বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

লিবিয়া: নাগরিকরা রণাঙ্গন থেকে সংবাদ প্রদান করছে।

এই পোস্টটি লিবিয়া গণজাগরণ ২০১১ সম্বন্ধে আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ
যুদ্ধ বিধ্বস্ত লিবিয়ার ভেতর থেকে একে একে ভিডিও প্রকাশ হচ্ছে, যেখানে প্রতিবাদকারীরা কর্ণেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির সেনাদের সঙ্গে লড়ছে, তার ৪২ বছরের শাসনের অবসানের লক্ষ্যে। এখানে নেট নাগরিকদের (নেটিজেনদের) তোলা সাম্প্রতিক কিছু ভিডিও রয়েছে, যেগুলো লিবিয়ার প্রধান প্রধান শহরের যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে লিবিয়ার জন্য এখনো যুদ্ধ চলছে।

আজদাবাইয়া নামক শহরটি বেনগাজি থেকে ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত, যা মার্চের মাঝামাঝি সময়ে গাদ্দাফির সেনারা দখল করে নেয়। এই শহরের ১৩০,০০০ জন বাসিন্দাদের অনেকে পালিয়ে যায়, পেছনে রেখে যায় এক ভূতড়ে শহর। অবশিষ্ট সামান্য কয়েকজন বাসিন্দা যারা এই শহরে রয়ে গেছে তারা কঠোর দখলদারিত্ব এবং প্রতিদিনের বোমাবাজির মধ্যে পড়ে রয়েছে। এখন এটি এমন এক শহর যেখানে পানি এবং বিদ্যুৎ-এর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যখন ক্যামেরাম্যান একজন তরুণকে জিজ্ঞেস করে, কি ভাবে সে এখানে টিকে আছে? সে উত্তর দেয়, আমরা এক আতঙ্কের রাজ্যে বাস করছি। এই সময় সে তার হাত তুলে, দুই আঙ্গুল দিয়ে বিজয়ের চিহ্ন প্রদর্শন করে। (ভিডিও পোস্ট করেছে বেনগাজি১৭ফেব)

শনিবারে সকালের শুরুতে গাদ্দাফির সেনাদের সাথে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষের পর গণতন্ত্র-পন্থী যোদ্ধারা আবার শহরটিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। লিবিয়ার আকাশ “বিমান উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা এলাকা’ ঘোষনার পর, এটি সেখানকার বিরোধীদের বড় আকারের এক সাফল্য এনে দিল।

এজেড জিনতান, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত এক শহর, এখানে এখন এক যুদ্ধ চলছে। গণতন্ত্রপন্থী যোদ্ধাদের এই শহর থেকে বের করে দেবার জন্য গাদ্দাফির সেনারা দিনের পর দিন এই শহরে বোমা বর্ষণ করে যাচ্ছে। নীচের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এই লড়াইরত শহরটির বিশেষ জায়গায় বিদ্রোহীরা, গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের বিরুদ্ধে জয়ের দাবি করছে (ভিডিও পোস্ট করেছে জিনতান২০১১)

মিসুরাতা হচ্ছে লিবিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর। ফ্রেব্রুয়ারি মাসে গণতন্ত্রী-পন্থীরা এই শহরটি দখল করে নেয়, ফলে এই শহর দ্রুত গাদ্দাফি-পন্থী সেনাদের পাল্টা হামলার শিকার হয়। সংবাদে জানা গেছে যে, শাসক গাদ্দাফি এই শহরের সমুদ্র বন্দরে যুদ্ধ জাহাজ পাঠায়, যেখান থেকে প্রচণ্ড বোমা বর্ষণ করে এবং মার্চের মাঝামাঝি সময়ে শহরে প্রবেশ করতে সমর্থ হয়। মিসুরাতার পরিস্থিতি কি, তা এখনো পরিষ্কার নয়। গাদ্দাফির অনুগত সেনারা ক্রমাগত শহরটিতে বোমা বর্ষণ করে যাচ্ছে, যদিও যৌথ বাহিনীর বিমান অর্ন্তবর্তীকালীন বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছে। নীচের ভিডিওটি সংঘর্ষের দৃশ্য প্রদর্শন করছে, এই শহরটি যার মুখোমুখি হয়েছে: এখানে একটি মিনারকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। যতক্ষণ না সেটি ধ্বংস হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এটিকে বারবার নানাবিধ অস্র দিয়ে আঘাত করা হয়।(ভিডিওটি পোস্ট করেছে ইবনোমার২০০৫):

এছাড়াও মিসুরাতা থেকে, এই ভিডিটিও পাওয়া গেছে। এখানে দাবি করা হচ্ছে যে দুর থেকে গুলি ছোড়ার জন্য ছাদে গাদ্দাফির যোদ্ধারা অবস্থান গ্রহণ করেছে। দাবির সাপেক্ষে এই ভিডিওটি প্রদর্শন করা হয় (ভিডিওটি পোস্ট করেছে দিলিবিয়াফ্রিডম):

বেনঘাজির পূর্ব এলাকায় গণতন্ত্রপন্থী যোদ্ধাদের অবস্থান শক্তিশালী, যারা ১৭ ফ্রেব্রুয়ারির গণজাগরণের শুরুতেই এই এলাকা দখল কর ফেলে। মার্চের ১৮ তারিখে, গাদ্দাফির সেনাদল আবার এই শহরটি দখল করার চেষ্টা করে, যা বিরোধী শক্তির বাঁধার মুখে প্রতিহত হয়, কিন্তু লিবিয়ার নেতার অনুগত আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাতের বেলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকরা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে, কেন্দ্রীয় এলাকা পাহার দিচ্ছে এবং হামলা প্রতিরোধ করছে, যেমনটা নীচের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে।(ভিডিওটি পোস্ট করেছে আলভিয়েনলিবিয়া):

এই গণ জাগরনের শুরু থেকে ত্রিপোলি শাসকদের এক শক্তিশালী ঘাঁটি হয়ে আছে। রাষ্ট্র পরিচালিত টেলিভিশন এই শহরটিকে গাদ্দাফির পুরো অনুগত এক শহর হিসেবে চিত্রিত করতে চায়। তবে নীচের এই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, সেখানকার এই বিক্ষোভকারীরা নিজেদের পরিষ্কার ভাবে রাজধানী শহরের বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তারা লিবীয় নেতার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক স্লোগান দিচ্ছিল, দৃশ্যত মনে হচ্ছে সে সময় তাদের লক্ষ্য করে বন্দুকের গুলি ছোড়া হচ্ছিল। স্লোগান প্রদানকারীদের একজন বলেন, “তারা আকাশের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে না”। এদিকে আরেকজন বিক্ষোভকারী ক্যামেরাম্যানকে ভিডিও ধারণ করার ঘটনাটি চালিয়ে যেতে বলে। এখানে শোনা যাবে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছে, আল্লাহ ব্যতিত কোন উপাস্য নাই, গাদ্দাফি স্রষ্টার শত্রু.. ত্রিপোলির জনতা কোথায়” (ভিডিও পোস্ট করেছ কোয়াতাচিকানাডা)

২৯ মার্চের তাজা সংবাদ: এই ভিডিওটি আর এখানে নেই, ইউটিউবের এক লেখায় জানানো হচ্ছে, ব্যবহারকারী এই ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেছে।

এই পোস্টটি লিবিয়া গণজাগরণ ২০১১ সম্বন্ধে আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .