বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সিরিয়া এবং ইরাক জুড়ে ইসলামী রাষ্ট্রের মারণাস্ত্রের তৎপরতায় #আইএসআইএসমুভিজ এর টুইটারে নতুন ধারার সৃষ্টি

This map allegedly showing the expanses the ISIS plan to annex has gone viral. Source: Unknown

আইএসআইএসের বিস্তৃতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মানচিত্র। সূত্রঃ অজানা। 

দ্যা ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) একটি স্বঘোষিত ইসলামপন্থী খিলাফত তথা রাজ্য। এটি সিরিয়ার সোয়াত এবং ইরাক জুড়ে তাদের খিলাফত কায়েম করতে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইটারে আইএসআইএস নিজস্ব ব্যাখ্যামূলক হ্যাশট্যাগ #আইএসআইএসমুভিজ এর অধীনে এক নতুন ধারা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। 

সমগ্র বিশ্ব জুড়ে নেটিজেনরা সশস্ত্র সুন্নি ইসলামপন্থিদের কার্যক্রমের প্রতিফলন ঘটাতে জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর নাম পরিবর্তন করে দিচ্ছেন। দলটি সাধারনভাবে ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামেও ব্যাপক পরিচিত। এটি সমগ্র সিরিয়া এবং ইরাকের জনগণকে ভয় দেখিয়ে শাসন করছে। এটি তাদের রক্ত জমে যাওয়া শোষণের নানা ছবি পোস্ট করেছে। ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা, গণ হত্যা এবং শিরশ্ছেদ করা মাথার ছবিও এগুলোর মধ্যে রয়েছে। তাদের চলার পথে যারা বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁরা কী ধরণের ভয়াবহতার সম্মুখীন হয়েছে তা সারা বিশ্বের বেসামরিক নাগরিকদের জানাতে এসব ছবি তারা অনলাইনে পোস্ট করছে।

যারা ইসলামের কট্টরপন্থী সংস্করণ থেকে ফিরে আসেনি এবং তাদের স্বঘোষিত খলিফা আবু বকর আল বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে – তাদেরকে নাস্তিক বলা হয়। আর তাই মৃত্যুই তাদের প্রাপ্য। বিশেষকরে, মসুলে বসবাসকারী খ্রিস্টানদের তারা বিতাড়িত করেছে, তাদেরকে হত্যা করেছে এবং উত্তর ইরাকে বসবাসকারী ইয়াজিদিরা খাদ্যাভাবে মারা গেছে। এসবের অনেক কিছুই তারা ছবি দিয়ে প্রকাশ করেছে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সারা বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।  

ম্যাসাচুসেটস থেকে এই টুইটার ব্যবহারকারী আইএস এর রক্ত পিপাসা প্রতিফলিত করতে “ভাল ইচ্ছার খোঁজে” চলচ্চিত্রের নাম বদলে রেখেছেন “রক্ত পিপাসা”ঃ

ভাল নাস্তিক শিকার [গুড ইনফিডেল হান্টিং]  #আইএসআইএসমুভিজ 

লেবানন থেকে ইংক দুইটি আইএসআইএস প্রযোজিত ভিডিও পাঠিয়েছেন। চলচ্চিত্রটির নাম দেয়া হয়েছে, “গন ইন সিক্সটি সেকেন্ডস”ঃ  

#আইএসআইএসমুভিজ “৬০ সেকেন্ডে শিরচ্ছেদ”।   

“যেভাবে আমি তোমার মার সাথে সাক্ষাৎ করি” চলচ্চিত্রটির নাম রাখা হয়েছেঃ 

“যেভাবে আমি তোমাদের মন্দির উড়িয়ে দেই” 

যেহেতু সাধু সন্ন্যাসীদের শ্রদ্ধা করাকে তারা স্বধর্ম ত্যাগ করা এবং শিয়া মুসলমানদের বিপথগামী বলে মনে করে, তাই আইএস বেশ কয়েকটি প্রাচীন মন্দির এবং উপাসনালয় ধ্বংস করে দিয়েছে। 

মিশরের কায়রো থেকে এএম হোমসানি “গানের আওয়াজ” ছবিটির নাম পরিবর্তন করে একটি নতুন টুইট করেছেনঃ

“গানের শব্দ হারাম” 

হারাম একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ পাপময়। এই মৌলবাদীরা গানকে পরিহার করে থাকেন। তারা গানকে বলেন “শয়তানের কাজ”।

হিলাল ইবরাহিম টসলাক “সেভিং প্রাইভেট রায়ান” চলচ্চিত্রটির নাম রেখেছেনঃ 

“সেভিং প্রাইভেট আবু রায়ান” #আইএসআইএসমুভিজ 

আবু শব্দটি লাগিয়ে জঙ্গীরা সম্মানসূচক পদবীর অবমাননা করেছেন। আরবি ভাষায় শব্দটির অর্থ “কারও পিতা”। সারা বিশ্ব থেকে জিহাদিরা আইএস দলটিতে যোগ দিয়েছেন। এই মিথ্যা নামগুলোর কারনেই তাদের খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবুধাবি থেকে হাসান হাসান নাম দিয়েছেনঃ 

প্রাইভেট রায়ানের শিরচ্ছেদ #আইএসআইএসমুভিজ

- শিকারকে জবাই করতে আইএস এর প্রিয় পন্থা আবারও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যাচ্ছে।

সবার কাছে এই হ্যাশট্যাগটি কৌতুক পূর্ণ মনে হয়নি। নিউ ইয়র্ক থেকে মোহাম্মাদ আলইয়াহিয়া তাঁর ১,৭৪৮ জন অনুসারীর উদ্দেশ্যে বলেছেনঃ 

আমি যদি #আইএসআইএস বাহিনীতে থাকতাম, তবে #আইএসআইএসমুভিজ হ্যাশট্যাগটিতে করা বেশিরভাগ টুইটের বোকামি নিয়ে উন্মত্তভাবে হাসাহাসি করতাম। 

একই সময়ে কাশ্মির থেকে আখতার বলেছেনঃ 

কয়েকটি #আইএসআইএসমুভিজ শিরোনাম সত্যি ধর্মীয় অনুভূতিতে চরমভাবে আঘাত করেছে। দয়া করে ইসলামের বিরুদ্ধে  মিথ্যা অপবাদ দেবেন না। 

হ্যাশট্যাগটির কথা বিবেচনা না করে রক্ত পিপাসু এই সন্ত্রাসীরা ক্রমাগতভাবে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই নিষ্পাপ লোকেদের হত্যা করছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .