বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জাপানে সাজিয়ে রাখা প্লাস্টিকের নকল খাবার এখন রেস্তোরাঁ ছাড়িয়ে সর্বত্র ছড়িয়ে পরেছে

Japanese plastic food

জাপানি রেস্তোরাঁর বাইরে সাজিয়ে রাখা প্লাস্টিকের নকল খাবার (শকুহিন সানপুরু)। ছবি সায়ত এর, ফ্লিকার থেকে নেয়া। ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স (বাই ২.০) এর আওতায় প্রকাশিত।

জাপানে প্রায় প্রত্যেকটি রেস্তোরাতেই প্লাস্টিকের নকল খাবারের প্লেট সাজিয়ে রাখা হয় যাতে খদ্দেররা বুঝতে পারে ভেতরে ঠিক কি খাবার পাওয়া যাবে। সাধারণত রেস্তোরাঁর জানালায় বা গেটের সামনে রাখা প্রায় প্রতিটি আইটেমের এই নকল খাবারের নমুনা প্লেটগুলোকে অভিহিত করা হয় শকুহিন সানপুরু (食品サンプル, “খাবারের নমুনা”) নামে। রেস্টুরেন্টে খেতে আসা খদ্দেররা প্রথমে সেই প্লাস্টিকে তৈরি খাবারের নমুনাগুলো যাচাই বাছাই করার পর রেস্টুরেন্টে ঢোকেন বা অন্য রেস্টুরেন্টে যান।

এই খাবারের নমুনা তৈরির জন্যে গোটা এক ইন্ডাস্ট্রি আছে জাপানে। টোকিওর কাপ্পাবাসি অঞ্চলে এই ধরণের প্লাস্টিকের প্লেট বানানোর বেশ কটি ছোটো ব্যবসা রয়েছে। জার্মান চলচ্চিত্র নির্মাতা ভীম ভেন্ডার্স প্রায় ২০ বছর আগে তাঁদের নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছিলেন।

প্লাস্টিকে তৈরি এই খাবারের নমুনাগুলো জাপানের সবখানে দেখা যায় তাই সাধারণ জাপানিরা এটি নিয়ে তেমন আলোচনা করেনা। তবে ইদানীং এইসব নমুনাকে মোবাইল ফোনের অলঙ্কার এবং অন্যান্য স্যুভেনির বানানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্লগার ইতিনি নাভার মাতমে নামক ব্লগে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে যাওয়া শকুহিন সানপুরু নিয়ে এইসব নতুন প্রবণতার ছবিগুলোকে একত্র করে উপস্থাপন করেছেন

এখন পাওয়া যাচ্ছেঃ কিচিজোজি টোকিউ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের খাবারের নমুনার অলঙ্করণে স্যুভেনির যা ফোনের বেল্টে ঝুলাতে পারবেন।

এইসব খাবারের নমুনা দিয়ে অন্যান্য দৃষ্টিনন্দন স্যুভেনিরও বানানো হয়েছে। যেমন ফ্রিজের ম্যাগনেটঃ

টোকিও স্টেশনের একটি নতুন ডিসপ্লের জন্যে কিছু শকুহিন নমুনা ফ্রিজের ম্যাগনেট।

এই খাবারের নমুনার অলংকরণের ব্যপারটি কখনও বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়। এক্ষেত্রে, কাইসেন ডন নামের জনপ্রিয় সি-ফুড আর ভাতের খাবারকে ফোনের স্ট্যান্ড বানানো হয়েছে।

আমরা একটি খাবারের প্লেটকে একটি ফোনের স্ট্যান্ডে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছি (হাঁসি)। এটা টোকিও স্টেশনে প্রদর্শন করা হবে।

আর এখানে, একটি আপেল আপনার ফোনকে ধরে রাখবেঃ

এটিকে বানানো হয়েছে একটি আপেলের মত করে যাতে মুঠোফোন রাখা যাবে। এটি খুবই দৃষ্টিনন্দন একটি উপস্থাপন।

এটি নমুনা মাত্র যে এই প্রবণতা কিভাবে খামখেয়ালি ধারার দিকে যাচ্ছে। কোন কোন ফোনের স্ট্যান্ড আর কেস নির্মাতা আপনার নিজের ডিজাইনকে উপস্থাপন করতে রাজী হবে। এই ক্ষেত্রে দেখুন কিভাবে ইকুরা বা স্যামন মাছের ডিম (যা সাদা ভাতের উপর সাজানো থাকে) দিয়ে কিভাবে অলংকরণ করা হয়েছে। একজন টুইটার ব্যবহারকারী সন্দেহ প্রকাশ করছেঃ

কেউ কি আছে যে বলবে, “ওয়াও, দারুণ তো! আমি আমার ফোনের কেস স্যামন মাছের ডিম দিয়ে সাজাবো।” আমার মনে হয় আমিই একমাত্র।

নকল খাবারের এই অলংকরণের প্রবণতা আরও অন্য ভাবেও প্রকাশিত হতে পারে – যেমন আপনার পরিবারের লোকজন বা সহকর্মীদের ভড়কে দেবার জন্যে বিদঘুটে জিনিষ হিসেবে।

আমাদের সবচেয়ে নতুন ফোনের স্ট্যান্ডটি গোলে যাওয়া আইসক্রিমের মত দেখতে। আমাদের আরও আছে ভাতের দলার আদলে কানের অলংকার এবং স্যামন মাছের শুটকির আদলে ফোন ঝুলানোর দড়ি।

এরকম আরও নকল খাবার দিয়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপন দেখতে ইতিনির ব্লগ দেখুন অথবা টুইটার হ্যাশট্যাগ #食品サンプル#ストラップ অনুসরণ করুন।

আপনারা যদি জানতে চান যে কিভাবে এই প্রবণতার শুরু হয়েছে তাহলে এই ভিডিও দেখতে পারেন। এখানে টোকিওর কাপ্পাবাসি অঞ্চলের নকল খাবারের ব্যবসাগুলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আর এই ভিডিওতে আছে কিভাবে এইসব জাপানি নকল খাবারগুলোকে তৈরি করা হয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .