বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তান: পশতু গায়িকা ঘাজালা জাভেদকে কে হত্যা করেছে?

অনন্যসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন পশতু গায়িকা ঘাজালা জাভেদ পেশোয়ার শহরে নিহত হয়েছেন। তার জীবদ্দশায় তিনি সবসময় গান গাওয়া বন্ধে তালিবান চাপকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ঘাজালা এবং তার পিতাকে একটি বিউটি পার্লারের বাইরে ছয় বার গুলি করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীরা ‘তাদের রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে রেখে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়’ সফলভাবে। পাকিস্তানের পুলিশী তদন্তকারীরা তার প্রাক্তন স্বামীকে খুনের অভিযোগে সন্দেহ করছে যার থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্যে তিনি গত বছর আবেদন করেছেন। তবে কেউ কেউ অনুমান করছেন অন্যকিছু

তালিবানদেরকে উপেক্ষা

ঘাজালা সোয়াত উপত্যকাতে জন্মগ্রহণ করেন যেখানে ২০০৭ সাল থেকে তালিবান শাসনাধীন হয়। তার নিজের শহর তালিবানদের দখলে চলে গেলে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে ১৭০ কিলোমিটার দূরে পেশোয়ার শহরে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হন।

Ghazala Javed singing a Pashtoo song. Screenshot taken from a Youtube video.

ঘাজালা জাভেদ একটি পুশতু গান গাচ্ছেন। ছবিটি একটি ইউটিউব ভিডিও থেকে নেওয়া।

পাকিস্তানী সরকার জঙ্গী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান  এবং তেহরীক-ই-নাফাজ-ই-শারিয়াত-ই-মোহাম্মদ (টিএসএনএম) এর সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হলে তালিবান শাসন এর চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। নিজাম-ই-আদাল  (ন্যায়ের শাসন) রেগুলেশন শিরোনাম দিয়ে এই চুক্তিটি টিএসএনএম-এর সুফী মোহাম্মেদ এবং সরকারের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হিসেবে স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু টিএসএনএম চুক্তিটি লঙ্ঘন করলে অঞ্চলটিতে একটি সেনা অভিযান অনিবার্য হয়ে পড়ে। ২০০৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জঙ্গিদের সোয়াতের প্রধান শহর মিঙ্গোরা থেকে একেবারে নির্মূল করে দেয়।

ঘাজালা সাহসী নারী ছিলেন। তিনি তার সমাজের ঐতিহ্যগত এবং সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংগ্রাম করেছেন। তিনি শিল্পীদের গান গাওয়ার প্রতি তালিবান নিষেধাজ্ঞাকে ভয় পাননি। ফাওয়াদ খান যথার্থই মন্তব্য করেছেন:

এই ঘৃণ্য এবং অন্ধ পুরুষ আধিপত্যের এই এলাকায় [খাইবার-পাখতুনখওয়া বা সাবেক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে] ঘাজালা জাভেদ সমস্ত নারীদের মুক্ত করার এবং যারা তাদের ইচ্ছেগুলোকে অর্জন করতে চায় তাদের একটি কণ্ঠস্বর ছিলেন।

তিনি প্রায়ই আফগানিস্তান ভ্রমণ করতেন এবং পশতু ভাষাভাষী তরুণ-তরুণীরা তাকে অত্যন্ত পছন্দ করতো।  জনপ্রিয় পাকিস্তানি গায়ক বাক্তায়ার খট্টক এটিকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যে একটি বিরাট ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন:

“তার মৃত্যু পশতু সঙ্গীতের জন্যে একটি বিশাল ক্ষতি। তিনি পশতু সঙ্গীত শিল্পে আসা নবীন শিল্পীদের দলগুলোর জন্যে একটি অনুপ্রেরণা ছিলেন।”

এই অকথ্য সন্ত্রা্সী কর্মকাণ্ডটিকে নিন্দা জানিয়ে তাহকলিক ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (টিডিএফ)  একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। টিডিএফ-এর আরশাদ হোসেন মন্তব্য করেছেন:

“আজ আবার এই অঞ্চলের শিল্পীদের হয়রানি করা এবং ভয় দেখানো হচ্ছে সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো শিল্পীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে। এটা মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর একটি আক্রমণ এবং তাহকলিক ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন তার ৯৮টি সদস্য এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক  সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গসহ এই ঘটনার নিন্দা করে।”

একইভাবে নেটনাগরিকেরা জোরেসোরে এই ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে পাকিস্তানে বৃহত্তর তালিবানিকরণের (তালিবান চিন্তার মহৎ করার)  একটি পদক্ষেপ হিসেবে ভাবছেন। রিজভী মন্তব্য করেছেন:

ঘটনাগুলোর সেই একই ধর্মান্ধ পুনরাবৃত্তি। শুধু এইবার আরো জঘন্য (অসুস্থ করে দেয়ার মতো)।

সম্ভাব্য সম্মানের হত্যাকাণ্ড?

তবে বিভ্রান্তি থেকেই যায় যে তালিবান নাকি তার সাবেক স্বামী তাকে হত্যা করেছে। ২০১০ সালে জাহাঙ্গীর খান নামের একজন ব্যবসায়ীকে বিয়ে করার ছয় মাস পরে ঘাজালা আবিষ্কার করেন যে তার অন্য স্ত্রী রয়েছে এবং তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ দাবি করেন। তিনি আরও জানান যে তিনি তার গান গাওয়া বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। আনোয়ার শাহ সাদাফ লিখেছেন:

“এখানে এই সাম্প্রতিক হত্যাকান্ডের সঙ্গে তালিবানদের কোনো সম্পর্ক নেই,  তার আগের স্বামীর তার সঙ্গে চেঁচামেচি করেছেন, সেই কারণে তিনি আদালতের ক্ষমতাবলে ৭ মাস আগে তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন…. আমি তার জন্যে আমি অত্যন্ত দুঃখিত, তিনি আমার সবসময়ের প্রিয় ছিলেন, আমি তাকে কখনো ভুলতে পারবো না…”

তবে মাইক জেনকিন্সন তার হত্যাকাণ্ডের জন্যে তালিবানি মতাদর্শকেই  অভিযুক্ত করেছেন:

আফগানিস্তানে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং তালিবানদের সঙ্গে তার সমস্যা নিয়ে একটি ঘটনা আমার মনে আছে। এইসব সংকীর্ণ মনের মূর্খরা তাদের সঙ্গে একমত না হলে যে কাউকে হত্যা করতে চায়।

কেউ কেউ আবার এই হত্যাকণ্ডটিকে পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবেরই ফল হিসেবে মন্তব্য করেছেন। মুহাম্মদ রিজওয়ান এ বলেছেন:

তিনি নিহত হয়েছেন, কারণ তিনি একজন নারী। পাকিস্তানে নারীদের কোন জীবন নেই। তারা তাদের মতো করে বাঁচতে পারে না। খোদা পাকিস্তানী মহিলাদের রক্ষা করুন…

কারণটি যাই হোক, এর ফলাফল হলো একটি পাপিয়াকে কে চুপ করিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে সবসময়ই আমাদের সময়ের একটি মনোমুগ্ধকর কণ্ঠ হিসেবে স্মরণ করা হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .