বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় রুশ রাজনীতিবিদ জনতাকে “কম খেতে” বলছে

Images mixed by Kevin Rothrock.

ছবি মিশ্রণ কেভিন রথরকের

কঠিন সময় ত্যাগের আহ্বান জানায়। সম্প্রতি স্থানীয় এক মুদির দোকান (নিত্য পণ্যের দোকানে) পরিদর্শনে এসে একতারিনবার্গ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইলিয়া গাফনার এই বাণী প্রদান করে, যেখনে সে টিভি ক্যামেরার সামনে বলে যে রুশ নাগরিকদের এখন কৃচ্ছ্রতা সাধনের কথা বিবেচনা করা উচিত, বিশেষ করে যখন তারা খাবারের দাম বাড়ার মত সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে। গাফনার বলেন যে “যদি বিষয়টি পরিষ্কার করে দেখা যায়, তাহলে বলতে হবে যদি আপনার কাছে কম পরিমাণ টাকা থাকে, সেক্ষেত্রে আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে যে আমরা সকলে রুশ নাগরিক- রাশিয়ার জনতা- এবং আমাদের এখন ক্ষুধা আর ঠাণ্ডা থেকে রেহাই পেতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে খানিকটা চিন্তা করতে হবে এবং পরিমাণে খানিকটা কম খেতে হবে”।

গাফনার ২০১১ সালে তার বর্তমান এই পদে নির্বাচিত হয়, এরপর ২০১২ সালে সে দেশটিকে নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক দল “ইউনাইটেড রাশিয়ায়” যোগ দেয়। এপ্রিল ২০১৪ থেকে সে ইউনাইটেড রাশিয়ার “পপুলার কন্ট্রোল” নামক প্রকল্পের এক সদস্য, যা দোকানে দোকানে অভিযান পরিচালনা করে, ভোক্তাদের জন্য রাখা পণ্যের দাম পর্যবেক্ষন করে এবং ভিন্ন ভিন্ন আইন পালনের বিষয় দেখাশোনা করে। যেমন এক উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ইউনাইটেড রাশিয়া দাবী করেছে যে ২০১০ থেকে ২০১১ পর্যন্ত তারা ২,০০০ এরকম অভিযান পরিচালনায় সমম্বয় সাধন করেছে ।

ইউনাইটেড রাশিয়ার ইয়েকতারিনবার্গের আঞ্চলিক শাখার ওয়েবসাইটে ২১ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে গাফনারের করা এক অভিযানের ভিডিও রয়েছে, যদিও তাতে সে সংবাদ যুক্ত করা হয়নি যেটিতে তার এই বিতর্কিত উক্ত “কম খাও” যুক্ত করা নেই। তার বদলে গাফনারকে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে দেখা যায় যে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ দেশটির মুদ্রা এক দুর্দশায় পতিত হয়েছে।

যখন গাফনার সংবাদপত্রের কাছে তার এই মন্তব্য নিয়ে কোন কথা বলতে অস্বীকার করেছে, তখন কোমোমেরসান্ট নামক সংবাদ সংস্থাকে ইউনাইটেড রাশিয়ার ইয়েকতারিনবার্গের আঞ্চলিক প্রধান ভিক্টর সেপ্টি বলেন যে গাফনার “ভুল বাক্য” উচ্চারণ করেছে। তিনি এই বিষয়ের প্রতি জোর দিয়েছেন যে “একবার কোন কথা উচ্চারণ করার আগে সাত বার চিন্তা করা উচিত”।

স্থানীয় টেলিভিশনের সংবাদে তুলে ধরা যে ফুটেজ ইউটিউবে রাখা হয়েছে সেখানে গাফনারের পুরো মন্তব্য রয়েছে, যা ইতোমধ্যে ৫৩,০০০ বার দেখা হয়েছে এবং এর নীচে প্রায় ৮০০ মন্তব্য করা হয়েছে। সম্ভবত গাফনার তার শ্রোতাদের রুশ আচার আচরণ সম্বন্ধে উল্লেখ করার কারণে, অনেক ইউটিউব ব্যবহারকারী সে কোন জাতির নিয়ে জল্পনা কল্পনা করছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধারণা করছে যে জাতিতে সে ইহুদি (যার ফলে সে সম্ভবত, কোন এক ভাবে “ছাড় দিয়েছে”)। অন্য মন্তব্যকারী দৃশ্যত রাশিয়ার বিরামহীন ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়ে খামখেয়ালি পূর্ণ বক্তব্য নিয়ে হাজির হয়েছে। “ওহে রুশ নাগরিকরা, তোমরা সবসময় গর্জন করতে থাক। ‘সবকিছু আমাদের! আমরা আমাদের মত করে সবকিছু করব! ক্রিমিয়ার জন্য আমরা সবকিছু করতে রাজি!” “তাহলে এখন কি? তাহলে কেন এসব ঘ্যানঘ্যান করা? এই কথাগুলো লিখেছে “স্টাস গ্রেস্টাস”, যা ৩৮৪ জন পছন্দ করেছে।

তবে পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধের দিকে না তাকিয়ে অনেকে এর মাঝেও রাজনৈতিক হাস্যরসের যোগান খুঁজে পেয়েছে। যেমন এর এক উদাহরণ হচ্ছে ৩০৫ জনের পছন্দ হয়েছে আলেকজান্ডার মাখোরিনের এই লেখা। যে লিখেছে :

Далее он наверно посоветует гражданам поменьше пить, аккуратнее носить одежду и обувь чтоб поменьше покупать, а также поменьше ходить в туалет, дышать, разговаривать и, наконец, оптимальный вариант, поменьше жить.

সম্ভবত এরপর সে হয়ত নাগরিকদের কম পান করার উপদেশ প্রদান করবে এবং এরপর আরো সতর্ক হয়ে আমাদের পোষাক ও জুতা পরার উপদেশ প্রদান করবে, কাজেই আমাদের উচিত হবে প্রায়শ সেগুলো পাল্টে ফেলা। এর আরো পরে সে হয়ত আমাদের কম কম বাথরুম যেতে, নিঃশ্বাস নিতে, কথা বলতে বলবে, আর সবশেষে সবচেয়ে সেরা বেছে নেওয়ার সুযোগ, খানিকটা কম বেঁচে থাকতে উপদেশ দেবে।

যখন তেলের দাম পড়ে যাওয়া, ইউক্রেন বিষয়ে মস্কোর নীতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক আবরোধ আরোপ, রাশিয়ার আভ্যন্তরীণ রাজনীতি অনড় হয়ে থাকার ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি সঙ্কটের মাঝে আবর্তিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গাফনারের মত মুখ ফসকে যাওয়ার মত ঘটনা এখন নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একমাস আগে, সেন্ট পিটার্সবার্গে একই ধরনের এক ঘটনা ঘটেছে যেখানে বরফ সরানোর দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাজের সময় ঘটনাস্থলে না পাওয়ার ফলে নাগরিকদের নিজেদের রাস্তা নিজেদের পরিষ্কার করতে বলায় লেফটেন্যান্ট গভর্নর প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন। যখন ক্রমশ দাম বাড়তে থাকার কারণে রাশিয়ার ভোক্তারা চাপ অনুভব করছে, আর দেশটির রাজনীতিবিদেরা দেশটির সরকারের কাছে জনগণের বাড়তে থাকা আশাকে খাপ খাইয়ে নিতে বলছে, এ বছর দেশটি সামনে আরো ভুল পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত প্রদান করছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .