বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মিশর: না, বিপ্লব শেষ হয়ে যায় নি

এই পোস্টটি মিশর নির্বাচন ২০১১/২০১২ এর আমাদের বিশেষ কভারেজের অংশ

সারাবিশ্বের মানুষ মে মাসের ২৩ এবং ২৪ তারিখে আবার মিশরের দিকে তাকিয়েছিল। কারণ ওইদিন গণআন্দোলনের মুখে হোসনি মোবারকের পতনের দেড় বছর পর দেশটিতে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রায় ৬৬০ জন প্রতিযোগী নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন (এদের মধ্যে যারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না, তাদের নিয়ে ব্লগার বাশেম সাব্রি একটি মজাদার তালিকা তৈরি করেছিলেন)। এই প্রতিযোগীদের মধ্যে শুধু মুসলিম ব্রাদারহুড এবং তার রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) প্রার্থীই ছিলেন না, সাবেক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য (যারা ফেলুল অথবা রেমন্যান্ট নামে পরিচিত) ছিলেন।

এদের মধ্যে থেকে সরকারিভাবে প্রার্থী হন ২৩ জন, যাদের আবার ১০ জন অযোগ্য বিবেচিত হন। মোট ১৩ জন প্রার্থী বিপ্লবী খালেদ আলী থেকে এফজেপি’র মোহাম্মদ মুরসি ২৩ তারিখ নির্বাচনে অংশ নেন।

মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত চিত্র।

মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত চিত্র। কার্টুন এঁকেছেন কার্লোস ল্যাতুফ।

মে মাসের ২৯ তারিখে সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এদিকে তুমুল আগ্রহের কারণে নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপরই ভোট গণনা শুরু হয়, ফলাফল সাথে সাথে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এবং লাইভ ব্লগের মাধ্যমে দেয়া হয়।

রিপোর্টিং এবং গণনা

সংসদ নির্বাচনের সময় সাধারণ জনগণ ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ করেছে। বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কে এ নিয়ে নিয়মিতভাবে রিপোর্ট জমা করা হয়েছে। মূলত অভিযোগ আনা হয়েছে এফজেপি’র প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিকের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তারা অবৈধভাবে প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়েছেন।

এ নিয়ে টুইটারে আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। #ইগিপ্রেসইলেকট্রন, #ইগিইলেকট্রনস, #ইগিপ্রেসইলেক্স নামের বিভিন্ন হাশট্যাগের মাধ্যমে মানুষজন এ নিয়ে আলোচনা করেছে এবং তারা যুক্তি দিয়েছে যে, মাত্র ২ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে।

এটা নানা ধরনের কৌতুকের জন্ম দিয়েছে:

@বাশেম_সাব্রি: ব্রেকিং নিউজ: হোসনি মোবারক ৯৯.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

 @ভিকোসালামা: @বাশেম_সাব্রি, আহ্, সেই পুরোনো দারুণ দিনে ফিরে গেলাম, কোনো দুশ্চিন্তা নেই। 🙂

টুইটার ব্যবহারকারী @আইয়াদ এল-বাগদাদী এবং @গালালআমার্গ নির্বাচনী ফলাফলের ট্র্যাক রাখতে একটি যৌথ ডকুমেন্ট খুলেছেন। সংবাদ সংস্থা আহরাম অনলাইন এবং আসওয়াত মাশরিয়াতে খবর প্রকাশের মাধ্যমে আমি চূড়ান্ত ফলাফল এক জায়গায় জড়ো করার ব্যাপারে সহযোগিতা করছি।

এখানে আসা ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে, মোহাম্মদ মুরসি এবং আহমেদ শফিক সবচেয়ে এগিয়ে থেকে ১৬ এবং ১৭ জুনের রানঅফ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অপ্রত্যাশিতভাবে নাসেরপন্থী হামদীন সাব্বাহির আশাতীত অগ্রগতি হয়েছে।

@হানিশুকরাল্লা: জরুরি, জরুরি, সাব্বাহি দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন!

No kidding! Free election in Egypt??? Cartoon by Carlos Latuff.

কোনো মজা নয়! মিশরের অবাধ মুক্ত নির্বাচন??? কার্টুন একেঁছেন কার্লোস ল্যাতুফ।

এই নির্বাচনে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো তার বিপুল সংখ্যক ভোট পাওয়া। বিশেষ করে মুসলিম ব্রাদারহুডের শক্ত ঘাঁটি আলেক্সান্দ্রিয়া এবং সালাফিদের শক্ত ঘাঁটি উত্তর কায়রোর ইমবাবা জেলায় সাব্বাহি বিপুল ভোট পেয়েছেন। পরে তিনি দ্বিতীয় স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে যান। এখন তিনি চূড়ান্ত ফলাফল গোণার জন্য অপেক্ষা করছেন।

যদিও অনেকে নির্বাচন বয়কট করেছে। তাদের মনে হচ্ছে, এটা অগণতান্ত্রিক এবং এটা দেশটির  সেনাবাহিনীর হাতকে আরো শক্তিশালী করবে।

আহমেদ শফিকের একজন মুখপাত্রের ‘বিপ্লব শেষ হয়ে গেছে’ মন্তব্যে অনেকে ভয় পাচ্ছেন।

বিপ্লব শেষ হয়ে যায় নি

চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২৯ মে, সন্ধ্যায়। এ নিয়ে টুইটারে প্রতিক্রিয়া এসেছে:

@মোহআবদুলহামিদ: আজ যদি একটা একটা জিনিস প্রমাণিত করা যায়, আমাদের ভবিষ্যদ্বাণী যাচ্ছেতাই। এই বিপ্লব ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না।

@ডালিয়াইজ্জাট_: মিশরের নাগরিকদেরকে জোর করে দুটি ফ্যাসিস্ট থেকে পছন্দ করাচ্ছে। তাই সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ নয়। উভয়ের জন্যই অনেক পরিণতি রয়েছে।

@জিস্কোয়ার ৮৬: সংগঠন হলো চাবিকাঠি। আমরা যদি ইকহোয়ান (মুসলিম ব্রাদারহুড) থেকে কিছু শিখে থাকি, এমনকি তাদের রাস্তায় জনপ্রিয়তা না থাকলেও, তাদের মেশিন কাজ করে গেছে।

@সাদীহামিদ: বাদ্রারহুড সবসময় তানজিম বা সংগঠন সংরক্ষণের ব্যাপারে মোহাবিষ্ট। এই অর্থেই তারা বিজয় দাবি করেছেন।

রানঅফ নির্বাচন বয়কট নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে:

@জিএলকার্লস্ট্রম: আমার মনে হয় #মিশরের রান অফ নির্বাচনে ভোট না দেয়া একটা বড়ো ফ্যাক্টর হবে।কল্পনা করছি, অনুৎসাহী ভোটারের সংখ্যা কত হবে?

@রাওয়াহবাদ্রাউয়ি: বয়কট করার যদি কোনো সময় থাকে, সেটা এখনই। মুরসিকে ভোট প্রদান হলো বিপ্লবের সাথে বিরোধে যাওয়ার করার একটা উপায়।

মিশরের দ্বিতীয় দফা নির্বাচন- কোনো বিকল্প আছে?

মিশরের দ্বিতীয় দফা নির্বাচন- কোনো বিকল্প আছে? কার্টুন একেঁছেন কার্লোস ল্যাতুফ।

ইতিমধ্যে ‘অনৈতিক’ এবং ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে অনেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে ভোট বয়কটের। অনেকে অবশ্য মনে করছে এটা বড় ধরনের একটা ভুল হবে। কারণ, নীরব ভোট মুরসির ঘরে জমা পড়বে।

এছাড়াও আরেকটা প্রশ্ন উঠে এসেছে, মিশরের কপটিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কতসংখ্যক ভোট আহমেদ শফিক পাবেন। যদিও কপটিক খ্রিস্টান চার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেয় নি। মুসলিম ব্রাদারহুড প্রার্থীর প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনেক মানুষই ভয়ে আছেন। অনেক মানুষই বিশ্বাস করেন, একটি ভুল মন্তব্যের কারণে খ্রিস্টান ভোট শফিককে অনেক এগিয়ে দেবে।

মুসলিম ব্রাদারহুডের সাবেক সদস্য এবং নির্বাচনে চতুর্থ স্থান প্রার্থী আবুল ফাত্তাহ মুরসিকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছেন। তাকে জোট গড়তে পরামর্শ দেয়া হবে। সম্প্রতি অনেকেই সংশোধিত রাজনৈতিক অধিকার আইন (অ্যান্টি ফেলুল আইন) চালু করতে বলছেন। এটা শফিকের জন্য নির্বাচনের পথ বন্ধ করে দিবে:

@আমানি৯০: প্রত্যেক মিশরীয় আইনজীবীর উচিত এক হয়ে বিচ্ছিন্নকরণ আইন (আইসোলেশন ল) অথবা দূর্নীতি মামলায় শফিককে বের করে দেয়া। যান, কাজে নেমে পড়ুন।

@এমফাত্তা৭: প্রার্থী তালিকায় শফিকের উপস্থিতি আইনগতভাবেই বিতর্কিত। রানঅফ নির্বাচনের আগেই আদালতের মাধ্যমে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।

@এমফাত্তা৭: সাংবিধানিক আদালতের সকল ক্ষমতা এসসিএএফ (সেনাবাহিনী) এর হাতে। নির্বাচন থেকে শফিককে সরানোর চাবি তাদের হাতেই।

বর্তমানে ভীতি ও শঙ্কার মধ্যে অনেক দ্বিধা নিয়ে তারা তাদের ভবিষ্যতের বাজে দৃশ্যপটের কথা ভাবছে। তবে অন্যরা বিপ্লবের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের নাম রাখতে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। এবং এই নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল সত্ত্বেও বলা যায় না বিপ্লব শেষ হয়ে গেছে: শতকরা হিসেবে দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ ভোটার মুসলিম ব্রাদারহুডকে ভোট দেন নি। এবং ৬০ শতাংশ সাবেক স্বৈরশাসকের শাসনকাল ফিরে আসার ঘোর বিরোধী।

এই পোস্টটি মিশর নির্বাচন ২০১১/২০১২ এর আমাদের বিশেষ কভারেজের অংশ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .