বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জাপানে দ্রুত কমে যাচ্ছে টফু কারিগরের সংখ্যা

Traditional tofu maker

একটি টফু তৈরির দোকানের ছবি। ছবি নেয়া হয়েছে ফ্লিকার ব্যবহারকারী সাওয়াকো (সিসি বিওয়াই এনসি এনডি ২.০) এর কাছ থেকে। (CC BY NC ND 2.0)


খবরটি বেরিয়েছে জাপানের ইয়োমিউরি পত্রিকায়। দেশটির ঐতিহ্যবাহী টফু কারিগর, যারা নিজেদের দোকানে টফু তৈরি এবং বিক্রি করেন, তাদের সংখ্যা দ্রুত হারে কমে যাচ্ছে। পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে ৫ হাজার টফু কারিগর তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন।

টফু শিল্পের সাময়িকী টয়োশিম্পো বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে, প্রতি বছরই টফু কারিগরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এখন জাপানে মোট টফু কারিগরের সংখ্যা ১০ হাজারেরও কম।

সয়াবিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় টফু সরবরাহকারীদের ব্যবসা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। এদিকে সুপার মার্কেট এবং মুদি দোকানদাররাও টফু কারিগরের কাছ থেকে কম দামে কিনতে চায়। আবার জাপানের মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে তাদের বৃহৎ উৎপাদনকারীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। ফলে তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

খবরটি টুইটারেও আলোড়ন তোলে। টুইটার ব্যবহারকারীরা তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ভেতরে থাকা টফু কারিগরদের কথা স্মরণ করেন এবং এ নিয়ে মন্তব্যও করেন।

সাংবাদিক শকো এগওয়াগা খবরটি পড়ে উদ্বিগ্ন হয়ে লিখেন:

খবরে বলা হয়েছে “টফু'র দাম নিয়ে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তাই টফুর কারিগরদের দুর্দিন যাচ্ছে। টফু কারিগররা যদি তাদের দাম পুনর্বিবেচনা না করেন অথবা সুপার মার্কেটের কাছে টফু বিক্রি শুরু করেন, তাহলে তারা হারিয়ে যাবেন।” এখন এটা একটা সমস্যা! -টফু কারিগররা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিবেন। কারণ তারা বলছে, তাতে করে ৩৬৫ দিন দোকান খোলা রেখেও কোনো লাভের মুখ দেখবেন না তারা-

টুইটার ব্যবহারকারী কিউই শিরোয়ামা তার অসহায়তার কথা লিখেছেন। টফু কারিগরদের বাঁচাতে তিনি ব্যক্তিগত চেষ্টার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে মেগা স্টোরগুলোর বৈচিত্র্যহীন টফু না কিনে টফু কারিগরদের কাছ থেকে কিনতেন:

সুপার মার্কেটে না গিয়ে আমি সবসময় স্থানীয় টফুর দোকানে যেতাম। এখন আমাদের পাড়ার সবচেয়ে প্রিয় টফু দোকানটি বন্ধ হয়ে গেছে। -টফু কারিগররা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা বলছে, ৩৬৫ দিন দোকান খোলা রেখেও কোনো লাভ করতে পারবেন না-

Tofu seller

টফু দোকানের ছবি। ছবি তুলেছেন ফ্লিকার ব্যবহারকারী ভিনটেজক্যাট (সিসি বিওয়াই-এনসি-এনডি ২.০)

হিরোকো ইনাজাকি সবাইকে সস্তার টফু'র পরিণতি দিকে নজর দিতে সুপারিশ করেছেন:

এটা খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে, কিছু টফুর দাম কম রয়েছে ঠিকই। কিন্তু অন্যদিকে অন্যদের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দাম অবিশ্বাস্য রকমের কম রাখা হলে এটা খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দাম কম রাখাকে সবসময় আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করা হয়। আমরা দাম কম রাখার পিছনের কারণ গভীর ভাবে খতিয়ে দেখতে পারি, তাহলে এর পিছনে কী ধরনের প্রতারণা রয়েছে, তা দেখতে পাবো । -টফু কারিগররা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা বলছে, ৩৬৫ দিন দোকান খোলা রেখেও কোনো লাভ করতে পারবেন না-

Home made tofu store

টোকিও'র টিসুকিশিমার একটি দোকানে ক্রেতারা টফু কিনছেন। ছবি তুলেছেন ফ্লিকার ব্যবহারকারী ইউরাওয়া (সিসি বিওয়াই ২.০)

টুইটার ব্যবহারকারী ডন ইউওয়ারি টফু কারিগরদের দাম বাড়াতে বলেছেন:

প্রিয় টফু কারিগর, আপনারা দামের প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসুন। জাপানের বেশি দামের সয়াবিন থেকেই সুস্বাদু, নিরাপদ টফু এবং সয়া দুধ বানান। আমি প্রতিদিনই এটা খেতে চাই। -টফু কারিগররা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা বলছে, ৩৬৫ দিন দোকান খোলা রেখেও কোনো লাভ করতে পারবেন না-

Tofu lined up in glossary store

গ্রোসারি স্টোরে নানা ধরনের টফু পাওয়া যায়। কিন্তু পারিবারিকভাবে যারা টফু বানান এবং নিজেদের দোকানে সেগুলো বিক্রি করেন, তাদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ছবি তুলেছেন ফ্লিকার ব্যবহারকারী শিবুয়া২৪৬ (সিসি বাই-এনসি ২.০)

আতসুকো মোমোই তার প্রিয় টফু কারিগরদের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন:

আমি আশা করি, আমার প্রিয় টফু কারিগররা আজীবন এই ব্যবসায় থাকবেন। আমি তাদের সাথেই থাকবো। কারণ তারা চমত্কার টফু বানান। এবং তারা অন্তরের গভীর ভালোবাসা থেকেই এই কাজটি করে থাকেন। -টফু কারিগররা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা বলছে, ৩৬৫ দিন দোকান খোলা রেখেও কোনো লাভ করতে পারবেন না-

চিয়েদা আরিটাকা টফু কারিগরদের এই খবরের সাথে নিজের মিল থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন:

আমাদের পরিবার এক সময়ে টফু কারিগর ছিল। আমার দাদী মারা যাওয়ার সাথে সাথেই এটা বন্ধ হয়ে যায়। -টফু কারিগররা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা বলছে, ৩৬৫ দিন দোকান খোলা রেখেও কোনো লাভ করতে পারবেন না-

tofu store owner

একজন টফু কারিগরের ছবি। তার পিছনে টফু বানানোর মেশিন দেখা যাচ্ছে। ছবি তুলেছেন ফ্লিকার ব্যবহারকারী আইমরফিয়াস (সিসি বিওয়াই ২.০)

টুইটার ব্যবহারকারী আস্টোরিয়া_১১১০৫ ভোক্তাদের উপদেশ দিয়েছেন, টফু কারিগরদের এই অবস্থায় পড়ার জন্য তাদের দোষটুকুও স্বীকার করে নিতে হবে:

আমি মনে করি, সাধারণ মানুষজন যা বলছে, সেটা ঠিক নয়। তারা নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থাকে দায়ী করছে। এজন্য টফু কারিগরদের ন্যায্যমূল্য দিতে অনীহা জানাচ্ছেন। ভোক্তাদের উপলদ্ধি করতে হবে যে, তারা যা করছেন, তাতে টফু কারিগররা যদি লাভ করতে পারেন; তাহলে তারা বার বার ভোক্তাদের খুঁজতে বের হবেন। -টফু কারিগররা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা বলছে, ৩৬৫ দিন দোকান খোলা রেখেও কোনো লাভ করতে পারবেন না-

থাম্বনেইলে জাপানি টফুর ছবিটি (সিসি-বিওয়াই ২.০) তুলেছেন ফ্লিকার ব্যবহারকারী www.bluewaikiki.com

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .