। যখন একটি কলমিস্ত্রী সে স্থানে পানির পাইপ মেরামত করতে আসে, একটি ভিক্ষু তাকে আগ বাড়িয়ে দেখতে যায়। কিন্তু একটি সৈন্য তার বেল্ট দিয়ে সেই ভিক্ষুকে আঘাত করে থামায়। যখন সৈন্যবাহিনী ট্রাকে করে এই ভিক্ষুদের রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এক ড্রাইভার ভুল করে (ভয়ে সম্ভবত) হর্ন বাজায়। সৈন্যরা ট্রাকটিকে থামিয়ে ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

এই প্রতিবেদনে আরও জানা যায় যেএক ভিক্ষুর পায়ের আঘাতের চিকিৎসার জন্যে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কিন্তু সৈন্যরা ডাক্তারকে তার চিকিৎসা না করতে নির্দেশ দেয় যতক্ষন না পর্যন্ত ভিক্ষুটি স্বেচ্ছায় ব্রত ত্যাগ করে সাধারন মানুষে রূপান্তরিত হয়। ভিক্ষুটি উত্তর দিয়েছিল যে সে তার আঘাত থেকে মরতে পারে কিন্তু সাধারন জীবনে ফিরে যাবে না। দৃশ্যত: পরিশেষে হাসপাতালের কর্মীরা উপ-প্রধান মন্ত্রী ড: মিয়া উ এর অনুমতি নিয়ে ভিক্ষুটির চিকিৎসা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন যে সৈন্যরা হাসপাতালে ঢোকার গেটে পরিবেষ্টিত রয়েছে এবং যারা রুগী পরিদর্শনে আসছেন সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .