বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রকারদের লেন্সে করোনাকালের জীবনগাথা

করোনাকালে ঘরবন্দী বাস্তবতার গল্প উঠে এসেছে টঙ আইসোলেশন ডায়েরি সিরিজের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোতে। টঙ-ঘর টকিজের ওয়েবসাইট থেকে স্ক্রিনশট নেয়া।

লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন। যা ছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রোজকার জীবনের অংশ। করোনা এসে তা-ই বন্ধ করে দিলো। আর সবার সাথে ঘরবন্দী হলেন বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারাও। সাত মাস বন্ধ থাকার পর অক্টোবর মাসে সিনেমা হলগুলো খুললেও করোনার জন্যে সেগুলোও প্রায় খালিই থাকছে।

বাংলাদেশের অনেক স্বাধীন নির্মাতাই করোনাকালে ঘরে থাকার মুহূর্তগুলো কেমন কেটেছে, অভ্যস্ত জীবনের উপর এর অভিঘাত, ভাইরাসের ভারে রুগ্ন পৃথিবীর গল্প নিয়েই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়েছেন

স্বাধীন নির্মাতাদের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে ‘টঙ আইসোলেশন ডায়েরি’ নামে একটি সিরিজ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের একটি সিনেমা নির্মাণ, প্রযোজনা এবং অনলাইন বিপণন সংস্থা টঙ-ঘর টকিজ। এখন পর্যন্ত ৯টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রকাশ করেছে তারা।

বাংলাদেশের শহরগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হলো রাস্তার পাশে অসংখ্য ছোট ছোট চায়ের দোকানের অবস্থান। এই দোকানগুলো সাধারণত টঙ ঘর নামে পরিচিত। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সৃষ্টিশীল মানুষরাও টঙ ঘরে এসে চা খেতে খেতে মেতে উঠেন আড্ডায়। সেখান থেকেই প্রতিষ্ঠানের নাম।

জুয়েইরিযাহ মউ, প্রতিষ্ঠাতা ও নির্মাতা টঙ-ঘর টকিজ। ছবি তুলেছেন নিশিতা হোসাইন জেনিন। অনুমতিক্রমে ব্যবহৃত।

টঙ আইসোলেশন ডায়েরি সিরিজের উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতিবন্ধকতা, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ডিস্ট্রিবিউশন ইত্যাদি নিয়ে টঙ-ঘর টকিজের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্মাতা জুয়েইরিযাহ মউয়ের সাথে গ্লোবাল ভয়েসেস কথা বলেছে। পাঠকের জন্য সেই কথোপকথন তুলে ধরা হলো।

গ্লোবাল ভয়েসেস: টঙ আইসোলেশন ডায়েরি সিরিজের উদ্দেশ্য কি? কখন, কীভাবে এটা শুরু করলেন?

জুয়েইরিযাহ মউ: করোনাকালের একদম শুরুর দিকে আমরা টঙ টিম এ পরিকল্পনা করি যে কোভিড ১৯ এর এই সময়কে চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে, আইসোলেশন ডায়েরির মধ্য দিয়ে ধরে রাখতে হবে। সে থেকেই এ সিরিজের শুরু। এপ্রিলে আমরা এই সিরিজের প্রথম ডায়েরি ফিল্ম রিলিজ দেই। তারপর একে একে চলচ্চিত্রগুলো রিলিজ দিতে থাকি। এর মধ্যে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মোট নয়টি ডায়েরি ফিল্ম রিলিজ দেই আমরা ‘টঙ আইসোলেশন ডায়েরি’ সিরিজে।

গ্লোবাল ভয়েসেস: অন্যান্য স্বাধীন নির্মাতাদের পাশে আপনাদের নিজেদের টিমের একটি ছবি আছে- ল্যান্ডস্কেপ অব সোল। সেখানে একজনকে নাচতে দেখা গেছে। এর মাধ্যমে আসলে কী তুলে ধরতে চেয়েছেন?

জুয়েইরিযাহ মউ: আমাদের টিম-এর দু’টো চলচ্চিত্র আছে। ‘ল্যান্ডস্কেপ অব সোল’ এবং ‘রুগ্ন পৃথিবীর বারান্দায়’। দ্বিতীয় চলচ্চিত্রটি মিতুল আহমেদ-এর নির্মাণ, তিনি টঙ ঘর টকিজ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, নির্মাতা ও প্রযোজক।

‘ল্যান্ডস্কেপ অব সোল’ মূলত ডান্স ফিল্ম (জঁরা হিসেবে এ বিভাগ বাইরের অনেক ফেস্টিভ্যাল বা ওয়েবসাইটে আছে, আমাদের এখানে সম্ভবত এ জঁরা নিয়ে কাজ এখনো অতোটা নেই।)।

বিশ্ব নৃত্য দিবসে আমরা এ ফিল্ম রিলিজ দেই। সঙ্গীত আর নৃত্যের মধ্য দিয়ে বর্তমানের এক স্বতন্ত্র সত্তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার চিত্রায়নই করতে চেয়েছি। অন্তত এ সৃষ্টি আমাদের নিজেদের মস্তিষ্কে সে ভাবনার অনুরণন ঘটায় কী না তাই দেখতে চেয়েছিলাম।

গ্লোবাল ভয়েসেস: বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতীয় নির্মাতাদের ছবিও আপনারা রেখেছেন? আপনারা কি ভৌগলিক সীমারেখা রেখে রুগ্ন পৃথিবীর গল্পটাই তুলে ধরতে চেয়েছেন?

জুয়েইরিযাহ মউ: আমরা এর আগে নানা দেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আমাদের ইউটিউব চ্যানেল এবং ওয়েবসাইটে রিলিজ দিয়েছি। ২০২০ এর জানুয়ারিতে ইরান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, মরক্কো, ইতালি, শ্রীলঙ্কা, ইজিপ্ট সহ আরও কিছু দেশ-শহর-জায়গার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের অনলাইন ডিস্ট্রিবিউশন করেছি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে মার্চে চারটি আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র রিলিজ দিয়েছি।

এবার আমরা মূলত বাংলা ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র রিলিজ দিতে চেয়েছি এই করোনাকালে। দেখতে চেয়েছি বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গে কী করে কোভিড ১৯ এর এই সময়কে তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতারা।

বাংলাদেশের দু’জন নির্মাতা আসমা বীথি এবং দেবাশীষ মজুমদার-এর প্রথম নির্মাণ প্রকাশিত হয়েছে ‘টঙ আইসোলেশন ডায়েরি’ সিরিজে, এটাও আমাদের প্রাপ্তি এবং ভালোলাগা।

গ্লোবাল ভয়েসেস: আপনারা অনলাইন ডিস্ট্রিবিউশনের জন্যে ইউটিউবকে বেছে নিয়েছেন কেন? বেশি মানুষ দেখার সুযোগ থাকলেও তেমন সাড়া পাচ্ছেন না কেন? এর পিছনে কী কারণ আছে বলে আপনার মনে হয়।

জুয়েইরিযাহ মউ: ইউটিউব এবং আমাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট – দু’টোতেই আমরা অনলাইন ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র রিলিজ দিচ্ছি। নিশ্চয় অনেক মানুষের কাছে পৌঁছোনোর ব্যাপার তো আছেই। তবে তার সাথে সাথে আমরা এটাও জানি যে স্বাধীনধারার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিশেষত যে ধরণের চলচ্চিত্র আমরা নির্বাচন করছি বা নির্মাণ করছি তা অনেক মানুষ দেখবেন না। লক্ষ্য করলে দেখবেন, আমরা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জঁরার চলচ্চিত্র রিলিজ দিয়েছি যার মধ্যে স্বনামধন্য চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে প্রদর্শিত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র আছে, আছে বিভিন্ন ধরণের নীরিক্ষাধর্মী চলচ্চিত্র – তো বিশ্বজুড়েই এ ধরণের চলচ্চিত্রের দর্শক যে প্রচুর তা নয়। আর তাছাড়া টঙ ঘর টকিজ প্রযোজনার কাজ ২০১৭ থেকে শুরু করলেও আমরা চলচ্চিত্র ডিস্ট্রিবিউশন শুরু করেছি ২০২০ এর জানুয়ারি থেকে। এ নয় মাসে চলচ্চিত্র প্রদর্শনে যেটুকু সাড়া পেয়েছি সেটাই আমাদের অনুপ্রেরণা।

গ্লোবাল ভয়েসেস: বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কী কী বলে আপনি মনে করেন।

জুয়েইরিযাহ মউ: চ্যালেঞ্জ বিষয়টা সামগ্রিকভাবে না দেখে ব্যক্তি পর্যায় থেকে দেখা ভালো। ধরুণ গল্প বা বিষয় এর উপস্থাপন কী হবে, নির্মাণ কৌশল কী হবে? কীভাবে কোন গল্পটা আমরা বলতে চাই এ নিয়ে আমাদের এখন ভেবে দেখা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আর আর্থিক সংকট সেটা সবকালেই ছিল, এখনো আছে। এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .