বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশ: বৈষম্য সত্ত্বেও মেয়েরা পরীক্ষায় ভালো করেছে

বাংলাদেশে সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল বের হয়েছে। সেই পরীক্ষায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো ফল করেছে। এ বছর মেয়েদের পাশের হার ৭৯.১৯ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাশের হার ৭৮.২৩ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ছাড়াও মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলও বের হয়েছে। সেখানেও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরেই মেয়েরা পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফল করছেন। মেয়েদের ভালো করার কারণ হিসেবে অনেকেই সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথা বলছেন।

মেয়েদের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে একজন কলামিস্ট নিচের মন্তব্যটি করেছেন:

কিন্তু শুধু শুকনো অঙ্কের হিসাবে মেয়েদের এই সাফল্য বিবেচনা করলে ভুল হবে। বাংলাদেশে মেয়েদের কী রকম দৈনন্দিন বৈষম্যের ভেতর দিয়ে যেতে হয়, সে কথা আমাদের অজানা নয়। আমাদের দেশে মেয়ে শিশু এখনো অনাকাঙ্ক্ষিত। একটি ভাই থাকলে অন্য সব বোনকে উপেক্ষা করে পরিবারের সকল যত্ন, সকল মনোযোগ তার ওপরেই বর্তায়। আহারের সময় দুধটা কলাটা জোটে ছেলেদের, মেয়েদের বেলায় উচ্ছিষ্ট। পয়সার অভাবে স্কুলে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়লে সবার আগে নাম কাটা যায় বোনদের। … এর ওপর রয়েছে সমাজের চাপ, ধর্মের চাপ, পাড়ার বখাটে ছেলেদের চাপ। সব মিলিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মা-বাবা মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর চিন্তা বাতুলতা বলে ধরে নেন।

এত বাধা সত্ত্বেও মেয়েরাই লেখাপড়ায় এগিয়ে, এমন কথা পড়ার পর তাদের নামে ‘থ্রি চিয়ার্স’ না বলে উপায় নেই।

উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করা মেয়েরা

উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করা মেয়েরা। ছবি বায়েজিদ আক্তার। ডেমোটিক্স থেকে।

কিন্তু মেয়েদের লেখাপড়ায় এগিয়ে যাওয়ার পথে শিক্ষা ক্ষেত্রেই তাদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সম্মুখীন হতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ইভ টিজিং’ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া।  বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ তাদের একটি প্রকাশনায় যৌন নিপীড়নের একটি চিত্র তুলে ধরেছে:

 ২০১০ সালে নিপীড়কদের হয়রানিতে ২৮ জন মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এবং আরো ৭ জন চেষ্টা করেছে আত্মহননের। লাঞ্চিত হয়েছেন ১৬৬ জন নারী। উত্যক্তকরণের প্রতিবাদ করায় খুন হয়েছেন ১০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী।

জুঁইয়ের গল্প

হাওয়া আক্তার জুঁই বাংলাদেশের খুব সাধারণ একটা মেয়ে। স্কুলে থাকা অবস্থাতেই তার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর স্বামী চান নি জুঁই পড়াশোনা চালিয়ে যাক। কিন্তু জুঁইয়ের ছিল পড়াশুনার প্রতি তীব্র আগ্রহ। লেখাপড়ার প্রতি মেয়ের প্রবল আগ্রহ দেখে বাবা ইউসুফ মিয়া স্বামীকে না জানিয়েই নরসিংদী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীর মানবিক বিভাগে জুঁইকে ভর্তি করিয়ে দেন। কলেজে ভর্তি হওয়ায় স্বামী খুব ক্ষিপ্ত হয়ে যান। দেশে ফিরে এসে জুঁই যাতে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য চাপাতি দিয়ে হাতের পাঁচটি আঙুল কেটে দেয়।

স্বামীর এই অত্যাচার জুঁইকে দমাতে পারেনি। সে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে ‘এ’ গ্রেড পেয়ে পাস করেছে

শিক্ষা ক্ষেত্রে জেন্ডার বৈষম্য

বাংলাদেশ সরকার জাতীয় শিক্ষা নীতিতে ২০১৪ সালের মধ্যে শিক্ষার হার ১০০% নিশ্চিত করার কথা বলেছে। উন্নয়ন অন্বেষণ-এর ‘জেন্ডার ইনইকুয়ালিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০০০ সালে দেশে পুরুষ শিক্ষার হার ছিল ৪৯.৫ শতাংশ। ২০১০ সালে এটা দাঁড়ায় ৬১.১২ শতাংশে। এদিকে ২০০০ সালে নারী শিক্ষার হার ছিল ৪০.১ শতাংশ। ২০১০ সালে এটা দাঁড়ায় ৫৪.৮ শতাংশে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বছরে নারী শিক্ষা বৃদ্ধির হার ১.৪৭ শতাংশ। এই হারে বাড়লে ২০১৪ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। সেটা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯.৩২ শতাংশ কম হবে। তাছাড়া শহরে এবং গ্রামের মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার হারের অনেক পার্থক্য রয়েছে। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এই পার্থক্য আরো প্রকটভাবে চোখে পড়ে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের সংখ্যা মাত্র ২৪.৩ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের সংখ্যা অনেক বাড়লেও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের সংখ্যা বাড়ার হার খুব কম।

বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের কোনো প্রকার বৈষম্য রাখা হয় নি। সবাই সমান মর্যাদার অধিকারী। এরপরও পরিবারে, সমাজে নারী-পুরুষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য বিদ্যমান। তাই নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আচার, প্রথা, আইন ও নীতিমালার পরিবর্তন ও সংশোধনে আইনী, প্রশাসনিক ও সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন।

বিএনপিএস-এর এই রিপোর্টে নারী শিক্ষার হার বাড়াতে সামাজিক সমস্যাগুলো দূর করার প্রতি গুরুত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে:

গত কয়েক বছর ধরে প্রাথমিক স্তরে নারীর জন্য বাজেটে বরাদ্দ থাকার ফলে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে সংখ্যাগত বৈষম্য দূর হয়েছে। যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও বাংলাদেশ সফল হয়েছে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই। কিন্তু ঝরে পড়ার হার এখনো অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে থেকে যাওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষায় এখনো ব্যাপক জেন্ডার বৈষম্য রয়েছে। গত ১০ বছরে এই বৈষম্য কমেছে অতি সামান্যই। মেয়েদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ অবৈতনিক করে ও শিক্ষা উপবৃত্তি বাড়িয়েও এই বৈষম্য কমানো যাচ্ছেনা। বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানী এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ। তাই মেয়েদের শিক্ষার হার বাড়াতে হলে এই সামাজিক সমস্যাগুলো দূর করার প্রতি গুরুত্ব বাড়াতেই হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .