বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

রুশ সংসদ দুমায় এক ইউটিউব তারকাকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান

রাশিয়ার ইউটিউব তারকা সাশা স্পিলবার্গ ২২ মে, ২০১৭-এ রুশ সংসদ দুমায় ভাষণ প্রদান করে। ছবিঃ রুশ সংসদ দুমা থেকে প্রাপ্ত।

রাশিয়ার তরুণেরা বিগত দুই মাসে বেশ কঠিন সময় পার করেছে, যেখানে প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডে আগ্রহ দেখানোর কারণে সারা দেশ জুড়ে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক এবং প্রভাষকেরা তাদের প্রত্যাখান ও অপমান করেছে। তবে রাশিয়ার রাজনীতিবিদেরা সম্ভবত এই নতুন রাজনৈতিক আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশী উদ্বিগ্ন।

দেশটির কেন্দ্রীয় আইন প্রণেতারা যে কোন অর্থে রাশিয়ার তরুণদের প্রতি যথেষ্ট উদ্বিগ্ন যে কারণে তারা ১৯ বছরের এক ইউটিউব এক সেলিব্রেটি সাশা স্পিলাবার্গকে সোমবার ভরা মজলিশে রুশ সংসদ দুমায় ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানায় ।

সাশা স্পিলবার্গ এমন এক তরুণী যে তার ৫০ লক্ষ ইউটিউব সাবস্ক্রাইবারের (ভক্তের) জন্য নিজেকে আলুর চিপস ভর্তি এক বাথটাবে ডুবিয়ে রাখে, সে রাশিয়ার শাসক দল ইউনাইটেড রাশিয়ার আহ্বানে দুমায় গিয়ে হাজির হয় বিক্ষোভের চালিকা শক্তি হিসেবে তারুণ্যকে প্রতিরোধের এক উপায় অনুসন্ধান হিসেবে।

২৬ মার্চ, দেশব্যাপী যখন হাজার হাজার কিশোর ও কিশোরী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এক দূর্নীতি বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেয় তখন থেকে রাষ্ট্রের কর্ণধারদের কানের কাছে বিপদের ঘণ্টাধ্বনি গুঞ্জরিত হতে শুরু করে, যে বিক্ষোভের একটা বড় অংশের আয়োজক ছিল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে আশাবাদী আলেক্সি নাভালনেই। এই বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদভ। তার বিরুদ্ধে নাভালানেই-এর অভিযোগ সে দুর্নীতিগ্রস্ত কয়েকটি দাতব্য সংস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক মাধ্যম থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ করেছে।

“সোমবার রাষ্ট্রীয় দুমায় প্রদান করা ভাষণে স্পিলবার্গ বলেন, “রাজনীতি নিয়ে আমার তেমন আগ্রহ নেই, আর আমি সকল রাজনৈতিক দল ও অন্যদের নামও জানি না, কিন্তু আমি জানি কী ভাবে বিপুল সংখ্যক শ্রোতার সামনে ভাষন দিতে হয়, আমার লক্ষ্য রাষ্ট্র এবং সেই সমাজের মাঝে আলোচনার সূত্রপাতে সাহায্য করা, যে সমাজে আমার অবস্থান।

একই সাথে স্পিলবার্গ কিছু উপদেশ প্রদান করেছেঃ “সবাস্ক্রাইবাররা অনেকটা ভোটারের মত, তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে একজনের প্রতিদান তৎক্ষণাৎ বা রিয়েল টাইমে দেখা যায়। আমার প্রতিটি ভিডিও এক ধরনের ছোটখাট নির্বাচন। ১৩ বছর বয়স থেকে আমি পুরোপুরি স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে আসছি- যে কোন ঝামেলায়- যেকোন মিথ্যাচার অথবা অলসতায়- প্রতিটি ক্ষেত্রে সাথে সাথে আমার দর্শকরা তাদের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে। স্বচ্ছ থাকুন, ইউটিউবে ভিডিও শেয়ার করতে থাকুন, এবং ভিকোনটাকটেতে অথবা আপনি যে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক পছন্দ করেন সেটাতে পোস্ট করতে থাকুন”।

তরুণদের হৃদয় জয় করার জন্য এই সাহসী কৌশলের কথা উল্লেখ করার পরের মূহূর্তে স্পিলবার্গ হঠাৎ করে পিছুটান দেয়, সে দুমায় উল্লেখ করে যে রাজনীতিবিদদের এই মূহূর্তে ভিডিওব্লগিং করার দরকার নেই। “এটি এখনো পরিপক্ক নয় এবং এর প্রভাব এখনো সামান্য। আমি, একজনের জন্য নির্বাচনে ভোট প্রদান করেছি এবং আমি আমার ভোট প্রদান করে যেতে থাকব, কিন্তু আমি ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, কোন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নয়”।

স্পিলবার্গ তার মন্তব্যের উপসংহার টানেন তার এক ইউটিউব সহকর্মীর কথা উল্লেখ করে যার নাম রুসলান সকোলোভস্কি। তিনি ইয়েকাতেরিনবুর্গের এক নাস্তিক ব্লগার। সম্প্রতি তাকে ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিওর মাধ্যমে ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে অপমান করার জন্য ৩ বছর পাঁচ মাসের এক স্থগিত দণ্ডাদেশ (যে শাস্তিতে অপরাধীকে জেলে যেতে হয় না কিন্তু প্রতিশ্রুতি প্রদান করতে হয় আগামীতে আর এই অপরাধ করবে না, যদি উক্ত সময়ের মধ্যে সে আবার এই একই অপরাধ করে তাহলে তাকে উল্লেখিত সময় কারাগারে কাটাতে হবে) প্রদান করে হয়। তার প্রকাশ করা বিভিন্ন ভিডিওর মধ্যে একটি ভিডিও রয়েছে, যেখানে তাকে এক গির্জার ভেতরে পোকেমোন গো ভিডিও গেম খেলতে দেখা যায়।

দুমায় স্পিলবার্গ ডেপুটিদের বলে “এসব বলার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী, কিন্তু সে এক নির্বোধ। নির্বোধদের সুস্থ করা কিংবা জরিমানা করা প্রয়োজন”।

আরো একবার পিছুটান দিয়ে স্পিলবার্গ সতর্ক করে দেন যে এ ধরনের নাগরিকদের “বিরুদ্ধে মামলা প্রদান” অবশ্যই “খুব কঠোর বিষয় এবং এটি রাষ্ট্রের জন্য কোন বাস্তব পরিমিতি বোধের পরিচয় প্রদান করে না”, আর এতে সরকারের প্রতি তরুণদের আস্থাও টলে উঠবে।

গত মাসে স্পিলবার্গ রাশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রী ভ্লাদিমির মেদিনস্কির এক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে আলোচনায় উঠে আসে। তার বেশীর ভাগ ভিডিও হচ্ছে তার অদ্ভুত শারীরিক কসরত, অথবা গানের, কিন্তু এর বাইরে স্পিলবার্গ রুশ সংস্কৃতি মন্ত্রী মেদিনস্কির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে, যে সাক্ষাৎকারে অনেক খোলামেলা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আধুনিক যুগের মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেটের কথা উল্লেখ করেছেন, যার দ্বারা রুশ সংস্কৃতকে জনপ্রিয় করে তোলা যায়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .