বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মিশরের সিনাইতে সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটক নিহত

মিশরের সিনাইতে ৩০ জন পর্যটককে বহনকারী একটি বাস আজ একটি বোমা বিস্ফোরণে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দু’জন দক্ষিণ কোরিয় নাগরিক এবং মিশরীয় বাস চালক নিহত হয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, যখন বোমাটি বিস্ফোরিত হয় তখন পর্যটকেরা সেন্ট ক্যাথেরিনের মঠ পরিদর্শন করা শেষে ইসরাইল যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

ইন্টারনেটবাসীরা তথ্যের জন্য হুড়াহুড়ি করছেন।

সাংবাদিক ক্রিস্টেন ম্যাকটিঘের মতেঃ

এএফপি ব্লুমবার্গ রিপোর্ট করেছে, সিনাইতে পর্যটক বাসে হামলাতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। পক্ষান্তরে মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে যে ৪ জন আহত হয়েছে, কোন প্রাণহানি ঘটেনি।

তিনি আরও বলেছেনঃ 

সিনাইতে যে বাসটিতে হামলা করা হয়েছে, তাতে ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্ত্বার ৩০ জন পর্যটক ছিল। এটা নিশ্চিত যে নিহত হওয়া নাগরিকেরা হচ্ছেন কোরিয়ান।

ফিরাস আল-আতরাকচি বলেছেনঃ 

আজকের সিনাই বাস হামলা সম্পর্কে মিশর বিরোধপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রেডিও মিসারকে বলেছে বাসের চালক সহ তিনজন মারা গেছে, ১৩ জন আহত হয়েছে।   

এবিসি নিউজের মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা আলেকজান্ডার মারকোয়ারডেট অন্যান্য আরও তথ্য দিয়েছেনঃ 

মিশরের তাবাতে বাসে বোমা হামলার শিকার ৩২ জন পর্যটকদের সবাই দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, সেন্ট ক্যাথেরিন থেকে বাসটি আসছিল। তারা হিলটন হোটেলে অবস্থান করছিলেন।  

হামদি কাসেম পরিশেষে [আরবি] বলেছেনঃ 

যেহেতু প্রাণহানির সংখ্যা এবং বিরোধপূর্ণ তথ্য প্রদান করা হচ্ছে, তাই আমাদের মাঝে যারা সাংবাদিক নয়, তারা জানবে না যে তাবা বাস বোমা হামলায় কি ঘটেছে। যে দেশে সব ধরনের তথ্য প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, সে দেশে তথ্য জোগাড় করতে হলে সাংবাদিকদেরকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়। 

এটাও যদি যথেষ্ট না হয়ে থাকে, তবে বিগ ফারাও দাবি করেছেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের টুইটার একাউন্ট থেকে আরও আরও ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছেঃ 

ব্রাদারহুড দপ্তরের টুইটার একাউন্ট (অবশ্যই আরবিতে): তাবাতে পর্যটক বাসে বোমা বিস্ফোরণে ৩ জন ইহুদি মারা গেছেন। 

শীঘ্রই যথেষ্ট পরিমাণে ছবি অনলাইনে ঢালাওভাবে প্রচার হবে।

ফাতিমা সাইদ ছিন্ন ভিন্ন বাসটির অবশিষ্টাংশের এই ছবিটি শেয়ার করেছেনঃ

বোমা বিস্ফোরণের পর ৩০ জন পর্যটককে বহনকারী বাসটির ছবি। বাসটি ইসরাইল থেকে তাবার দিকে যাচ্ছিল।  

মিশরীয় ব্লগার এবং সাংবাদিক মুহাম্মাদ সাবরি ছবিটি নিয়ে মন্তব্য করেছেনঃ 

পর্যটক বাসটির ছবি থেকে এটাই প্রকাশিত হয়েছে যে বাসে থাকা প্রত্যেকটি মানুষ কোন না কোন ভাবে আহত হয়ে থাকবে। বাসটি দেখতে উত্তর সিনাইয়ের সৈন্যদের বহনকারী বাসের মতো লাগছে।   

বোমা বিস্ফোরণে যে মিশরীয় বাস চালক নিহত হয়েছে বলে বলা হয়েছে, তাঁর ছবি আমরো আলি শেয়ার করেছেনঃ 

বাস চালকের নাম আম (চাচা) সামি। তাবা বাস বোমা বিস্ফোরণে তিনি মারা গেছেন। হামলার শিকার সকল ব্যক্তি এবং তাঁর প্রতি সমবেদনা 

মিশরীয় কালানুক্রমিক ঘটনাপঞ্জিতে জেইনোবিয়া সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পর্যটকদেরকে উদ্দেশ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি ব্লগ লিখেছেনঃ 

আমরা আবার ১৯৯০ সালের দিনগুলোতে ফিরে গেছি। সে সময়ে পর্যটকেরা ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। আসলে আমরা আবার ২০০০ সালে ফিরে গিয়েছি, যে সময়ে বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে দক্ষিণ সিনাই অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

এখন সন্ত্রাসী হামলাগুলো দক্ষিণে সরে এসেছে। সেখানে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। আমি এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে ২০০০ সালে তাবাতে পর্যটকদেরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পরে নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয়দের কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা গ্রহন করতে নরক যন্ত্রণা চালাতে ঝাপিয়ে পড়ে। রাষ্ট্রের সাথে স্থানীয় লোকদের সম্পর্কে এতে করে প্রভাবিত হচ্ছিল। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত উত্তরে যা ঘটছে তা সেই ঘটনারই ফলাফল। এখনো উত্তরে সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী যেসব অভিযান চালাচ্ছে, তা আরও খারাপ থেকে খারাপতর হতে চলেছে।

অতঃপর, মিশরীয় ইন্টারনেটবাসীরা তাদের পর্যটন শিল্পকে বিদায় জানিয়েছেন।

নাসরি ইসমাত প্রচন্ড তিক্ততার সাথে টুইট [আরবি] করেছেনঃ 

এতগুলো মানুষ মারা যাওয়ায় আমরা একটি জাতি হিসেবে মোটেও প্রভাবিত হচ্ছি না … আমরা শুধুমাত্র আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ পর্যটন ব্যবসা নিয়ে উদ্বিগ্ন।   

মোহাম্মাদ আল দাহশান উল্লেখ করেছেনঃ 

বিদেশী পর্যটন সংস্থাগুলো হয়তো আর কদাচিৎ ভ্রমণ পিপাসুদের মিশর ভ্রমণে নিয়ে আসবে। তাবার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময়ে অনেকেই এখনো মধ্য প্রাচ্য ভ্রমণে যাওয়ার প্রস্তাব করে থাকে। এখন সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে।  

আশরাফ খলিল আরও বলেছেনঃ 

এমনকি মিশরের পর্যটন বাইবেলের শেষ অধ্যায়ে এখনো কিছু সংখ্যক ধার্মিক পর্যটক এমটি সিনাই বা পবিত্র পারিবারিক ভ্রমণে আসতো। এখন সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে।  

মোনা এলতাহাওয়ি বলেছেনঃ 

মিশরে এখন কারা ক্ষমতাসীন রয়েছে? এটি একটি জরুরি প্রশ্ন ? 

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .