বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

তিউনিশিয়ায় ভোট দেয়া না দেয়া নিয়ে বিতর্ক

2014 elections logo, via the Facebook page of the independent election commission

২০১৪ সালের নির্বাচনের লোগো। ছবিটি নেয়া হয়েছে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফেসবুক পেজ থেকে।

আর কিছুদিন পরেই তিউনিশিয়ার সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে ভোট দেয়া নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তিউনিশিয়ার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ অক্টোবরে, আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বরের ২৩ তারিখে।

যদিও বেশিরভাগ মানুষ বছরের শেষের দিকের এই নির্বাচন নিয়ে মোটেও উৎসাহী নয়। উৎসাহী না হওয়ার মূল কারণ, রাজনৈতিকগুলোর বিগত তিন বছরের পারফর্মেন্স নিয়ে অসন্তুষ্টি। ২০১১ সালের নির্বাচনের সময়ে ‘দিন বদলের যে আশাবাদ’ ছিল, তা পূরণ হয়নি। কোনো অবস্থারই পরিবর্তন হয়নি।

স্বৈরশাসক বেন আলীর পতনের পর ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে তিউনিশিয়ায় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ইসলামপন্থী এন্নাহদা পার্টি ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে। নতুন সংসদ নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরি করে।

অনেকের মতো নেইমারিয়াও অবাক হয়েছেন:

তিউনিশিয়ার নির্বাচন নিয়ে আমি কী করবো? কোনো রাজনৈতিক দল-ই আমার পছন্দ নয়। আবার না ভোটও গোনা হয় না।

টুইটার ব্যবহারকারী প্যাপিলনের ১৩ হাজারের মতো অনুসরণকারী রয়েছেন। গত ২৪ জুন তিনি নিচের প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন:

Personne de ceux qui encouragent au vote ne peut répondre à la question pourtant simple: a quoi ça a servi de voter le 23/10 ?

এখন কেউ-ই আর কাউকে ভোট দিতে উৎসাহিত করছেন না। কারণ কারো কাছেই এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নেই: ২০১১ সালের ২৩ অক্টোবরের ভোট কি ফলপ্রসু হয়েছে?

টুইটারে ব্লগার সাবের আরাবাস্তার অনুসরণকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন:

@Papiillon: à connaitre l'équilibre des forces politiques dans le pays, à changer de gouvernement, à changer de président, à écrire une const

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভারসাম্য এসেছে, সরকার পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন হয়েছে, সংবিধানের খসড়া তৈরি হয়েছে।

অন্য একটি টুইটে তিনি আরো যোগ করেন:

@Papiillon à débattre des lois, à débattre du budget, à décider d'un processus élctoral, de justice transitionnelle, changer de diplomatie

আইন নিয়ে আলোচনা, বাজেট নিয়ে বিতর্ক, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও অন্তর্বতীকালীন বিচারব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন এসেছে।

টুইটার ব্যবহারকারী চিখ ম্যাগন জিজ্ঞেস করেছেন:

@Papiillon à quoi sert de boycotter les élections, je te retourne la question ?

আমি আপনার কাছে আবার জিজ্ঞেস করতে চাই: নির্বাচন বর্জন কি ফলপ্রসু হবে?

ফেসবুকে সাংবাদিক এবং ব্লগার হাথেম এল মেক্কি লিখেছেন:

Bon les pro boycott et abstentionnistes : J'aurais bien aimé vous suivre et vous soutenir, mais il faudra me dire ce que vous avez prévu concrètement et de façon pragmatique… Quel résultat espérez-vous en prônant le boycott ? Enfin mis à part le fait de nous priver des voix de ceux qui souhaitent un changement plus que quiconque… Je suis aussi insatisfait et remonté contre la classe politique que vous, voire plus, mais je ne vois que du nihilisme dans votre approche que je trouve destructrice et infantile… Pourriez-vous me convaincre du contraire ?

যারা নির্বাচন বর্জনের পক্ষে কথা বলছেন আমি তাদের সমর্থন করি। তবে তাদের কাছে আমার একটা জিজ্ঞাসা আছে, আপনারা কি পরিকল্পনা করছেন… নির্বাচন বয়কেটর মাধ্যমে আপনারা কি ফল অর্জন করতে চাইছেন? আমাদের ভোট থেকে দূরে রেখে আপনারা কি আরো বেশি পরিবর্তন দেখতে চান… আপনাদের মতো আমিও রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে বীতশ্রদ্ধ। কিন্তু আমি আপনাদের মাঝে নৈরাশ্যবাদ দেখতে পাচ্ছি, যা শিশুতোষ এবং ধ্বংসাত্মক… আপনারা কি আমাকে উল্টো যুক্তি দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারবেন?

বেচির বিজেরটিনো মন্তব্য করেছেন:

قبل كل شي فسرلنا انت كيفاش بمشاركتك في الانتخابات لاختيار اي طرف من القذارة المفروضة علينا بش تغيير حاجة في البلاد … اما انا فمقاطع لانه صوتي لاي طرف حامج من الموجودين موش بش يصلح حتى شي وما عنده حتى قيمة بما انه الطبقة السياسية باكملها ما تسمع كان للسفراء الاجانب موش للشعب اللي وكلها لنيابته …. وبمقاطعتي فعلى الاقل رابح انه ما عطيتهمش اي شرعية ولم اوكلهم ولا يمكنهم ادعاء ذلك ….

প্রথমে আপনি আমাদের ব্যাখ্যা করুন, নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই ক্ষমতালিপ্সু রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দিয়ে দেশের অবস্থার কী কোনো পরিবর্তন হবে। আমার মতামত শুনুন, আমি নির্বাচন বয়কট করছি, কারণ ক্ষমতালিপ্সু এই দলগুলোর কাছে আমার ভোট কিংবা মূল্যবোধের কোনোই দাম নেই। আমাদের সমস্ত রাজনৈতিক দল-ই বিদেশি রাষ্ট্রদূতের কথা শুনতে ব্যস্ত, তাদেরকে যারা নির্বাচিত করলো, তাদের কোনো দাম-ই নেই।… নির্বাচন বয়কেটর মাধ্যমে আমি তাদের বৈধতা দিচ্ছি না, যা তারা জাহির করতে পারে।

জেনোভা গামহা ফাহমি নিচের মন্তব্যটি পোস্ট করেছেন:

A mon avis il faut aller voter, pour un parti ou un autre, dans cinq ans si on n'est toujours pas satisfaits on votera pour un autre et ainsi de suite, c le jeu.
Il faut aller voter, c un devoir envers ceux qui sont morts pour nous l'octroyer ce droit.
Ne vous attendez pas à un miracle suite aux élections, les tunisiens ont tendance à vouloir tout tout de suite ce qui relève de l'impossible!

আমার মতামত হচ্ছে, ভোট যে কারো জন্যই বাধ্যবাধকতা। পাঁচ বছরের সময়কালে কোনো দল যদি আমাদের সন্তুষ্ট করতে না পারে, তাহলে আমরা অন্য দলকে ভোট দিবো। এটা একটা খেলার মতো ব্যাপার। ভোটাধিকার এনে দিতে যারা মারা গেছেন, তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। নির্বাচনের পরেই আশ্চর্য পরিবর্তন আসবে, এমন ভাবা কারোই উচিত নয়। তিউনিশিয়ায় সবাই সবকিছু চটজলদি হয়ে যাবে এমন আশা করেন। কিন্তু বাস্তবে এটা তো অসম্ভব।

ইতোমধ্যে দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ২২ জুলাইয়ের আগে ভোটার তালিকায় নাম উঠানোর জন্য প্রচারণা শুরু করেছে। উল্লেখ্য, যারা ভোট তালিকায় নাম লেখাবেন না, তারা ভোট দিতে পারবেন না।

এই নির্বাচনী প্রচারণায় ৪০ লাখ ভোটারকে টার্গেট করা হয়েছে। এরা ২০১১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট দেননি।

২০১১ সালের নির্বাচনের ভোটার অনুপস্থিতি অনেক বেশি ছিল। আনুমানিক ৫০% ভোটার ভোট দিতে যাননি। নির্বাচন কমিশন এবং সুশীল সমাজের ধারণা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতার কারণে এবারের ভোট প্রদানের হার আরো কমবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .