বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাই সাইকেল থাকার অপরাধে ইসরাইলে একজন সুদানী উদ্বাস্তুর আটকাদেশ

বাই সাইকেলের রসিদ না থাকায় গত ১৮ জুলাই ২০১৩ তারিখে ইসরাইলী পুলিশ দারফুরের রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী অভিনেতা বাবাকের (বাবি) ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করেছে, ধারনা করা হয়েছে সাইকেলটি চুরি করা হয়েছে।

ইসরাইলে সুদানী কম্যুনিটির ব্যাপক পরিচিত ব্যক্তিত্ব বাবি শরণার্থী নাট্যদলের একজন সদস্য। এ নাট্যদলটি সম্প্রতি ইসরাইলের শরণার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা নিয়ে ওয়ান স্ট্রং ব্ল্যাক নামের একটি ব্যঙ্গাত্বক নাটক মঞ্চস্থ করে। বাবির গ্রেফতার এবং বিচারবিহীনভাবে অনির্দিস্টকাল অন্তরীণের বিষয়টি তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং তাঁর ও তাঁর মত একই পরিস্থিতিতে আর যারা অন্তরীণ রয়েছে তাঁদের মুক্তির দাবিতে রাজপথে ও অনলাইনে প্রচারনা চলছে।

২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইসরাইলের স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নতুন প্রবিধান কার্যকর করে। এ প্রবিধানে গ্রেফতারের পরিধি আলোচিত হয়েছে। প্রবিধান অনুসারে বিচারবিহীনভাবে অনির্দ্রিস্টকাল অন্তরীণ রাখা, অপরাধের বিষয়ে রাজনৈতিক শরণার্থীদের সন্দেহ করা, এমনকি যাদের সন্দেহের বিষয় আদালত কর্তৃক অপ্রমানিত তাদেরকেও গ্রেফতারের বিধান রাখা হয়েছে করা যাবে। ফৌজদারী কার্যপদ্ধতি সংশ্লিষ্ট অনুপ্রবেশকারী [ইসরাইলি সরকার রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের এ নামেই অভিহিত করে] ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে জুলাই ২০১৩ সালে সম্প্রসারিত করে বে আইনী কাজের জন্য সন্দেহবশতঃ শরনার্থীদেরকে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ৫০০-এরও বেশি শরণার্থীকে ফৌজদারী কার্যবিধির আওতায় অন্তরীণ রাখা হয়েছে এবং তাঁদের সম্ভব হলে ইসরাইল থেকে বহিস্কার করার জন্য নেগেভ মরুভূমির ইন্টারনেন্ট ক্যাম্পস ফর রিফিউজি-তে পাঠানো হয়েছে।

প্রবিধান অনুমোদনকারী এটর্নি জেনারেল এডভোকেট ইয়েহুদা ওয়েস্টিন-এর বাড়ির সামনে গত ২০ জুলাই বেশকিছু প্রতিবাদকারী বিক্ষোভ জানায়ঃ

ইসরাইলে শরনার্থী ও অভিবাসীদের অধিকার, মানব পাচারের ভিক্টিমদের পক্ষে কাজ করা  দি হটলাইন ফর মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স-নামের  একটি এনজিও বাবির বর্তমান আইনগত পরিস্থিতি [হিব্রু] সম্পর্কে আপডেট প্রদান করেঃ

לאחר שעתירת הביאס קורפוס שלנו נדחתה על ידי בג”ץ, אתמול הגשנו עתירה בשם באבי… עתירתנו דורשת את שחרורו של באבי וגם תוקפת את הנוהל שמכוחו הוא עצור בטענה שאינו חוקתי…
אנו נמשיך להאבק למען שחרורו של באבי ושל כל הפליטים הכלואים בישראל ללא משפט. לא ייתכן שיתקיימו בישראל שתי מערכות משפט נפרדות: אחת לפליטים ואחרת לכל היתר. לא ייתכן שפליטים ייזרקו למעצר עולם ללא ראיות, ללא משפט הוגן, ללא יכולת להתגונן ומבלי שהמשטרה תצטרך להוכיח שהם אשמים בדבר. לא ייתכן שבמדינה דמוקרטית יתקיים נוהל שמשמעותו הנחה מראש שכל רכוש שנמצא בידיהם של בני אדם בעלי צבע עור מסוים הוא גנוב.

উচ্চ আদালতে হেবিয়াস কর্পাস দরখাস্ত প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর গতকাল আমরা বাবির পক্ষে আরেকটি আবেদন করি…. আবেদনে আমরা বাবির মুক্তি চেয়েছি এবং যে বিধি অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিধিকে অসাংবিধানিক দাবি করে বাতিলের দাবি করেছি… বাবির মুক্তির জন্য এবং বিচারবিহীন অবস্থায় সকল শরনার্থীদের মুক্তির দাবি আমরা জানিয়েছি। ইসরাইলে দুটি স্বতন্ত্র আইন ব্যবস্থার অস্তিত্ব রয়েছেঃ একটা শরণার্থেদের জন্য আর আরেকটা অন্যদের জন্য। এটা খুবই ভয়ানক যে কোন প্রমান ছাড়াই শরণার্থীদের যাবতজীবন কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা, স্বচ্ছ বিচার ছাড়া কারাগারে প্রেরণ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ, পুলিশের কাছে কারো অপরাধের প্রমান ছাড়াই কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এ প্রবিধানে এমন একটা ধারনা করা হয়েছে যে কোন নির্দিষ্ট গাত্রবর্ণের জন্য কোন সম্পত্তি অর্জন করা মানেই তারা সেটা চুরি করেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটা থাকতে পারে না।

সম্পত্তি থাকার জন্য কোন মানুষকে অন্তরীণ রাখার অযৌক্তিকতার বিষয়ে লেইজেস পাসার নামে ব্লগে আইনজীবী ইয়োনাতান বারম্যান ও ওদেদ ফেল্লার লিখেনঃ

הבלוג פותח בפני קוראיו את פינת הרולטה – נחשו מה יהיה הצעד הבא. ההימור שלנו – מבקשי מקלט שלא יוכלו להציג קבלות המוכיחות כי רכשו את הבגדים שלגופם ייעצרו. כך נבטיח כי כל מבקשי המקלט יסתובבו בעירום. או שאולי, בעצם, כך נבטיח כי כל מבקשי המקלט שיסתובבו לבושים ייעצרו בגין עבירת גניבה, וכל מבקשי המקלט שיסתובבו בעירום ייעצרו בגין התערטלות במקום ציבורי.

পাঠকদের জন্য এই ব্লগ আলোচনার দুয়ার খুলে দিয়েছে- ধারনা করুন পরবর্তি পদক্ষেপ [ সরকার কর্তৃক]।     আমাদের ধারনা- যে সকল রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী তাঁদের কেনাকাটার জন্য রশিদ প্রদর্শন করতে পারবে না তাঁদের অন্তরীণ করা হবে। অতঃপর আমরা নিশ্চিত করব যে সকল রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা নগ্ন হয়ে ঘোরাফেরা করবে অথবা আসলে হতে পারে এভাবে আমরা নিশ্চিত করতে পারব যে সকল পোষাক পরা শরণার্থীদের চুরির অপরাধে অন্তরীণ রাখা হবে। এরপর যখন রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীরা নগ্ন হয়ে ঘুরবে তখন আবার আমরা তাদের অভব্য প্রদর্শনীর দায়ে কয়েদ করব।

বিখ্যাত বামপন্থী ব্লগার ইয়োসি গুরুভিটজ তার ব্লগ ফ্রেণ্ডস অব জর্জ-এ লিখেনঃ

כמעט 160 שנים אחרי דרד סקוט, כמעט 150 שנים אחרי שהתיקון ה-13 שם קץ לעבדות, מאשר וינשטיין בחתימתו שיש קבוצה שלמה של בני אדם – לגמרי במקרה, כמובן, צבע עורם שחור – שהם, אם לא סחורות ממש, פחותים מבני אדם. די בעלילה עליהם (למשל, מצד נוכל בן העם הנבחר שלא רוצה לשלם להם את משכורותיהם) כדי להשליך אותם לבור משפטי שממנו אין כמעט דרך לצאת. לאברהים יש מזל נדיר: הוא דמות מוכרת. יש לו לא מעט חברים. כמאה מהם יצאו במוצ”ש הביל של יולי להפגין למענו מול ביתו של וינשטיין. לרוב הפליטים אין מזל כזה. אין מי שיכיר אותם, אין מי שיגיש בשמם עתירות הביאס קורפוס. הם נאלמים, ונעלמים אל הבור שחפר עבורם וינשטיין. בציבוריות הישראלית, המקבילה של החלטת דרד סקוט של וינשטיין עברה ללא כל רעש; יש בה יותר מדי תואמי יאנסי, ומעטים עדיין מעיזים לומר ש”אתם טועים בנו, לא נעשה זאת.”

ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড এর প্রায় ১৬০ বছর পর এবং  ১৩দশ সংশোধনের মাধ্যমে দাসত্ব [মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে] শেষ হওয়ার প্রায় ১৫০ বছর পর ওয়েস্টিন তার স্বাক্ষর প্রদানের মাধ্যমে অনুমোদন দিলেন যে এমন একদল লোক রয়েছে-স্বাতন্ত্রগতভাবে তো অবশ্যই- যাদের গায়ের চামড়া কালো- তাদের সম্পত্তি থাকা মানা, তারা মানবেতর।লিবেলিয়াস দাবি করেন (উদাহরন স্বরূপ বাছাইকৃত দলের মধ্যে যারা প্রবঞ্চক তারা অন্যদের মজুরি বা মাইনে প্রদান করতে চায় না [ শরনার্থীদের মালিকেরা তাদের এই বলে হুমকি দেয়- ই টি] তারা তাদের এই আইনের খাদে ফেলার জন্য যথেস্ট আর তাদের পক্ষে এই খাদ থেকে উঠে আসা প্রায় অসম্ভব। ইব্রাহিম খুব ভাগ্যবানঃ সে একজন পরিচিত মুখ। তার বেশ কিছু বন্ধু আছে। তাদের মধ্যে প্রায় একশত জনের মত জুলাইয়ের গরমকে উপেক্ষা করে শনিবার রাতে ওয়েস্টিনের বাড়ির সামনে প্রতিবাদ করেছে। বেশিরভাগ শরনার্থীই এত সৌভাগ্যবান নয়। তাদেরকে কেউ চিনে না, তাদের পক্ষে হেবিয়াস কর্পাস আবেদনের জন্য কেউ নেই। ওয়েস্টিনের খনন করা গর্তে নিরব ও অদৃশ্য হয়ে যায়। ড্রেড স্কটের সমরূপ রুলিং-এর ওয়েস্টিনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ইসরাইলি জনগণ করে নিঃ আরো অনেক উইলিয়াম ইয়ানসি রয়ে গেছে [ সাউদার্ন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান,দাসত্ব প্রথার প্রবক্তাদের গুরু] এবং এখনো অনেকে বলতে ভয় পায় যে “ আপনি আমাদের ভুলপথে পরিচালিত করেছেন। আমরা ভুল পথে পরিচালিত হব না!” [ ১৮৬০ সালে দাসত্ব প্রথার পক্ষে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্ল্যাটফর্মে ইয়েনসির দাবির প্রতিক্রিয়ায় একজন নর্দান ডেমোক্র্যাটের বক্তব্য]

ফ্রিবাবি- শিরোনামে একটি ফেসবুক পাতা খোলা হয়েছে সেখানে দ্রুতই হাজারেরো বেশি “লাইক” পড়েছে। এই পাতায় বাবির মুক্তি চেয়ে ব্যবহারকারীদের ছবি ও ভিডিও আপলোডের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইসরাইলের নামকরা সংগীতজ্ঞ ও অভিনেতাসহ অনেকেই তাদের ছবি পাঠিয়েছেন।

প্রখ্যাত ইসরাইলি গায়িকা ও গীতিকার আলমা যোহার তার নিজের ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে লেখা আছেঃ “বাবিকে মুক্ত কর! নিরপরাধদের কারাগারে রাখার জন্য তোমার আমার অনেক পয়সা খরচ হয়!”

alma

২৩ জুলাই ওয়ান স্ট্রং ব্ল্যাক নাটকের পরিচালক ও নির্দেশকগণ বাবিকে দেখতে গিভোন কারাগারে যান এবং তাকে মুক্ত করার চলমান প্রচারণা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। ২৪ তারিখে বাবিকে শাওমিম ইন্টারমেন্ট কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

Giv'on

প্রচারণা তুরস্ক, তিউনিসিয়া এবং গ্রীসেও ছড়িয়ে পড়েছে। সিমজ এবং ভুলকান তুরস্কের ইজমির থেকে তাদের নিজেদের এ ছবিটি পাঠিয়েছেন।
Simga

এটর্নি জেনারেল ওয়েস্টিনের ছবির এ ব্যংগচিত্রটি তৈরি করেছেন জন ব্রাউনঃ

"I don't always approve to lock up innocent people for life But when I do, they're always black"

“সারাজীবনের জন্য নিরপরাধ মানুষকে কারারুদ্ধ করে রাখাকে আমি সব সময় অনুমোদন করি না কিন্তু কালো হলে অন্য কথা”

সর্বশেষ: রাজপথ ও অনলাইন প্রচারণার ফলশ্রুতিতে ২৪ জুলাই, ২০১৩ তারিখে বাবিকে শ্যারনিম ইন্টারমেন্ট ক্যাম্প থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় তাকে বিচারবিহীন অবস্থায় অনির্দিস্টকালের জন্য অন্তরীণ রাখা হয়েছিল তা এখনো কার্যকর আছে এবং শরণার্থীদের উপর প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .