বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সিরিয়াঃ বিশ্বের যে সমস্ত শহর বাসারের বিপক্ষে এবং পক্ষে শোভাযাত্রা বের করেছে

এই পোস্টটি সিরিয়া বিক্ষোভ ২০১০ সম্বন্ধে আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

যখন সিরিয়ায় ক্রমশ মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাসারের প্রতি ধৈর্য্য হারা হচ্ছে এবং তার প্রতি কঠোর হচ্ছে। পরিবর্তন এবং সংস্কারের দাবীতে তারা আল আসাদের প্রতি কঠোর হচ্ছে।
মার্চ-২০১১ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে প্রবাসীরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় সকল শহরে এই ধরনের র‍্যালি এবং বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বিক্ষোভের মধ্যে কোন কোন র‍্যালিত আসাদকে ক্ষমতা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে এবং আবার অন্য সমাবেশে তার প্রতি আমৃত্যু ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়েছে।

সানফান্সকিসো (১১ জুন,২০১১) এবং শিকাগো (জুলাই ৩), আর ওয়াশিংটন ডিসিতে (২৩ জুলাই) জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, এই শহর যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী, সেখানে বিক্ষভকারীরা হোয়াইট হাউসের সামনে স্লোগান দিয়েছে: ‘‘ বাসার তুমি ক্ষমতা ছাড়”; যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সকল বড় বড় শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শীত হয়েছে। এ সব বিক্ষোভে জনতা, সিরিয়ার অন্য সব শহরের সাথে দার’আ, হোমস এবং দেইর এল জোর শহরের নাগরিকদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

এখানে একটা ভিডিও রয়েছে যা ৬ আগস্টে আহমেদইবনেআলশাম আপলোড করেছে। এই ভিডিতে দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা হাফেজ আল আসাদ এবং বাশার আল আসাদের ছবি সম্বলিত পোস্টার বহন করে এবং সেখানে লেখা ছিল, “যেমন পিতা, তেমন পুত্র”:

যুক্তরাষ্ট্রেও আসাদের সমর্থক রয়ছে, যেমন ক্যালিফোর্নিয়া (৩ এপ্রিল) তার সমর্থকরা র‍্যালি বা শোভাযাত্রা বের করে। এ ছাড়া শিকাগোতেও তার সমর্থনে জনতা সমবেত হয়েছিল, সেখানে ৩ এপ্রিল এক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ১০ জুন তারিখে সিরিয় শাসক সমর্থক গোষ্ঠী নিউ ইয়র্কে (১ মে) জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়, তাদের নেতার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করার জন্য।

ল্যাটিন আমেরিকাতেও যথারীতি র‍্যালির ঢেউ এসে লেগেছে। ২৬ জুনে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে একদল সিরীয় নাগরিক স্লোগান দেয় এল পুয়েবেলো কুয়েরা বাসার এল আসাদ “জনতা বাসারকে চায়’। যেমনটা আমরা জাইজুনি-এর এই ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি।

আসুন এবার আমারা ইউরোপে প্রবেশ করি এবং লন্ডন থেকে (১৮ জুন) যাত্রা শুরু করি। যেখানে বসবাসরত সিরীয় নাগরিকরা বাসারকে খুনি হিসেবে অভিহিত করে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান দপ্তর to ব্রাসেলস (২৩ জুলাই ), ইতালীর মিলান (১২ এবং ১৭ জুলাই)-এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এর ফলে, দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা, দৃশ্যত মনে হচ্ছে এখন আর কেবল সংস্কার বা শাসককে উৎখাত করে সন্তুষ্ট থাকতে চাইছে না, তারা এখন এই শাসককে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়।

এখানে হাজেম দাউদির একটি ভিডিও রয়েছে, যা ৬ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ধারণ করা । এটি ইউরোপের জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভকে তুলে ধরে:

http://www.youtube.com/watch?v=cSi0hnR4P5c&feature=channel_video_title

ফ্রান্স হচ্ছে এক বিশাল সিরীয় জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল, তার এখানে ক্রমাগত বিক্ষোভ করে যাচ্ছে। যেমন স্ত্রাসবুর্গে এবং ১৬ জুলাই, বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় এবং এই দুই সপ্তাহের অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে যে বিক্ষোভ, সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্যারিসের পেলেস দু শঁতালে-এর সামনে। ইউটিউব ব্যবহারকারী মেসুদহ৭৫, এই ভিডিটি পোস্ট করেছেন, যেটি প্রদর্শন করেছে প্যারিসে সিরীয় কনস্যুলেট এবং সংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে একদল শান্তিপুর্ণ বিক্ষোভাকারী বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে:

জার্মানীতে, জনতা (৭ জুলিয়া তারিখে) লিপজিগের রাস্তায় নেমে আসে, (২৩ জুলাই-এ) বা র্লিন এবং বন-এ ৬ আগস্ট এবং ৮ আগস্ট রাস্তায়, নেমে এসেছিল। এর মাঝে মিউনিখের কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়, যেখানে একই তারিখে লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এই ভিডিওটি মিউনিখে তোলা এবং এটি ধারণ করেছেহুত্তাফাএলহুরিয়াচ। এই ভিডিওটি প্রদর্শন করেছে জার্মানরা বিক্ষোভকারীরা সিরীয় নাগরিকদের সাথে একাত্মতা প্রদর্শন করছে এবং সিরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত গাইছে:

মিউনিখের কাছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা, এখানেও একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে এবং এটি পোস্ট করেছে আহমাদসোউরি। এটি ৯ আগস্ট সিরীয় দুতাবাসের সমানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় ধারণ করা হয়:

http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=u5sEIwtAJqU#at=31

এছাড়াও ইউক্রেনে (২২ এপ্রিল) রোমানিয়ায় (৩০ জুন), রাশিয়ায়Russia (৩১ জুলাই) এবং গ্রীসে (২ আগস্ট), বাসার বিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, এই বিক্ষোভে ফ্যাসিবাদ খতম করার আহ্বান জানানো হয়ঃ

তুরস্কে বিক্ষোভকারীরা ৫ আগস্ট ইস্তাম্বুলে ইরানী দূতাবাসের সামনে জড়ো হয় । সেখানে সিরীয় বিক্ষোভকারীদের প্রতি ইরান সরকারে যে মনোভাব, তার নিন্দা জানানো। তারা আবার ৭ আগস্টে বিক্ষোভে ফেলিসিটি বা সাদাত পার্টির সাথে সিরীয় কনস্যুলেট এর সামনে এক বিক্ষোভে যোগ দেয়, যা আমরা এই ভিডিওতে দেখতে পাচ্ছি। এট খালেদ১১১ এইচ-এর ধারণ করা ভিডিও:

কিন্তু আসাদ ইউরোপে বাস করা তার সমর্থকদের উপর নির্ভর করতে পারে, যে কিনা বিশ্বাস করে, সে হচ্ছে একমাত্র ব্যক্তি যে সিরিয়ার স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাস্তায় বেশ কিছু বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, এগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১জুন এবং , ১১ এবং১২ জুলাই।

ইউক্রেনের ওডেসায় প্রবাসী সিরীয় নাগরিকরা ৪ জুনে আসাদের সমর্থনে সিরীয় পতাকা এবং বেলুন উড়িয়েছিল, অন্যরা বেশ কিছু কারণে রাশিয়ার শহরকাজান সিটিতে ৬ জুনে সমাবেশ করেছে।

আর্মেনিয়া বাস করা সিরীয় নাগরিকরা তাদের রাষ্ট্রপতির সমর্থনে মার্চ ২০১১-এ এক সমাবেশ করে:

http://www.youtube.com/watch?v=Z_i3rruF18I&feature=related

আরব বিশ্বে এ রকম বিপর্যয় আর আস্থিরতা এবং আভ্যন্তরীণ এক বিপ্লবের মাঝেও, দেশগুলোর রাজধানী সমূহে জনতা সিরিয়ার নাগরিকদের সাথে একাত্মতা এবং সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে উৎসুক।

এটা ৬ আগস্টে তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিস-এ অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের ভিডিও, এটি ধারণ করেছেন ওয়াদুদফ্রিসিরিয়ান। এখানে দেখা যাচ্ছে জনতা স্লোগান দিচ্ছে “সিরিয়া এখন মুক্ত! বাসার চলে যাও!”:

১ আগস্টে মিশরের ওমাইয়া টিভি একদল ক্ষুব্ধ মানুষের দৃশ্য প্রদর্শন করে, যারা হামা শহরে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের পর সিরীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করার দাবী জানাচ্ছিল:

http://www.youtube.com/watch?v=B8EDEOpiFlE

লেবানন-এ, দুটি দেশের জটিল সম্পর্কের কারণে পরিস্থিতি খানিকটা নাজুক। এই দেশে প্রায়শ, সিরীয়া-পন্থি এবং সিরিয়া বিরোধীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং তখন উভয় পক্ষকে আলাদা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। সিরিয়ার নাগরিকদের প্রতি একত্মতা প্রদর্শন করে সোমবার, ৮ আগস্টে বৈরুতের মারটিয়ার স্কোয়ার (শহীদ সড়কে)-এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়

এই বিক্ষোভে অনেক বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, এবং একটিভিস্ট অংশ নেয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল লেবাননের বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক এবং গায়ক মার্সেল খালিফ। ফেসবুকে এই বিক্ষোভের উপর তোলা মোহামউদ ঘাজায়েল-এর ছবি দেখতে পাবেন।

এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করা নাগরিকরা বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছল “ এটা লেবানন থেকে প্রদান করা এক আওয়াজ – আমরা মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি”:

জর্ডানের নাগরিকরা এর প্রতিবাদে ২ আগস্ট সিরীয় দূতাবাসের সামনে রমজানের তারবীর নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সরাসরি এই দৃশ্য ধারণ করেছে বাসেমআগাদ। এছাড়া বাসেম
৮ আগস্ট-এর ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করেছিল।

রাজতন্ত্র রয়েছে এমন কিছু আরব রাষ্ট্রে একই ধরনের র‍্যালি প্রদর্শীত হয়েছে, যেমন সৌদি আরবের জেদ্দায় ৮ আগস্টে এক বিক্ষোভ প্রদর্শীত হয়। সেখানে জনতা স্লোগান প্রদান করে, সিরীয়া আমাদের জন্য, আসাদ পরিবারে জন্য নয়।

হামা ১৯৮২২০১১ একটি ভিডিও প্রদর্শন করেছে, যা একই দিনে জেদ্দার রাতের দৃশ্য তুলে ধরছে:

কুয়েতে, ( এবং ৭ আগস্ট বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয় ) এবং বাহরাইনে ( , এবং ৯ আগস্টে বিক্ষোভ প্রদর্শীত হয়, উভয় রাষ্ট্রে বিক্ষোভকারীরা সিরিয়ার রাষ্ট্রদুতের বহিষ্কার এবং দামেস্কের সাথে যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে তা স্থগিত করার দাবী জানায়। উভয় দেশের বিক্ষোভে বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংসদ সদস্য অংশ নেয়।

দাররাহারোন এর ভিডিওটি প্রদর্শন করছে যে কুয়েতে জনতা সিরীয় দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে তারা সিরিয়ার ক্ষমতাসীন বাথ পার্টিকে ক্ষমতা ত্যাগ করার আহ্বান জানায়।

৯ আগস্টে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় সিরীয় এবং বাহরাইনের নাগরিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং তারা স্লোগান দেয়,“দারা, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আমরা তোমার সাথে আছি !”

অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এর ঘটনাবলী দিয়ে আমরা আমাদের এই আলোচনার সমাপ্তি টানছি। দেখা যাচ্ছে এখানে আসাদ বিরোধী এবং তার সমর্থকরা, তার বিরুদ্ধে এবং তার পক্ষে আওয়াজ তুলেছে।

৩০ জুলাই-এ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড শহরে প্রায় ২০০ জন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে সিরিয়ার নিরীহ মানুষ হত্যার জন্য শাসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

২ আগস্টে, অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে শাসকদের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভ প্রদর্শীত হয়:

৩ এপ্রিল সিডনী শহরে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, এতে সমাবেশকারীরা আওয়াজ তুলে, বাসার হচ্ছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সেরা রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্বে এমন কেউ নেই যে তাকে পছন্দ করে না”।

আগামীকাল (১৩ আগস্ট) সিরিয়ার শাসকদের বিরুদ্ধে লন্ডন, প্যারিস এবং তিউনিশিয়ায় বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে।

এই পোস্টটি সিরিয়া বিক্ষোভ ২০১০ সম্বন্ধে আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

বার্লিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে সিরিয়ার বিরোধী দলের প্রতি সমর্থনকারীদের বিক্ষোভের থাম্বনেইল এবং ফিচার ছবি থর্স্টেন স্ত্রাস/a>-এর, কপিরাইট ডেমোটিক্সের (০৬/০৮/১১)।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .